ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ২৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সাংবাদিকদের সামনে দেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল দিকগুলো তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্য হল পারস্পরিক লাভজনক ও সমান অংশীদারিত্ব। এই বক্তব্যের পটভূমিতে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মাইকেল মিলার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠক অন্তর্ভুক্ত।
বৈঠকের সময় ড. খলিলুর রহমান উল্লেখ করেন যে, তিনি উভয় পক্ষকে বর্তমান সরকারের বৈদেশিক নীতির রূপরেখা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “জাতীয় মর্যাদার ওপর ভিত্তি করেই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি প্রতিষ্ঠিত হবে।” এই উক্তি দেশের কূটনৈতিক স্বায়ত্তশাসন ও গৌরবকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ইচ্ছা স্পষ্ট করে।
পরবর্তী প্রশ্নোত্তরে তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা এই সরকারের বৈদেশিক নীতির রূপরেখা তাঁদের জানিয়েছি। আমাদের মূলমন্ত্র হচ্ছে—বাংলাদেশ ফার্স্ট বা সবার উপরে বাংলাদেশ।” এই বক্তব্যে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।
ড. খলিলুর রহমান স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি পুনরায় জোর দেন। তিনি বলেন, “স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে আমরা পরস্পরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করব না। পারস্পরিক কল্যাণ ও জাতীয় মর্যাদার নীতির ওপর আমাদের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রতিটি দেশের সঙ্গে সমান অংশীদার হিসেবে (অ্যাজ কো-ইকুয়ালস) আমরা লাভজনক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই।” এই উক্তি সমতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে কূটনৈতিক সম্পর্কের কাঠামো নির্দেশ করে।
ড. খলিলুর রহমান উল্লেখ করেন, এ পর্যন্ত তিনি সৌদি আরব, চীন, ভারত এ, পাকিস্তান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি বলেন, “বর্তমান সরকারের প্রতি তাঁদের আস্থা এবং আমাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রবল ইচ্ছা আমরা দেখেছি। বিশ্বের সব বন্ধু রাষ্ট্রের সঙ্গে আমরা গভীর সম্পর্ক বজায় রাখতে পারব। বিদ্যমান সমস্যাগুলো পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে সমাধান করা হবে, যেখানে সবার স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে।” এই মন্তব্যে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশ সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা ও সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ পেয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই ঘোষণার পর বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, সমতা ও পারস্পরিক স্বার্থকে ভিত্তি করে গৃহীত নীতি ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি, বাণিজ্যিক বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতার সুযোগ বাড়াবে। এছাড়া, দেশীয় স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখার প্রচেষ্টা বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।
সারসংক্ষেপে, ড. খলিলুর রহমানের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, বাংলাদেশ সরকার সব দেশের সঙ্গে সমান অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে লাভজনক সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্য রাখে, এবং তা অর্জনের জন্য জাতীয় মর্যাদা, স্বাধীনতা ও পারস্পরিক সম্মানকে মূল নীতি হিসেবে গ্রহণ করেছে। এই দৃষ্টিভঙ্গি দেশের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক কৌশলকে নির্দেশ করবে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রভাব বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



