ভারত এ এবং দক্ষিণ আফ্রিকা এ’র সুপার-ইট ম্যাচের আগে, ব্যাটিং কোচ সিতাংশু কোতক জানিয়েছেন যে সুর্যকুমার যাদব ও গৌতম গ্যাম্ভীর দুজনই অক্ষর প্যাটেলকে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছেন। দুজনের কথোপকথন দলের নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে করা হয়েছিল। কোচের মতে, এই যোগাযোগের উদ্দেশ্য প্যাটেলের মনোবলকে প্রভাবিত না করা ছিল।
ম্যাচটি আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় এবং দক্ষিণ আফ্রিকা এ দলটি ৭৬ রানের পার্থক্যে ভারত এ-কে পরাজিত করে। ফলাফলটি ভারত এ’র জন্য প্রত্যাশিত না হওয়া একটি বিপর্যয় হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। ম্যাচের শেষে দক্ষিণ আফ্রিকা এ দলটি জয় নিশ্চিত করে, আর ভারত এ’র ব্যাটিং পারফরম্যান্সে সমালোচনার সুর শোনা যায়।
কোচ সিতাংশু কোতক উল্লেখ করেন, “সুর্যকুমার ও গ্যাম্ভীর দুজনই অক্ষর প্যাটেলকে কথা বলেছেন, সেটা স্পষ্ট।” তিনি আরও যোগ করেন যে, প্যাটেলকে বাদ দেওয়া কোনো ব্যক্তিগত কারণের ভিত্তিতে নয়, বরং কৌশলগত প্রয়োজনের ওপর নির্ভরশীল। কোচের এই মন্তব্যে দলীয় সিদ্ধান্তের পেছনের যুক্তি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
নির্বাচন প্রক্রিয়ার মূল কারণ হিসেবে কোচ উল্লেখ করেন, “আমাদের তিনজন বামহাতি ব্যাটসম্যানের সামনে একটি অফ-স্পিনার দরকার ছিল।” তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, বামহাতি ব্যাটসম্যানের বিরুদ্ধে অফ-স্পিনার বেশি কার্যকর হতে পারে, তাই অফ-স্পিনার হিসেবে ওয়াশিংটন সানডারকে বেছে নেওয়া হয়। এই কৌশলগত পরিবর্তনটি ম্যাচের শুরুর সময়ে উইকেট নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে গৃহীত হয়।
অক্ষর প্যাটেলকে বাদ দিয়ে ওয়াশিংটন সানডারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সানডারকে মূলত অফ-স্পিনার হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, যাতে বামহাতি ব্যাটসম্যানদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক আউট নেওয়া যায়। কোচের মতে, সানডারকে পিক করা দলের ব্যাটিং গভীরতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে। তবে ম্যাচের সময় সানডার পাওয়ারপ্লে পর্যায়ে বল না দেওয়ায় কিছু প্রশ্ন উঠেছে।
কোচ স্বীকার করেন যে, “ওয়াশিংটন পাওয়ারপ্লে-এ বল না দিলেও আমরা পরিকল্পনা অনুযায়ী চলেছি।” তিনি উল্লেখ করেন যে, সানডারকে পাওয়ারপ্লে-এ ব্যবহার না করা মূলত ম্যাচের পরিস্থিতি এবং ব্যাটিং পার্টনারদের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভরশীল ছিল। যদিও পরিকল্পনা অনুযায়ী সানডারকে শুরুর ওভারে ব্যবহার করা হয়নি, তবু কোচের মতে এটি কৌশলগত সিদ্ধান্তের অংশ ছিল।
অক্ষর প্যাটেলের আত্মবিশ্বাসের ওপর প্রভাব না ফেলতে কোচের জোরালো মন্তব্য রয়েছে। তিনি বলেন, “অক্ষর প্যাটেলকে বাদ দেওয়া তার আত্মবিশ্বাসকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না।” কোচের এই আশ্বাস প্যাটেলকে দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে উৎসাহিত করে। প্যাটেলকে ব্যক্তিগতভাবে জানানো হয়েছে যে, তার অবদান দলের জন্য এখনও মূল্যবান।
ম্যাচের পর কোচের মন্তব্যে দলীয় মনোভাবের স্বচ্ছতা প্রকাশ পায়। তিনি উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনের সময় সব খেলোয়াড়ের সঙ্গে আলাপ করা হয়েছে এবং তাদের মতামত শোনা হয়েছে। এই পদ্ধতি দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়কে শক্তিশালী করে এবং ভবিষ্যৎ ম্যাচে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে।
দক্ষিণ আফ্রিকা এ’র জয় এবং ভারত এ’র পরাজয় পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতিতে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। কোচ সিতাংশু কোতক দলকে বলছেন, “আমরা পরবর্তী ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নেব এবং নির্বাচনের ভিত্তিতে দলকে সমন্বয় করব।” তিনি দলের কৌশল পুনর্বিবেচনা করার ইঙ্গিত দেন, যাতে বামহাতি ব্যাটসম্যানের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর অফ-স্পিনার ব্যবহার করা যায়।
সারসংক্ষেপে, সুর্যকুমার যাদব ও গৌতম গ্যাম্ভীর অক্ষর প্যাটেলকে ব্যক্তিগতভাবে জানানো নির্বাচনের পেছনের মূল কারণ ছিল কৌশলগত পরিবর্তন। ওয়াশিংটন সানডারকে অফ-স্পিনার হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল, যদিও তিনি পাওয়ারপ্লে-এ বল না দিলেন। কোচের মতে, এই সিদ্ধান্ত প্যাটেলের আত্মবিশ্বাসকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না এবং দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সের জন্য উপকারী হবে। ভবিষ্যৎ ম্যাচে এই কৌশলগত পরিবর্তনগুলো কীভাবে প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে।



