প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখে সকাল ১১ টায় জাতীয় সংসদের ১৩তম অধিবেশনের সূচনা ঘোষণা করেছেন। এই আহ্বানটি দেশের সংবিধানের ধারা ৭২(১) অনুসারে করা হয়েছে এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের পাবলিক রিলেশনস উপবিভাগ‑১ এর ডেপুটি সেক্রেটারি, মোঃ এমাদুল হক স্বাক্ষরিত নোটিফিকেশনের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
নোটিফিকেশনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে অধিবেশনটি শের‑এ‑বাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের চেম্বারে অনুষ্ঠিত হবে। সময়সূচি অনুযায়ী প্রথম অধিবেশনটি ১১ টায় শুরু হবে এবং পরবর্তী দিনগুলোতে ধারাবাহিকভাবে চলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সংবিধানের ধারা ৭২(১) প্রেসিডেন্টকে সংসদকে আহ্বান করার ক্ষমতা প্রদান করে, যা দেশের শাসনব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই ক্ষমতা ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট দেশের রাজনৈতিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং আইনসভার কাজ দ্রুত শুরু করতে চেয়েছেন।
১৩তম জাতীয় সংসদটি গত বছরের সাধারণ নির্বাচনের ফলস্বরূপ গঠিত হয়েছে, যেখানে আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দলগুলো যথাক্রমে বড় সংখ্যক আসন অর্জন করেছে। নির্বাচনের পর থেকে রাজনৈতিক পরিবেশ তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল, তবে কিছু বিরোধী গোষ্ঠী এখনও নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলো অধিবেশনের আহ্বানকে স্বাগত জানিয়ে তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে এবং সরকারকে গঠনমূলক আলোচনার জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তারা উল্লেখ করেছে যে নতুন সংসদে আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জনসেবার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা উচিত।
অন্যদিকে শাসনকর্তা দল আওয়ামী লীগ সরকার অধিবেশনের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে চায়। সরকারী সূত্রে বলা হয়েছে যে প্রথম অধিবেশনে বাজেট অনুমোদন, কৃষি সংস্কার এবং শিক্ষা নীতিমালার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে ১৩তম সংসদের প্রথম অধিবেশন দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ঋণ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংসদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রত্যাশিত।
অধিবেশনের সূচনা সঙ্গে সঙ্গে সংসদ সদস্যদের মধ্যে বিভিন্ন কমিটি গঠন এবং প্রধান মন্ত্রিপরিষদ গঠন প্রক্রিয়াও শুরু হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়াগুলো সরকারী নীতি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো সরবরাহ করবে এবং আইনসভার কার্যকারিতা বাড়াবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা ভবিষ্যৎ কয়েক সপ্তাহে সংসদে বিতর্কের তীব্রতা এবং পার্টি গুলোর সহযোগিতার মাত্রা পর্যবেক্ষণ করবেন। যদি বিরোধী দলগুলো সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে এবং সরকারী প্রস্তাবের উপর গঠনমূলক সমালোচনা করে, তবে তা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করবে।
অবশেষে, প্রেসিডেন্টের এই আহ্বান দেশের শাসনব্যবস্থার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১৩তম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন দেশের আইনগত কাঠামোকে পুনর্গঠন এবং জনমঙ্গলের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



