ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস ২৬ জানুয়ারি একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে, যেখানে নির্বাহী ও জ্যেষ্ঠ নির্বাহী পদে শুধুমাত্র মুসলিম পুরুষদের আবেদন স্বাগত জানানো হয়েছে। এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরই আইনজীবী অনামিকা নাহরিন উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করেন, দাবি করেন যে বিজ্ঞপ্তিটি ধর্ম ও লিঙ্গের ভিত্তিতে বৈষম্য করে।
রিটের বিষয়বস্তু ছিল নিয়োগ নীতিতে সমতা নিশ্চিত করা, বিশেষ করে ধর্মীয় ও লিঙ্গ বৈষম্য না করা। আবেদনকারীরা ও মানবাধিকার সংস্থা এই বিজ্ঞপ্তিকে সংবিধানিক নীতির লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করে, ফলে আদালতে বিষয়টি ত্বরান্বিত হয়।
উচ্চ আদালতে ২৩ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের দ্বৈত বেঞ্চ রিটের শুনানির পর রুল জারি করে। রুলে বলা হয়েছে, ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের বিজ্ঞপ্তিতে ধর্ম ও লিঙ্গের ভিত্তিতে আবেদন সীমাবদ্ধ করা বৈষম্যহীন নিয়োগ নীতি লঙ্ঘন করে না।
বেঞ্চের রুলে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি ও বেসরকারি সকল কর্মস্থলে সমতা ভিত্তিক নিয়োগ নীতি গড়ে তোলা ও বাস্তবায়নের জন্য স্পষ্ট আদেশের প্রয়োজন কেন না, তা স্পষ্ট করা দরকার। এই প্রশ্নের উত্তর রুলে চাওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে রুলটি নির্দেশ করে যে, নির্দিষ্ট ধর্ম ও লিঙ্গের জন্য চাকরি সীমাবদ্ধ করা বাংলাদেশের বর্তমান শ্রম আইনের অধীনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবৈধ নয়, যদি তা নির্দিষ্ট কাজের প্রকৃতি বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত যুক্তি দিয়ে সমর্থিত হয়। তবে রুলে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই ধরনের সীমাবদ্ধতা স্বচ্ছভাবে ন্যায়সঙ্গত হতে হবে।
ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের জন্য রুলের তাৎপর্য বড়। কোম্পানির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সীমাবদ্ধতা বজায় রাখলে সম্ভাব্য প্রার্থীর সংখ্যা হ্রাস পাবে, যা দক্ষতা ও বৈচিত্র্যের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে, সীমাবদ্ধতা বজায় রাখলে কোম্পানির ব্র্যান্ড ইমেজে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠতে পারে।
বাজারে এই রুলের প্রভাব ধীরে ধীরে প্রকাশ পাবে। ফার্মাসিউটিক্যালস সেক্টরে মানবসম্পদ সংকট ইতিমধ্যে বিদ্যমান, তাই প্রার্থীর পুল সংকুচিত হলে উৎপাদন ও গবেষণা কার্যক্রমে বিলম্বের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিনিয়োগকারী ও অংশীদাররা কোম্পানির মানবসম্পদ নীতি পর্যবেক্ষণ করবে।
অন্যদিকে, রুলটি অন্যান্য শিল্পের জন্যও রেফারেন্স পয়েন্ট হতে পারে। যদি উচ্চ আদালত স্পষ্ট করে দেয় যে ধর্ম ও লিঙ্গের ভিত্তিতে সীমাবদ্ধতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবৈধ নয়, তবে অন্যান্য সংস্থাগুলোও একই রকম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সম্ভাবনা বাড়তে পারে। ফলে শ্রম বাজারে বৈচিত্র্যের হ্রাস ও সামাজিক সমতা নিয়ে আলোচনা তীব্র হবে।
কোম্পানিগুলো এখন নিয়োগ নীতিতে স্বচ্ছতা বাড়াতে এবং ন্যায়সঙ্গত কারণ প্রদান করতে বাধ্য হবে। আইনগত চ্যালেঞ্জ এড়াতে তারা বৈধতা যাচাই করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে, এবং সম্ভাব্য আপিলের জন্য প্রস্তুতি নেবে। এই প্রক্রিয়া মানবসম্পদ ব্যয় বাড়াতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে আইনি ঝুঁকি কমবে।
উচ্চ আদালতের রুলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, ভবিষ্যতে সরকারি ও বেসরকারি সেক্টরে সমতা ভিত্তিক নিয়োগ নীতি গড়ে তোলার জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এটি নীতি নির্ধারকদের জন্য একটি প্রেরণা হতে পারে, যাতে তারা বৈষম্যহীন নিয়োগ কাঠামো তৈরি করে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, যদি নিয়োগে বৈচিত্র্য হ্রাস পায়, তবে উদ্ভাবন ও উৎপাদনশীলতা কমে যেতে পারে। বিশেষ করে ফার্মাসিউটিক্যালসের মতো উচ্চ প্রযুক্তি সেক্টরে বহুমুখী দৃষ্টিভঙ্গি গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোম্পানিগুলোকে বৈচিত্র্য বজায় রেখে দক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য নতুন কৌশল গড়ে তুলতে হবে।
সারসংক্ষেপে, উচ্চ আদালতের রুল ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের নির্দিষ্ট ধর্ম ও লিঙ্গ ভিত্তিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিকে বৈধতা প্রদান করেছে, তবে একই সঙ্গে সমতা ভিত্তিক নিয়োগ নীতি গড়ে তোলার জন্য স্পষ্ট আদেশের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। এই সিদ্ধান্ত ব্যবসা পরিবেশে নিয়োগ নীতি, মানবসম্পদ কৌশল এবং বাজারের বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে।



