সরকার কৃষক কার্ডের পাইলট বিতরণ শীঘ্রই চালু করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে, যা কৃষকদের উৎপাদন‑সংক্রান্ত সুবিধা সরাসরি পেতে সহায়তা করবে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জাহির উদ্দিন স্বপন আজ দফতরে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয়িক বৈঠকে এই পরিকল্পনা প্রকাশ করেন।
বৈঠকটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গৃহীত হয়, যেখানে কৃষক কার্ডের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও সময়সূচি নিয়ে আলোচনা করা হয়। মন্ত্রীরা নীতি গৃহীত হওয়ার পরবর্তী ধাপ হিসেবে প্রকল্পের সূচনা ও পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি নির্ধারণ করেন।
কৃষক কার্ডের নীতি বহুদিন আগে গৃহীত হওয়ায় আজকের বৈঠকটি মূলত তার কার্যকরী দিক নিয়ে কেন্দ্রীভূত হয়। মন্ত্রীরা উল্লেখ করেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষকদের আর্থিক ও বাজার সংক্রান্ত সুবিধা একত্রে প্রদান করা হবে।
বিতরণ পদ্ধতি পরিবার কার্ডের মডেল অনুসরণ করবে, যেখানে প্রথম ধাপে নির্দিষ্ট অঞ্চল ও গোষ্ঠীর মধ্যে পাইলট চালু হবে। নির্বাচিত কৃষকরা কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি সেবা পেতে পারবেন, যা পূর্বের মধ্যস্থতাকারী ব্যবস্থার তুলনায় অধিক স্বচ্ছতা আনবে।
কার্ডধারী কৃষকরা সাশ্রয়ী ঋণ, বীজ ও সার সরবরাহ, বাজারে সরাসরি বিক্রয় ইত্যাদি সব ধরনের উৎপাদন‑সংক্রান্ত সুবিধা পাবেন। সরকার দাবি করে, এই ব্যবস্থা কৃষকদের আয় বাড়াতে এবং উৎপাদন খরচ কমাতে সহায়ক হবে।
স্মার্ট কৃষক কার্ড একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে, যা তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে এবং মধ্যস্থতাকারীর অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ কমাবে। ডেটা সংরক্ষণ ও ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে সরকার কৃষক-ব্যবসায়ীর মধ্যে সরাসরি লেনদেন সহজ করবে।
প্রকল্পের বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে ডেটাবেস তৈরি, প্রশিক্ষণ কর্মশালা এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, কার্ডের নিরাপত্তা ও ব্যবহারিকতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
পাইলট প্রকল্পের সূচনা শীঘ্রই হওয়ার কথা, এবং সফলতা প্রমাণিত হলে ধীরে ধীরে সব কৃষককে এই সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সরকার এই ধাপকে কৃষি নীতি রূপান্তরের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছে।
কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী এই উদ্যোগের কার্যকারিতা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, তবে সরকার দাবি করে যে প্রকল্পটি স্বচ্ছ ও সমন্বিতভাবে পরিচালিত হবে। মন্ত্রীরা উল্লেখ করেন, সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে।
যদি পাইলট সফল হয়, তবে সরকার কৃষক কল্যাণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারবে এবং গ্রামীণ ভোটভিত্তি শক্তিশালী করতে সক্ষম হবে। এই উদ্যোগকে কৃষি উন্নয়নের কৌশলগত অংশ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
বৈঠকের শেষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী স্বপন পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে দেশের কৃষক সমাজকে আধুনিক সেবা প্রদান করা এবং মধ্যস্থতাকারীর প্রভাব হ্রাস করা সরকারের অগ্রাধিকার। তিনি ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ রোলআউটের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন।



