শিলিগুড়ি, ২৩ ফেব্রুয়ারি – গ্রেটার শিলিগুড়ি হোটেলিয়ার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (জিএসএইচডব্লিউএ) সোমবার একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানায় যে, পূর্বে বাংলাদেশি পর্যটক ও দর্শনার্থীদের ওপর আরোপিত হোটেল বুকিং নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি অঞ্চলের সদস্য হোটেলগুলোতে বাংলাদেশি নাগরিকদের কক্ষ সংরক্ষণ করা যাবে।
অ্যাসোসিয়েশন উল্লেখ করে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর নেওয়া হয়। একই দিনে তরেক রহমান নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শাসন শেষ হয়। এই রাজনৈতিক পরিবর্তনকে প্রেক্ষাপট করে, জিএসএইচডব্লিউএ সদস্য হোটেল মালিকদের মধ্যে ভোটের মাধ্যমে অধিকাংশের সমর্থন পেয়ে নিষেধাজ্ঞা বাতিল করা হয়।
বৈশ্বিক পর্যটন শিল্পে নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত-চীন সীমান্তে উত্তেজনা, পাকিস্তান ও নেপালের সঙ্গে কূটনৈতিক বিরোধের ফলে কিছু দেশীয় পর্যটন গন্তব্যে বিদেশি নাগরিকের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপের উদাহরণ দেখা গেছে। শিলিগুড়িতে বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পেছনে মূলত নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তিক্ততা উল্লেখ করা হয়।
একজন কূটনৈতিক বিশ্লেষক উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশ সরকার এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস পুনর্গঠন করা জরুরি, বিশেষ করে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পর্যটন শিল্পের স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে।” তিনি আরও বলেন, “শিলিগুড়ি অঞ্চলে বাংলাদেশি পর্যটকদের স্বাগত জানানো কেবল অর্থনৈতিক স্বার্থ নয়, বরং দুই দেশের মানুষিক সংযোগকে শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”
অ্যাসোসিয়েশন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার সত্ত্বেও ভারতের নিরাপত্তা ও মর্যাদাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে বলে জোর দেয়। ভবিষ্যতে কোনো উসকানিমূলক বা অসম্মানজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে। এই সতর্কতা আন্তর্জাতিক পর্যটন নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে দেশীয় নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি বৈদেশিক পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা হয়।
শিলিগুড়ি হোটেল শিল্পের প্রতিনিধিরা জানান, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ফলে হোটেল দখল বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। হোটেল মালিকদের মতে, বাংলাদেশি পর্যটকরা সাধারণত দীর্ঘমেয়াদী ভ্রমণ পরিকল্পনা করেন এবং তাদের উপস্থিতি হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও স্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের আয় বাড়াবে।
অঞ্চলীয় কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, এই পদক্ষেপটি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সাম্প্রতিক উত্তেজনা কমাতে সহায়ক হতে পারে। দুই দেশের বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বৃদ্ধি পেতে পারে, বিশেষ করে শিলিগুড়ি-ঢাকা রেলওয়ে সংযোগের মতো অবকাঠামো প্রকল্পের মাধ্যমে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দেন, যদি উভয় পক্ষের নিরাপত্তা উদ্বেগ সমাধান করা যায়, তবে ভবিষ্যতে আরও বেশি পর্যটন প্যাকেজ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় প্রোগ্রাম চালু হতে পারে।
বৈশ্বিক পর্যটন সংস্থার মতে, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সীমান্ত পারাপার সহজতর করা এবং ভ্রমণকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পর্যটন প্রবাহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ। শিলিগুড়িতে বাংলাদেশি পর্যটকদের পুনরায় স্বাগত জানানো এই দৃষ্টিভঙ্গির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং অঞ্চলীয় পর্যটন নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করবে।
সারসংক্ষেপে, জিএসএইচডব্লিউএ’র ঘোষণার মাধ্যমে শিলিগুড়ি হোটেলগুলোতে বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য বুকিং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে, যা ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর নেওয়া কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের ফল। যদিও নিরাপত্তা ও মর্যাদার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, তবে ভবিষ্যতে কোনো উসকানিমূলক ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে। এই পরিবর্তন দুই দেশের মধ্যে পর্যটন ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের পুনরুজ্জীবন ঘটাতে পারে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।



