স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অস্ত্র লাইসেন্সের সমগ্র পর্যালোচনা শুরু করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে জানান। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য লাইসেন্সের বৈধতা ও প্রক্রিয়ার যথার্থতা যাচাই করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করা।
মন্ত্রীর মতে, লাইসেন্সধারীদের তালিকা, লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়া এবং তাদের উপযুক্ততা সবই আইন অনুসারে পুনরায় পরীক্ষা করা হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা শেষে তিনি এই বিষয়টি প্রকাশ করেন।
পর্যালোচনা প্রক্রিয়ায় লাইসেন্সের বৈধতা নিশ্চিত হলে তা বজায় রাখা হবে, আর প্রক্রিয়ায় ত্রুটি বা অবৈধ উদ্দেশ্যে লাইসেন্স প্রাপ্ত হলে তা বাতিল করা হবে। বাতিলকৃত লাইসেন্সের অধীনে থাকা অস্ত্রগুলো বাজেয়াপ্ত করা হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবারই এই বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে লাইসেন্সের সংখ্যা ও অস্ত্রের পরিসংখ্যান প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।
মন্ত্রীর সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানদের বৈঠকের সময় দপ্তরগুলোতে বিদ্যমান সমস্যাগুলি সম্পর্কে তথ্য শেয়ার করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিটি দপ্তরের প্রধানের সঙ্গে আলাদা আলাদা আলোচনা চালিয়ে বিষয়টি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হবে।
বর্তমান সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন এবং জনগণকে শান্তি-সুবিধা প্রদানকে তুলে ধরা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা জনগণের বন্ধু হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কয়েকটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল, তাতে ১০ হাজারের বেশি অস্ত্র জমা হয়নি বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর তথ্য। তিনি উল্লেখ করেন, এই অস্ত্রগুলো এখন অবৈধ অবস্থায় রয়েছে এবং সেগুলোর পুনরুদ্ধার ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অবৈধ হয়ে যাওয়া অস্ত্রের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সম্ভাবনা রয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় কতগুলো মামলা দায়ের হয়েছে তা পর্যালোচনা করে সেগুলোকে নিয়মিত প্রক্রিয়ায় রূপান্তর করা হবে।
পুলিশের বিভিন্ন স্তরে জনবলের অভাবের বিষয়টিও মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বর্তমানে ২,৭০১ জন পুলিশ কর্মী অনুপস্থিত রয়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।
মন্ত্রীর বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, লাইসেন্সের পুনরায় যাচাইয়ের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্রের বাজেয়াপ্তি এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর দ্রুত সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
সার্কুলার জারি, পরিসংখ্যান প্রস্তুতি এবং দপ্তর প্রধানদের সঙ্গে চলমান আলোচনা একসাথে সমন্বিতভাবে অগ্রসর হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করে দেশের নিরাপত্তা পরিবেশকে স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে কাজ করবে।



