মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে অনুষ্ঠিত টু-ইয়েটি সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৬ ওভারে ৫৫ রান করে দুই উইকেট হারিয়ে শক্তিশালী শুরুর সূচনা করল। শাই হোপের অধিনায়কত্বে দলটি পাওয়ার প্লে জয় করে, যেখানে শাই হোপ ১২ বলে ১৪ রান যোগ করেন। ব্রায়ান বেনেটের চমৎকার ক্যাচে ব্র্যাড ইভান্সের আউট হওয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের গতি আরও বাড়ে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের তৃতীয় ওভারে ২২ রান করে এক উইকেট নষ্ট হয়; ব্র্যান্ডন কিংকে রিচার্ড এনগারাভা তৃতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলেই আউট করেন। বড় শটের চেষ্টা করলেও কিংকে তাশিঙ্গা মুসেকিওয়া ডিপ স্কোয়ার লেগে ক্যাচ করে নেয়। কিং ১২ বলে মোট ৯ রান যোগ করে দল থেকে বিদায় নেয়।
পরবর্তী ওভারে শিমারন হেটমায়ারকে মুজারাবানির বলের সহজ ক্যাচ মুসেকিওয়া ফেলে দেয়, ফলে হেটমায়ার জীবনের সুযোগ পায়। এই মুহূর্তে জিম্বাবুয়ের শিকড় দৃঢ় হয় এবং তারা স্কোর বাড়াতে সক্ষম হয়।
জিম্বাবুয়ে গ্রুপ পর্যায়ের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলে, আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের গ্রুপ ম্যাচগুলো ভারতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইতিমধ্যে ওয়াংখেড়ে দুইটি ম্যাচ খেলেছে, ফলে মাঠের শর্ত সম্পর্কে তাদের ধারণা বেশি। জিম্বাবুয়ে এই ম্যাচে প্রথমবার টু-ইয়েটি ওয়াংখেড়ে খেলছে।
টসের সিদ্ধান্তে জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক সিকান্দার রাজা ফিল্ডিং বেছে নিলেন। টস জিতলে শাই হোপ বোলিং দায়িত্ব নিতেন, তবে টস জিতার পর তিনি বলার মাধ্যমে নিজের পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত ম্যাচের গতিপথকে প্রভাবিত করতে পারে।
সুপার এইটের লড়াইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ে উভয় দলই অপরাজিত অবস্থায় পৌঁছেছে। জিম্বাবুয়ে পূর্বে অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কার মতো শক্তিশালী দলকে পরাজিত করেছে, আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের একমাত্র পরাজয় ইংল্যান্ডের হাতে।
ম্যাচের প্রথম অর্ধে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং লাইনআপ দ্রুত রন সংগ্রহ করে, বিশেষ করে শাই হোপের দ্রুত স্কোরিং দলকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। ব্রায়ান বেনেটের ফিল্ডিং পারফরম্যান্সও উল্লেখযোগ্য, যা ব্র্যাড ইভান্সের আউট হওয়ায় দলকে সুবিধা দেয়।
জিম্বাবুয়ের ব্যাটিংয়ে শিমারন হেটমায়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন; মুসেকিওয়ার ফাঁকা ক্যাচ তাকে রানের সুযোগ দেয়। যদিও মুসেকিওয়া পরে সহজ ক্যাচ ফেলে দেয়, তবু হেটমায়ার তা কাজে লাগিয়ে স্কোর বাড়াতে সক্ষম হন।
দল দুটির কৌশলগত পছন্দ স্পষ্ট: ওয়েস্ট ইন্ডিজ শুরুর পাওয়ার প্লে জোরদার করে রন বাড়াতে চায়, আর জিম্বাবুয়ে টস জিতলে ফিল্ডিং দিয়ে প্রারম্ভিক চাপ তৈরি করতে চায়। উভয় দলের ক্যাপ্টেনের মন্তব্যে এই পরিকল্পনা স্পষ্ট হয়েছে।
ম্যাচের শেষ পর্যায়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর ৫৫/২ দিয়ে শেষ হয়, যা টস জিতলে ফিল্ডিংয়ে সুবিধা পেতে পারে। জিম্বাবুয়ে এখনও ব্যাটিংয়ে সুযোগ পেতে পারে, তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শক্তিশালী শুরুর পারফরম্যান্স তাদেরকে সুবিধা দেয়।
সুপার এইটের পরবর্তী রাউন্ডে উভয় দলই অপরাজিত রেকর্ড বজায় রাখবে কিনা তা নির্ধারণ হবে। জিম্বাবুয়ের পরবর্তী ম্যাচের সময়সূচি ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে নির্ধারিত, যা টুর্নামেন্টের শীর্ষে পৌঁছানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।
এই ম্যাচের ফলাফল টুর্নামেন্টের সামগ্রিক গতি পরিবর্তন করতে পারে, কারণ উভয় দলই এখন পর্যন্ত কোনো পরাজয় না পেয়ে এসেছে। ভক্তদের জন্য উত্তেজনা বাড়ছে, আর পরবর্তী ম্যাচে কোন দলই জয়ী হবে তা দেখার অপেক্ষা রয়ে গেছে।



