ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার ইরানে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে তৎক্ষণাৎ প্রস্থান করার আহ্বান জানায়। উক্ত আহ্বানটি যুক্তরাষ্ট্রের তেহরানে সম্ভাব্য সামরিক আক্রমণের আশঙ্কা বাড়ার পর প্রকাশিত হয়।
তেহরানের ভারতীয় দূতাবাসের সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে ইরানে থাকা সকল ভারতীয় নাগরিককে বাণিজ্যিক ফ্লাইটসহ যেকোনো উপলব্ধ পরিবহন মাধ্যম ব্যবহার করে দেশ ত্যাগ করতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রণালয় অনুমান করে যে ইরানে প্রায় দশ হাজার ভারতীয় নাগরিক ও পিআইও (People of Indian Origin) রয়েছে। তারা সকলকে প্রতিবাদ বা ধর্মঘটের স্থান থেকে দূরে থাকতে, দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের আপডেট নিয়মিত অনুসরণ করতে পরামর্শ দেয়।
এই সতর্কতা নরেন্দ্র মোদি’র বুধবার নির্ধারিত ইজরায়েল সফরের পূর্বে প্রকাশিত হয়। ইজরায়েলি সরকার প্রধান বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু রবিবার উল্লেখ করেন, মোদি’র সফর দুই দেশের মধ্যে নতুন কূটনৈতিক জোট গড়ে তুলতে সহায়ক হবে, যা তিনি “আন্দোলিত” শত্রুদের মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
ইতিহাসে নরেন্দ্র মোদি ২০১৭ সালে ইজরায়েল সফর করেন, আর পরের বছর বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ভারত সফর করেন। এই পারস্পরিক ভ্রমণ দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের দৃঢ়তা নির্দেশ করে।
সফরের আগে নরেন্দ্র মোদি সামাজিক মাধ্যমে লিখে জানান, তিনি ইজরায়েল সফরে আলোচনার জন্য উন্মুখ এবং দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বকে বিশ্বাস, উদ্ভাবন এবং শান্তি ও অগ্রগতির যৌথ প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা হয়েছে।
নতুন দিল্লি ও ইজরায়েলি সরকার সামরিক, কৃষি, প্রযুক্তি এবং নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সহযোগিতা ক্রমশ বাড়িয়ে তুলছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যৌথ গবেষণা, সশস্ত্র প্রশিক্ষণ এবং কৃষি প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে উভয় পক্ষের পারস্পরিক সুবিধা বৃদ্ধি পেয়েছে।
একই সময়ে ভারত গালফ দেশ এবং তেহরানের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক বজায় রেখেছে। বিশেষ করে ইরানের চাবাহার বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে ভারতীয় অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য, যা আফগানিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সংযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে কাজ করে।
চাবাহার বন্দর প্রকল্পের মাধ্যমে ভারত আফগানিস্তানের তালিবান শাসনকর্তা সঙ্গে বাণিজ্যিক লেনদেন সহজতর করতে চায়, যা অঞ্চলের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রাখে। এই উদ্যোগ ইরানের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংযোগকে আরও দৃঢ় করে।
ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন আক্রমণের আশঙ্কা এবং ইজরায়েলি সফরের সমন্বয় ভারতকে দু’টি ভিন্ন কূটনৈতিক দিকের মধ্যে সূক্ষ্ম সমন্বয় বজায় রাখতে বাধ্য করছে। একদিকে ইজরায়েলি সরকার সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব বাড়াতে হবে, অন্যদিকে তেহরানের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তা চুক্তি রক্ষা করতে হবে।
পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকদের প্রস্থান প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জন্য দূতাবাস বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে ইরানের স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাবে।
নরেন্দ্র মোদি’র ইজরায়েল সফর আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানকে পুনরায় সংজ্ঞায়িত করার সম্ভাবনা রাখে। সফরের সময় ইজরায়েলি সরকার সঙ্গে নতুন নিরাপত্তা চুক্তি, কৃষি প্রযুক্তি বিনিময় এবং বাণিজ্যিক চুক্তি আলোচনা করা হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং ভারতীয় সরকার সকল নাগরিককে সতর্কতা অবলম্বন করতে, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে এবং কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আহ্বান জানাচ্ছে।



