বাংলা একাডেমী ২০২৫ সালের সাহিত্য পুরস্কারের বিজয়ীদের নাম প্রকাশ করেছে এবং পুরস্কার বিতরণের অনুষ্ঠান ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ আমর একুশে বই মেলায় অনুষ্ঠিত হবে। এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুরস্কার প্রদান করবেন, যা দেশের সাহিত্যিক পরিবেশে নতুন উদ্যমের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিজয়ীদের তালিকা বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক প্রফেসর মোহাম্মদ আজমের মাধ্যমে প্রকাশিত একটি মিডিয়া বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই বছর মোট নয়জন লেখককে বিভিন্ন শাখায় সম্মানিত করা হবে। প্রতিটি বিজয়ীর কাজের গুণগত মান ও সাহিত্যিক অবদানকে ভিত্তি করে নির্বাচন করা হয়েছে।
কবিতা বিভাগে মোহন রায়ের নাম উঠে এসেছে। তিনি তার আধুনিক কবিতার মাধ্যমে সামাজিক ও মানবিক বিষয়গুলোকে সূক্ষ্মভাবে প্রকাশ করেছেন, যা পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তার কবিতায় ব্যবহৃত চিত্রকল্প ও ভাষার সরলতা বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
গল্প ও উপন্যাসের ক্ষেত্রে নাসিমা আনিসকে পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। তিনি নারী চরিত্রের জটিলতা ও সামাজিক বাস্তবতাকে বর্ণনায় দক্ষতার সঙ্গে উপস্থাপন করেন। তার রচনায় আধুনিক বাংলার জীবনের নানা দিক উন্মোচিত হয়, যা পাঠকদের মধ্যে গভীর চিন্তা উদ্রেক করে।
প্রবন্ধ ও গদ্য বিভাগে সৈয়দ আজিজুল হককে সম্মানিত করা হয়েছে। তিনি সমসাময়িক বিষয়গুলোকে বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করেন এবং তার লেখনীতে যুক্তি ও বর্ণনার সমন্বয় দেখা যায়। তার প্রবন্ধগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গবেষণা ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে।
শিশু সাহিত্য ক্ষেত্রে হাসান হাফিজের কাজকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তিনি ছোট বয়সের পাঠকদের জন্য সহজবোধ্য ও শিক্ষামূলক গল্প রচনা করেন, যা শিশুদের পাঠের প্রতি আগ্রহ বাড়ায়। তার রচনায় নৈতিক মূল্যবোধ ও সৃজনশীলতা সমন্বিতভাবে প্রকাশ পায়।
অনুবাদ বিভাগে আলী আহমদকে পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। তিনি বিদেশি সাহিত্যকে বাংলায় অনুবাদ করে স্থানীয় পাঠকদের কাছে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এনে দিয়েছেন। তার অনুবাদে মূল পাঠ্যের সুর ও অর্থের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ দেখা যায়, যা অনুবাদকর্মের মানদণ্ড স্থাপন করেছে।
গবেষণা শাখায় মুস্তাফা মজিদ এবং ইস্রায়েল খানকে সম্মানিত করা হয়েছে। উভয় গবেষকই বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ঐতিহাসিক দিকগুলোতে গভীর গবেষণা করেছেন। তাদের গবেষণাপত্রগুলো একাডেমিক জগতে নতুন আলো ছড়িয়েছে এবং ভবিষ্যৎ গবেষকদের জন্য রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে।
বিজ্ঞান বিভাগে ফারসীম মান্নান মোহাম্মদি পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি বিজ্ঞান বিষয়ক জনপ্রিয় বইয়ের মাধ্যমে জটিল বৈজ্ঞানিক ধারণাকে সহজভাবে ব্যাখ্যা করেন। তার রচনায় বিজ্ঞান ও সমাজের সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে, যা সাধারণ পাঠকদের বিজ্ঞান সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ায়।
মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত কাজের জন্য মোইদুল হাসানকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, নায়ক ও বীরগাথা নিয়ে গবেষণা ও রচনা করেছেন, যা দেশের স্মৃতিচারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তার কাজগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্মারক গ্রন্থে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
বছরের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হওয়া আমর একুশে বই মেলায় এই পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানটি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। বই মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখকদের জন্য সম্মানের চিহ্ন এবং সাহিত্যিক সমাজের জন্য উৎসাহের উৎস হবে। এই অনুষ্ঠানটি সাহিত্যিকদের মধ্যে পারস্পরিক সংযোগ ও নতুন সৃষ্টির পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
পাঠক হিসেবে আমরা কীভাবে এই পুরস্কারপ্রাপ্ত রচনাগুলোকে আমাদের পাঠ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারি? প্রতিটি শাখার সেরা কাজগুলোকে পড়ে সাহিত্যিক দৃষ্টিভঙ্গি বিস্তৃত করা এবং নিজের লেখালেখি বা গবেষণায় নতুন ধারণা গ্রহণ করা সম্ভব। আপনার মতামত শেয়ার করুন এবং আগামী বছরেও বাংলা একাডেমীর এই উদ্যোগকে সমর্থন করুন।



