31.6 C
Dhaka
Monday, February 23, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকনেপালে পর্যটক বাস দুর্ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু, ব্রিটিশ নাগরিকও নিহত

নেপালে পর্যটক বাস দুর্ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু, ব্রিটিশ নাগরিকও নিহত

নেপালের ধাধিং জেলায় ট্রিশুলি নদীর তীরে একটি পর্যটক বাসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ২০০ মিটার নিচে গড়িয়ে পড়ার ফলে ১৯ জনের প্রাণহানি হয়েছে; এর মধ্যে ২৪ বছর বয়সী একজন ব্রিটিশ নাগরিকও অন্তর্ভুক্ত। দুর্ঘটনাটি সোমবার ভোরবেলায় ঘটেছে, যখন বাসটি পোখারার থেকে রাজধানী কাঠমাণ্ডু পথে যাত্রা করছিল।

বসটি মোট ৪৪ জন যাত্রী ও চালকসহ চলছিল, যার মধ্যে ২৫ জন আহত হয়েছে। দুর্ঘটনা ঘটার মুহূর্তে গাড়ি দ্রুত গতি হারিয়ে বাঁক নিতে না পারায় তা নদীর তীরের ঢালুতে গড়িয়ে পড়ে, ফলে গাড়ির গঠন ভেঙে যায় এবং বেশিরভাগ যাত্রী গড়িয়ে পড়া অবস্থায়ই প্রাণ হারায়।

স্থানীয় পুলিশ সূত্রে এখন পর্যন্ত মৃতদের মধ্যে নয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে চীনের একজন নাগরিক ও নিউজিল্যান্ডের একজন পর্যটকও রয়েছে, যাদের সবকে কাঠমাণ্ডু শহরের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশের মুখপাত্র আবিনারায়ণ কাফলে জানান, দুর্ঘটনা স্থলে ১৭ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে; বাকি দুইজনের মৃত্যু পরে চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসার সময় ঘটেছে। আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল হলেও গুরুতর আঘাতের কারণে দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসন প্রয়োজন হতে পারে।

নেপালের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ ও গাড়ির যান্ত্রিক অবস্থা পরীক্ষা করে দুর্ঘটনার মূল কারণ নির্ধারণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরকে ঘটনাটি জানানো হয়েছে এবং ব্রিটিশ নাগরিকের পরিবারকে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

নেপালের সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জের মুখে। পাহাড়ি অঞ্চলে সঙ্কীর্ণ রাস্তা, অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ এবং বৃষ্টিপাতের সময় স্লিপারি পৃষ্ঠের কারণে গাড়ি দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে। সরকার গত বছর থেকে কিছু মূল রুটে পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু করলেও ধাধিংয়ের মতো দূরবর্তী এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়ন এখনও ধীরগতিতে চলছে।

এ ধরনের দুর্ঘটনা নেপালের ইতিহাসে বিরল নয়। ২০২৪ সালে একই রুটে পোখারা থেকে কাঠমাণ্ডু যাওয়া একটি বাস মার্স্যাংদি নদীতে গড়িয়ে পড়ে, যার ফলে কমপক্ষে ১৪ জনের মৃত্যু হয়। উভয় ঘটনার সাদৃশ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি ও পর্যটক গন্তব্যে সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের অপর্যাপ্ততা নির্দেশ করে।

একজন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন, “নেপালের পর্যটন শিল্পের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে সড়ক নিরাপত্তা মানদণ্ডকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা জরুরি, যাতে বিদেশি পর্যটক ও স্থানীয় জনগণ উভয়েরই সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।” তিনি আরও যোগ করেন, “এই ধরনের ঘটনার পর যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য দেশের কূটনৈতিক মিশন সাধারণত কনসুলার সহায়তা প্রদান করে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে দ্রুত তদন্তে সহযোগিতা করার আহ্বান জানায়।”।

দূতাবাসের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, নেপাল সরকারকে আন্তর্জাতিক সহায়তা গ্রহণে উন্মুক্ত হতে হবে, বিশেষ করে সড়ক অবকাঠামো ও জরুরি সেবা উন্নয়নে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর ইতিমধ্যে নেপালের সঙ্গে সমন্বয় করে আহত ব্রিটিশ নাগরিকের চিকিৎসা ও পরিবারকে তথ্য প্রদান করছে।

এই দুর্ঘটনা নেপালের পর্যটন শিল্পের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ নিরাপত্তা উদ্বেগের ফলে বিদেশি পর্যটকের আগমন কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সড়ক নিরাপত্তা মানদণ্ড উন্নত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ ট্র্যাজেডি রোধ করা যায়।

সামগ্রিকভাবে, ধাধিং জেলায় ঘটিত এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা নেপালের সড়ক নিরাপত্তা সমস্যার একটি তীব্র স্মারক হিসেবে কাজ করবে, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা ও কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে বের করা জরুরি।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments