31.6 C
Dhaka
Monday, February 23, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাঢাকা চেম্বার সরকারকে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি দমন ও কর্মসংস্থান লক্ষ্যমাত্রা পূরণের আহ্বান

ঢাকা চেম্বার সরকারকে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি দমন ও কর্মসংস্থান লক্ষ্যমাত্রা পূরণের আহ্বান

ঢাকা চেম্বার অব দ্য কমার্সের সভাপতি তাসকিন আহমেদ সোমবার রাতের দিকে মতি জিহলের ডিসিসিআই মিলনায়তে এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারকে চাঁদাবাজি ও সরকারি দপ্তরের দুর্নীতি দমন করতে তাগিদ জানালেন। তিনি উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ শাসনকালে সরকার পতনের আগে নির্ধারিত চাঁদার হার ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে একই হারে বজায় রাখা হয়েছে এবং বেশ কিছু ক্ষেত্রে তা ৫০ শতাংশ বেশি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও এক দিনের জন্যও সরকারি দপ্তরে কোনো দুর্নীতি হ্রাস দেখা যায়নি, এ কথাটি তিনি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন।

তাসকিন আহমেদ বলেন, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি না থামলে সরকার এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকারকে কেবল চাঁদাবাজি নয়, সরকারি দপ্তরের সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে নিয়োগপ্রাপ্তি ও ব্যবসায়িক পরিবেশে আস্থা ফিরে আসে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি চারটি মূল পদক্ষেপের প্রস্তাব দেন, যা অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণে সহায়ক হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

প্রথমত, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করে চাঁদাবাজি বন্ধ করা প্রয়োজন। তাসকিনের মতে, নিরাপদ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবেশ না থাকলে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ও কার্যক্রম স্থবির হয়ে যায়। দ্বিতীয়ত, সরকারি দপ্তরে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্তি নিশ্চিত করা উচিত, যাতে সরকারি কর্মী ও বেসরকারি সংস্থার মধ্যে বিশ্বাসের সেতু গড়ে ওঠে। তৃতীয়ত, ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন সরবরাহের ব্যবস্থা করা দরকার। শেষমেশ, ব্যাংক ঋণের সুদের হার যুক্তিসঙ্গত পর্যায়ে নামিয়ে এনে ঋণগ্রহীতাদের আর্থিক চাপ কমানো উচিত।

তাসকিন আহমেদ এই সব পদক্ষেপকে একসাথে বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি খাতের উৎপাদনশীলতা বাড়বে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ত্বরান্বিত হবে বলে উল্লেখ করেন। তিনি বিশেষ করে উল্লেখ করেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বেসরকারি খাতের সক্রিয়তা ছাড়া কোনো বড় উন্নতি সম্ভব নয়। চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির অব্যাহততা সরাসরি বিনিয়োগের পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, ফলে বিদেশি ও দেশীয় উভয় ধরনের মূলধন প্রবাহ কমে যায়।

বাজার বিশ্লেষকরা তাসকিনের এই আহ্বানকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন, কারণ স্বচ্ছতা ও ন্যায়সঙ্গত নীতি ব্যবসায়িক ঝুঁকি কমিয়ে দেয় এবং ঋণপ্রাপ্তি সহজ করে। বিশেষ করে ব্যাংক ঋণের সুদের হার হ্রাস করলে ছোট ও মাঝারি শিল্পের নগদ প্রবাহ উন্নত হবে, যা সরাসরি উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। তাছাড়া, ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানকে পুনরায় ব্যবসায়িক চক্রে ফিরিয়ে আনার জন্য মূলধন সাপোর্ট দিলে সেক্টরের মোট আউটপুটে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি প্রত্যাশা করা যায়।

তাসকিন আহমেদ আরও উল্লেখ করেন, সরকার যদি চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ না নেয়, তবে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় বাধা সৃষ্টি হবে। তিনি বলছেন, এই লক্ষ্য পূরণে বেসরকারি খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য, এবং এর জন্য উপরে উল্লেখিত চারটি নীতি বাস্তবায়ন করা জরুরি।

সংবাদ সম্মেলনের শেষে তাসকিন আহমেদ সরকারকে আহ্বান জানান, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি দমনকে অগ্রাধিকার দিয়ে নীতি নির্ধারণে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হোক। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সরকার এই চ্যালেঞ্জগুলোকে স্বীকৃতি দিয়ে কার্যকর পরিকল্পনা তৈরি করবে, যাতে দেশের অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণ ত্বরান্বিত হয় এবং লক্ষ লক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টির স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments