31.6 C
Dhaka
Monday, February 23, 2026
Google search engine
Homeপ্রযুক্তিবাংলাদেশ সরকার এআই ডিক্লারেশনকে ৮৯তম স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে সমর্থন করেছে

বাংলাদেশ সরকার এআই ডিক্লারেশনকে ৮৯তম স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে সমর্থন করেছে

২০২৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি, ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত India AI Impact Summit-এ বাংলাদেশ সরকার নিউ দিল্লি ডিক্লারেশন অন এআই ইমপ্যাক্টে স্বাক্ষর করে ৮৯তম দেশ হিসেবে সমর্থন জানায়। এআই প্রযুক্তির অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিকের উন্নয়নকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে এই ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়।

ডিক্লারেশনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুবিধা সমভাবে ভাগ করার লক্ষ্যে গৃহীত, যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক কল্যাণের সমন্বয়কে মূল অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। “সবার কল্যাণে, সবার সুখে” নীতি অনুসরণ করে, এআই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও নীতি সমন্বয়কে জোর দেওয়া হয়েছে।

এই ঘোষণাপত্রে ইতিমধ্যে ৮৮টি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা স্বাক্ষর করেছে, যার মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, ব্রাজিল, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, ইসরায়েল, যুক্তরাজ্য, চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, সৌদি আরব এবং সিঙ্গাপুর অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশ সরকার এই তালিকায় যুক্ত হয়ে এআই ব্যবহারের বৈশ্বিক ঐকমত্যকে শক্তিশালী করেছে।

সামিটের সময় ৫০০ের বেশি এআই ক্ষেত্রের নেতা, ১০০ের বেশি প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ১৫০ জন শিক্ষাবিদ ও গবেষক এবং প্রায় ৪০০ জন প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি, সাধারণ দর্শকদের সংখ্যা পাঁচ লাখেরও বেশি পৌঁছায়, যা এআই প্রযুক্তির প্রতি জনসাধারণের উচ্চ আগ্রহকে প্রতিফলিত করে।

সম্মেলনটি শিল্পখাতের নেতা, উদ্ভাবক এবং স্টার্টআপগুলোর জন্য সংলাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে কাজ করে, যেখানে এআই-চালিত সমাধান উপস্থাপন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হয়। এআই নীতি, গবেষণা ও বাজারের প্রবণতা নিয়ে আলোচনা করার পাশাপাশি, নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের জন্য নীতি নির্ধারণের দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।

পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রণালয়ের একজন সদস্য উল্লেখ করেছেন, এই সম্মেলন দেশের পঞ্চায়েতি রাজ প্রতিষ্ঠানগুলোকে এআই-চালিত উদ্যোগের মাধ্যমে সহায়তা প্রদান করার নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করেছে। তিনি বলেন, স্থানীয় স্বশাসন সংস্থাগুলোর জন্য এআই সমাধান প্রদর্শন ও বাস্তবায়নের সুযোগ এই সমিটের অন্যতম মূল ফলাফল।

আইআইটি রোপারের পরিচালকও এআই সমিটকে দেশের যুবপ্রজন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষামূলক ও উদ্ভাবনী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, কৃষি খাতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার কীভাবে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এবং কৃষকদের জীবনমান উন্নত করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার এই সমর্থনের মাধ্যমে এআই প্রযুক্তির নীতি ও নিয়মাবলীর গঠনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে চায়। এআই ক্ষেত্রে দেশীয় গবেষণা ও স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করার জন্য বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

ডিক্লারেশন স্বাক্ষরের পর, বাংলাদেশ সরকার এআই সংক্রান্ত কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়নে ত্বরান্বিত করবে, যাতে ডিজিটাল রূপান্তর, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং অবকাঠামো উন্নয়নে এআই সমাধান দ্রুত বাস্তবায়িত হয়। এ ধরণের আন্তর্জাতিক সমঝোতা দেশীয় নীতি নির্ধারণে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সারসংক্ষেপে, নিউ দিল্লি ডিক্লারেশন অন এআই ইমপ্যাক্টে বাংলাদেশ সরকারের স্বাক্ষর আন্তর্জাতিক এআই সহযোগিতার একটি নতুন মাইলফলক চিহ্নিত করে। এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিক ও টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
প্রযুক্তি প্রতিবেদক
প্রযুক্তি প্রতিবেদক
AI-powered প্রযুক্তি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments