২০২৬ সালের বাফ্টা ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস লন্ডনের রয়্যাল ফেস্টিভাল হল-এ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের সময় টোয়েটার সিক্সের ক্যাম্পেইনার জন ডেভিডসন অনিচ্ছাকৃতভাবে নিন্দনীয় শব্দ ব্যবহার করেন, যার মধ্যে ন-শব্দও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই ঘটনার পর বিবিসি (Bbc) প্রকাশ্যভাবে ক্ষমা চেয়েছে।
জন ডেভিডসন টোয়েটার সিক্সের সঙ্গে সংগ্রামরত ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষার জন্য সক্রিয় ক্যাম্পেইনার চালান। তিনি কির্ক জোন্সের ‘আই স্বেয়ার’ ছবির প্রেরণা, যা টোয়েটার সিক্সের রোগীর দৈনন্দিন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে। তার উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে সামাজিক সচেতনতার মঞ্চে রূপান্তরিত করেছে।
অবদান স্বরূপ, মাইকেল বি. জর্ডান ও ডেলরয় লিন্ডো ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ ছবির সেরা ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস পুরস্কার উপস্থাপন করার সময় ডেভিডসন তীব্র স্বরভঙ্গিতে নিন্দনীয় শব্দ উচ্চারণ করেন। এই মুহূর্তে মঞ্চে উপস্থিত সকলের মুখে বিস্ময়ের ছাপ দেখা যায়।
শ্রোতাদের মধ্যে হঠাৎ গ্যাস্পের ঢেউ বয়ে যায় এবং হলের পরিবেশ অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। উপস্থিত দর্শক ও শিল্পকর্মী এই অপ্রত্যাশিত শব্দের প্রতি শোক প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠান চলাকালীন এই ঘটনা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
বাফ্টা শোটি দুই ঘণ্টা বিলম্বে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হলেও, বিবিসি (Bbc) এই নিন্দনীয় শব্দগুলো কাটার সিদ্ধান্ত নেয়নি। ফলে টেলিভিশন দর্শকরা সরাসরি এই শব্দ শুনতে পান। এই বিষয়টি মিডিয়া ও দর্শকদের মধ্যে তীব্র বিতর্কের সূত্রপাত করে।
বিবিসি (Bbc) একটি মুখপত্রে জানায় যে কিছু দর্শক শোয়ের সময় শক্তিশালী ও আপত্তিকর ভাষা শোনার সম্ভাবনা রয়েছে। তারা ব্যাখ্যা করে যে এটি টোয়েটার সিক্সের সঙ্গে যুক্ত অনিচ্ছাকৃত মৌখিক টিকের ফল, ইচ্ছাকৃত নয়। তদুপরি, তারা এই ভাষা দ্বারা সৃষ্ট কোনো কষ্টের জন্য ক্ষমা চেয়েছে।
অনুষ্ঠানের হোস্ট অ্যালান কামিং প্রায়ই মঞ্চে থেমে দর্শকদের স্মরণ করিয়ে দেন যে টোয়েটার সিক্স একটি প্রতিবন্ধকতা এবং টিকগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘটে। তিনি জোর দেন যে রোগীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে এই শব্দগুলো উঠে আসে। এই বার্তা দর্শকদের মধ্যে সহানুভূতি জাগাতে সহায়তা করে।
ইন্টারনেট ও চলচ্চিত্র সম্প্রদায়ে এই ঘটনার ওপর তীব্র আলোচনা শুরু হয়। বাফ্টা ও বিবিসি (Bbc) কেন শব্দগুলো কাটেনি, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। বিশেষ করে দুই ঘণ্টা বিলম্বের পরেও শব্দগুলো বেঁচে থাকা নিয়ে সমালোচনা বাড়ে।
বাফ্টা ও বিবিসি (Bbc) এই বিষয়টি নিয়ে বহুবার মন্তব্যের অনুরোধের পরও কোনো স্পষ্ট উত্তর দেয়নি। মিডিয়া সংস্থা এই প্রশ্নের মুখে নীরব রয়ে গেছে। ফলে জনমত আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
জন ডেভিডন টোয়েটার সিক্সের সচেতনতা বাড়াতে এবং রোগীর অধিকার রক্ষায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে টিকগুলো রোগীর ইচ্ছার বাইরে ঘটে এবং তা সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য হওয়া দরকার। তার এই দৃষ্টিভঙ্গি রোগী ও পরিবারকে সমর্থন দেয়।
টোয়েটার সিক্সকে একটি প্রতিবন্ধকতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তার সঙ্গে যুক্ত স্বয়ংক্রিয় টিকগুলোকে বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। এই ধরনের ঘটনা মিডিয়ার দায়িত্বের ওপর নতুন আলো ফেলেছে। ভবিষ্যতে সম্প্রচার সংস্থাগুলোকে এমন শব্দগুলো সম্পাদনা করে দর্শকদের রক্ষা করার আহ্বান করা হচ্ছে।
অবশেষে, বাফ্টা ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডের এই অনিচ্ছাকৃত ভাষা ব্যবহার একটি শিক্ষা হিসেবে কাজ করবে। টোয়েটার সিক্সের রোগীদের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি, সম্প্রচার নীতিমালার কঠোরতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে। শিল্প ও মিডিয়া উভয়েরই এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।



