তাদের রহমান সরকার ১৮ ফেব্রুয়ারি গৃহীত দপ্তরে শাসনকালে, মন্ত্রিসভা ও সচিবদের অফিস সময় মানার ওপর কঠোর নজরদারি শুরু করেন। দপ্তরে প্রথম দিনই তিনি লক্ষ্য করেন কিছু মন্ত্রী দেরিতে আসছেন। পরের দিন তিনি সকল মন্ত্রণালয়ের উপস্থিতি রেকর্ড চেক করেন এবং জানেন যে বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও রাষ্ট্রমন্ত্রীর অফিস সময়ে উপস্থিতি নেই।
তৃতীয় দিন তিনি নিজে করে জিজ্ঞাসা করেন কোন কর্মকর্তারা এখনও দপ্তরে না পৌঁছেছেন এবং দেরি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তারেক রহমান নিজে সময়মতো অফিসে উপস্থিত ছিলেন এবং সপ্তাহান্তেও কাজ চালিয়ে গেছেন, যা কর্মীদের জন্য উদাহরণস্বরূপ উল্লেখ করা হয়।
গতকাল একটি বৈঠকে তিনি সময়নিষ্ঠার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রিসভা ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তিনি জোর দেন যে, অফিস সময়ের বাইরে কাজ করা বা দেরি করা আর সহ্য করা হবে না।
একজন রাষ্ট্রমন্ত্রীর গোপনীয়তা রক্ষা করে প্রকাশিত মন্তব্যে বলা হয়েছে, “তাদের রহমান সরকার অফিস সময় কঠোরভাবে মেনে চলছে, তবে কিছু মন্ত্রী ও রাষ্ট্রমন্ত্রীর দেরি অব্যাহত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সময়নিষ্ঠা ও শৃঙ্খলা নিয়ে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেছেন।”
মন্ত্রিপরিষদে মোট ৪৯ সদস্য রয়েছে, যার মধ্যে ২৫জন মন্ত্রী এবং ২৪জন রাষ্ট্রমন্ত্রীর অন্তর্ভুক্ত। রমজান মাসে সরকারি সংস্থার অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩:৩০ পর্যন্ত নির্ধারিত।
প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগত সচিবদের নিয়োগকেও ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন, যা মন্ত্রিগণ কীভাবে তাদের দপ্তর পরিচালনা করবেন তার সূচক হিসেবে বিবেচিত। তিনি এই বিষয়টি বৈঠকে উল্লেখ করে, দপ্তরের কার্যকারিতা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
তাদের রহমানের এই পদক্ষেপের পেছনে জাতীয় নির্বাচনের পর জনগণের উচ্চ প্রত্যাশা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, জনগণ সরকারের থেকে দ্রুত ও ফলপ্রসূ সেবা প্রত্যাশা করে, তাই সময়নিষ্ঠা ও শৃঙ্খলা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই।
বৈঠকে উপস্থিত মন্ত্রিগণকে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, অফিস সময়ের প্রতি অবহেলা অতীতের অভ্যাস হতে পারে, তবে নতুন শাসনকালে তা আর গ্রহণযোগ্য নয়। সকলকে নির্ধারিত সময়ে দপ্তরে উপস্থিত থাকতে এবং দায়িত্ব পালনে সতর্ক থাকতে আহ্বান জানান।
এই নীতি অনুসরণে মন্ত্রিসভা ও সচিবদের মধ্যে সমন্বয় বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। সময়নিষ্ঠা নিশ্চিত করার মাধ্যমে নীতি বাস্তবায়ন দ্রুত হবে এবং জনসাধারণের বিশ্বাস পুনরুদ্ধার হবে।
প্রধানমন্ত্রী এছাড়াও উল্লেখ করেন, দপ্তরের কাজের গতি বাড়াতে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে দেরি কমাতে, সকলেরই অফিস সময়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা জরুরি। তিনি ভবিষ্যতে এই নীতি কঠোরভাবে প্রয়োগের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
সারসংক্ষেপে, তারেক রহমান সরকার দপ্তরে সময়নিষ্ঠা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যা মন্ত্রিসভা, রাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতি এবং ব্যক্তিগত সচিবের নিয়োগে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার জনসাধারণের প্রত্যাশা পূরণে এবং কার্যকর শাসন নিশ্চিত করতে চায়।



