রবিবার ভোরে সেহরির পর নড়াইল সদর উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের কারণে সংঘটিত এক মারাত্মক হিংসা ঘটেছে, যেখানে পাঁচজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। ঘটনাস্থল ছিল বারাকুলা গ্রাম, যেখানে পূর্বে সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের দুই প্রাক্তন চেয়ারম্যানের পরিবার ও সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের তীব্র বিরোধ চলছিল।
সেই ভোরে টারাপুর গ্রাম থেকে প্রায় পঞ্চাশ থেকে ষাট জনের একটি দল বারাকুলা গ্রামে প্রবেশ করে খলিল শেখের বাড়িতে হামলা চালায়। প্রথমে উভয় পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক গুলিবর্ষণ হয়, পরে উজ্জ্বল শেখের সমর্থকরা খায়ের মোল্লার সমর্থকদের ছয়টি বাড়িতে অগ্নিকাণ্ড ঘটায়। এই পারস্পরিক হিংসা শেষমেশ দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহার করে পাঁচজনের প্রাণহানি ঘটায়, যার মধ্যে তিনজন现场েই এবং দুইজন হাসপাতালে মারা যায়।
মৃত্যুবরণে অন্তর্ভুক্ত হলেন ৭০ বছর বয়সী খলিল শেখ, তার ৪১ বছর বয়সী পুত্র তাহাজ্জত শেখ, তাদের সমর্থক ফেরদাউস হোসেন (৪০) এবং তার পুত্র মুন্না শেখ, যারা উজ্জ্বল শেখের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। এছাড়া বিরোধের বিপরীত দিকের সমর্থক ওসিকুর ফকির (৩৬) ও নিহত হয়েছেন।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ চারজনের মৃত্যু জানিয়ে দেয়, তবে হাসপাতালের রিপোর্টের পর মৃত্যুর সংখ্যা পাঁচজনে বৃদ্ধি পায়। মৃতদেহগুলো নড়াইল সদর হাসপাতালের মরগে পাঠানো হয়, এবং মৃতদের পরিবার ও গ্রামবাসীদের শোক সমাবেশে বারাকুলা গ্রাম ও হাসপাতাল চত্বরের পরিবেশ উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
খলিল শেখের স্ত্রী মঞ্জুরা বেগম জানান, তারা টারাপুরের বাসিন্দা হলেও প্রায় দশ বছর আগে গ্রাম্য মারামারী এড়াতে বারাকুলা গ্রামে বসতি স্থাপন করেন। তবুও দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ অব্যাহত ছিল। তিনি বর্ণনা করেন, ভোরে সেহেরি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রায় পঞ্চাশ থেকে পঁয়তাল্লিশ জনের একটি দল তাদের বাড়িতে ঢুকে স্বামী ও পুত্রকে ঘর থেকে বের করে গুলি করে হত্যা করে। তাদের সমর্থক ফেরদাউস হোসেনও একই সময়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
ওসিকুর ফকিরের স্ত্রী কেয়া বেগম জানান, তার স্বামীকে গুলি করে গুরুতর আঘাত হানার পর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। বারাকুলা গ্রামের বাসিন্দারা উল্লেখ করেন, ওসিকুর নিজ গ্রামেই বাস করতেন, তবে তিনি খায়ের মোল্লার সমর্থক ছিলেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে ফৌজদারি দফতর ও অস্ত্রের বিশ্লেষণের জন্য ফরেনসিক টিম গঠন করে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাপ্ত অস্ত্রগুলো ব্যালিস্টিক বিশ্লেষণের জন্য পাঠানো হবে এবং ঘটনাস্থলের সাক্ষী ও ভিডিও রেকর্ডিং সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তির নাম তালিকাভুক্ত করে আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
এই মামলাটি নড়াইল জেলাবিচারকে পাঠানো হয়েছে এবং পরবর্তী সপ্তাহে প্রথম শুনানি নির্ধারিত হয়েছে। আদালত থেকে অভিযুক্তদের জেলবন্দি বা জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য রিমান্ডের আদেশ চাওয়া হবে, এবং অতিরিক্ত তদন্তের জন্য পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হবে।
অধিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ গ্রামগুলোতে অতিরিক্ত পেট্রোলিং চালু করেছে এবং উভয় পরিবারের মধ্যে কোনো পুনরায় সংঘর্ষ রোধে স্থানীয় মশারার সঙ্গে সমঝোতার আহ্বান জানিয়েছে।
এই হিংসাত্মক ঘটনা দীর্ঘস্থায়ী পারিবারিক বিরোধের মারাত্মক পরিণতি তুলে ধরে এবং দ্রুত আইনি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করে।



