মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার ইছাপুরা বাজারে রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে উপজেলা প্রশাসন মোবাইল কোর্ট চালু করে। সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, সকাল ১০:৩০ থেকে দুপুর ১২:৩০ পর্যন্ত চলা এই অভিযানে মূল্য তালিকা না প্রদর্শনকারী ছয়জন ব্যবসায়ীকে আইনানুগ শাস্তি দেওয়া হয়।
মোবাইল কোর্টের নেতৃত্বে ছিলেন সিরাজদিখান উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম বারি, যাঁর নির্দেশে বাজারে তদারকি করা হয়। কোর্টের কাজের সময়সূচি নির্ধারিত ছিল বাজারের প্রধান গৃহস্থালী পণ্য—মুদিখানা, ফল এবং মাংসের দোকানগুলোতে নজরদারি করা।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ধারা ৩৮ অনুসারে, দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্য তালিকা না দেখিয়ে বিক্রি করা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তি আরোপ করা হয়। মোট ছয়টি মামলায় ১১,০০০ টাকার জরিমানা আরোপিত হয়, যা প্রত্যেক ব্যবসায়ীর জন্য গড়ে প্রায় ১,৮৩৩ টাকা।
অভিযানের সময় ব্যবসায়ীদের স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেওয়া হয় যে, সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রি করতে হবে এবং তা দৃশ্যমান স্থানে তালিকাভুক্ত করতে হবে। অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে কঠোর সতর্কতা জানানো হয়। এই নির্দেশনা বাজারে মূল্য স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের সুযোগ সীমিত করে।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের তদারকি অভিযান নিয়মিত চালিয়ে যাবে। বাজারে মূল্য স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারী দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট, এবং ভোক্তাদের অধিকার রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
বাজারে এই ধরনের তদারকি মূল্যের অস্থিরতা কমাতে সহায়ক হবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। রমজান মাসে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়; তবে দৃশ্যমান মূল্য তালিকা বাধ্যতামূলক করা হলে বিক্রেতারা অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণে দ্বিধা করবে। ফলে ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা পাবে এবং বাজারে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের সুযোগ সীমিত হবে।
অন্যদিকে, ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য এই ধরনের শাস্তি আর্থিক চাপ বাড়াতে পারে। মূল্য তালিকা আপডেট করা, সরকারী দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখা এবং জরিমানা পরিশোধের জন্য অতিরিক্ত ব্যয় তাদের লাভের মার্জিনকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে স্বচ্ছতা বজায় রাখার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে গ্রাহক বিশ্বাস বাড়বে, যা পুনরাবৃত্তি ব্যবসা ও বাজারের স্থায়িত্বে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
দীর্ঘমেয়াদে দেখা যাবে যে, বাজার পর্যবেক্ষণকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করা সম্ভব হবে কিনা। মোবাইল কোর্টের মতো শারীরিক তদারকি থেকে দূরবর্তী পর্যবেক্ষণ, অনলাইন মূল্য তালিকা এবং স্বয়ংক্রিয় রিপোর্টিং সিস্টেমের দিকে অগ্রসর হওয়া ব্যবসায়িক পরিবেশকে আরও স্বচ্ছ করে তুলতে পারে। তবে তা বাস্তবায়নের জন্য প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এবং বিক্রেতাদের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন হবে।
সারসংক্ষেপে, সিরাজদিখানের ইছাপুরা বাজারে মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত। শাস্তি আরোপের মাধ্যমে মূল্য তালিকা প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা জোরদার করা হয়েছে, যা ভোক্তা সুরক্ষা এবং বাজারের ন্যায্যতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের তদারকি ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে গেলে, মূল্য স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে, বিক্রেতাদের দায়িত্ববোধ শক্তিশালী হবে এবং ভোক্তাদের আস্থা পুনরুদ্ধার হবে।



