মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্যায়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শিমরন হেটমায়ার ১৯ বলের মধ্যে ফিফটি তৈরি করে দলকে ১০০ রানের সীমা অতিক্রমে সহায়তা করেন। জিম্বাবুয়ের সঙ্গে এই ম্যাচে দুই দলই অপরাজিত অবস্থায় প্রবেশ করেছে।
হেটমায়ার সপ্তম ওভারে ক্রেমোনার বলের ওপর দুইটি ছক্কা মারার পর অষ্টম ওভারে রাজার বলের ওপর অতিরিক্ত তিনটি ছক্কা যোগ করেন, ফলে তিনি দ্রুত অর্ধশতক পূরণ করেন। এই পারফরম্যান্স টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্রুততম ফিফটি হিসেবে রেকর্ড হয়।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরুর ছয় ওভারে স্কোর ৫৫ রান দুই উইকেটের সঙ্গে স্থিতিশীল ছিল, যা পাওয়ার প্লে জয় নিশ্চিত করেছিল। ক্যাপ্টেন শাই হোপ ১২ বলের মধ্যে ১৪ রান যোগ করেন এবং ব্রায়ান বেনেটের চমৎকার ক্যাচে ব্রাড ইভান্সের বলের ওপর ফিরে এসে দলকে সমর্থন করেন।
শাই হোপের আক্রমণাত্মক খেলা দলের মোট স্কোরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যদিও তিনি ব্যাটিংয়ে বেশি সময় কাটাননি। তার দ্রুত রান সংগ্রহ ও ক্যাচের মাধ্যমে শীর্ষ স্তরের ফিল্ডিং দলকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।
জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং শুরুতে ব্রেন্ডন কিং ৩ ওভারে ২২ রান এক উইকেটের সঙ্গে দ্রুত গতি দেখিয়েছিলেন। তবে তৃতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলেই তিনি রিচার্ড এনগারাভার ক্যাচে আউট হন, যখন তিনি বড় শট খেলতে চেয়েছিলেন।
কিংয়ের চতুর্থ বলেও তিনি বড় শটের ইচ্ছা প্রকাশ করেন, তবে ডিপ স্কোয়ার লেগে তাশিঙ্গা মুসেকিওয়ার ক্যাচে আউট হন। এই ধরা শট জিম্বাবুয়ের জন্য বড় ক্ষতি স্বরূপ হয়।
শিমরন হেটমায়ার পরের ওভারে কিংকে আউট করার পর, মুজারাবানির বলের ওপর সহজ ক্যাচ মুসেকিওয়াই ছেড়ে দেন, যা আবারও জিম্বাবুয়ের ব্যাটিংকে বাধাগ্রস্ত করে। এই মুহূর্তগুলোতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফিল্ডিং পারফরম্যান্স উজ্জ্বল ছিল।
গ্রুপ পর্যায়ে জিম্বাবুয়ে সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলেছে, আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভারতে, বিশেষ করে মুম্বাইয়ের শর্তে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড়রা স্থানীয় পিচের গতি ও বাউন্স সম্পর্কে পূর্ব ধারণা রাখে।
মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে জিম্বাবুয়ের জন্য এটি প্রথম টি-টুয়েন্টি ম্যাচ, যা দলকে নতুন পরিবেশে খেলার সুযোগ দেয়। স্টেডিয়ামের বড় ভিড় ও উষ্ণ আবহাওয়া উভয় দলের কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে।
টসের সিদ্ধান্তে জিম্বাবুয়ের ক্যাপ্টেন সিকান্দার রাজা ফিল্ডিং বেছে নেন, এবং তিনি জানান যদি টস জিততেন তবে শাই হোপ বোলিং হ্যান্ডেল করতেন। টস জিতলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং পরিকল্পনা পরিবর্তিত হতে পারত।
দুই দলই এই পর্যায়ে অপরাজিত, তবে জিম্বাবুয়ে পূর্বে অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কা পরাজিত করেছে, আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইংল্যান্ডের হাতে হেরেছে। এই রেকর্ডগুলো দলকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।
সুপার এইট পর্যায়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ের পরবর্তী ম্যাচের জন্য উভয় দলের প্রস্তুতি তীব্র, এবং এই ম্যাচের ফলাফল পরবর্তী সেমিফাইনাল স্লট নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



