১৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কা বাড়ার পর, ভারত এ সরকার তার দেশের নাগরিকদের দ্রুত দেশ ত্যাগের পরামর্শ জানায়। ইরানে অবস্থানরত ভারত এ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, দূতাবাস একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিবেশের পরিবর্তনের সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, ইরানে থাকা সব ভারত এ নাগরিককে বাণিজ্যিক ফ্লাইটসহ যেকোনো উপলব্ধ পরিবহন মাধ্যম ব্যবহার করে তৎক্ষণাৎ প্রস্থান করতে হবে। প্রস্থান প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ভিসা সংক্রান্ত সহায়তা দূতাবাসের মাধ্যমে প্রদান করা হবে। এছাড়া, প্রস্থান পরিকল্পনা করার সময় স্থানীয় আইন ও নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।
বিজ্ঞপ্তি বিশেষভাবে ইরানে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং পর্যটকসহ সকল ভারত এ বংশোদ্ভূত ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য বলে উল্লেখ করেছে। এই গোষ্ঠীগুলোকে তাদের বর্তমান অবস্থান ও ভ্রমণ পরিকল্পনা দ্রুত পুনর্বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। দূতাবাসের মতে, প্রস্থান প্রক্রিয়ায় কোনো বাধা না থাকে এমন নিশ্চিত করতে তারা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখবে।
প্রস্থান নির্দেশনার পাশাপাশি, দূতাবাসের নোটিশে নিরাপত্তা সতর্কতা সম্পর্কেও জোর দেওয়া হয়েছে। ইরানে কোনো প্রতিবাদ বা বিক্ষোভের এলাকায় প্রবেশ না করার, স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করার এবং ভারত এ দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই নির্দেশনা সম্ভাব্য অস্থিরতা বৃদ্ধি পেলে নাগরিকদের নিরাপদে থাকা নিশ্চিত করতে লক্ষ্যভেদ করে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমের সম্ভাবনা সম্পর্কে তথ্য এখনও সীমিত হলেও, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, অঞ্চলে উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আক্রমণ ইরানের কৌশলগত অবকাঠামোকে লক্ষ্য করবে, যা নাগরিক নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করবে। এই প্রেক্ষাপটে ভারত এ সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া স্বাভাবিক।
আঞ্চলিক কূটনৈতিক সূত্রগুলোও ইরানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পার্শ্ববর্তী দেশগুলো একই সময়ে তাদের নাগরিকদের জন্য সতর্কতা নির্দেশনা জারি করেছে, যা ইরানের নিরাপত্তা পরিবেশের জটিলতা নির্দেশ করে। এই ধরনের সমন্বিত পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হচ্ছে।
পূর্বে একই বছরের জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারিতে ভারত এ দূতাবাস একই ধরনের প্রস্থান নির্দেশনা জারি করেছিল, তবে বর্তমান বিজ্ঞপ্তি অতিরিক্ত সতর্কতা এবং দ্রুত প্রস্থানকে গুরুত্ব দিয়েছে। পূর্বের নির্দেশনায় মূলত সীমিত এলাকায় অবস্থিত ভারত এ কর্মী ও ছাত্রদের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, যেখানে এখন পুরো ইরান জুড়ে সকল নাগরিককে লক্ষ্য করা হয়েছে।
একজন কূটনৈতিক বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন, “ইরানে বর্তমান অস্থিরতা এবং সম্ভাব্য বাহ্যিক হস্তক্ষেপের ঝুঁকি বিবেচনা করে, ভারত এ সরকার তার নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য প্রোঅ্যাকটিভ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।” তিনি আরও বলেন, এই ধরনের দ্রুত সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার উদাহরণ।
প্রস্থান নির্দেশনা অনুসরণ না করলে ভারত এ নাগরিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে, ইরানের কিছু অঞ্চলে সামরিক কার্যক্রমের সম্ভাবনা থাকায়, স্থানীয় অবকাঠামোতে অস্থায়ী বন্ধ বা সড়ক বন্ধের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং স্থানীয় সংবাদ পর্যবেক্ষণ জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য হটলাইন নম্বর এবং ইমেল ঠিকানা ইতিমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। নাগরিকরা তাদের বর্তমান অবস্থান, প্রস্থান পরিকল্পনা এবং জরুরি প্রয়োজনীয়তা জানিয়ে সহায়তা পেতে পারেন। এছাড়া, ভারত এ দূতাবাসের কনসুলার সেবা কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি ও ভিসা প্রক্রিয়ার দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করা হবে।
ভবিষ্যতে, ভারত এ সরকার ইরানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত নির্দেশনা জারি করতে পারে। আন্তর্জাতিক মিডিয়া এবং নিরাপত্তা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে, নাগরিকদের জন্য আপডেটেড তথ্য সরবরাহ করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা অগ্রাধিকার হবে।
সারসংক্ষেপে, ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হুমকির প্রেক্ষিতে ভারত এ দূতাবাস তার নাগরিকদের দ্রুত প্রস্থান এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে। এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিবেশের পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়া এবং নাগরিক সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত। সকল ভারত এ নাগরিককে দূতাবাসের নির্দেশনা মেনে চলতে এবং নিরাপদে প্রস্থান নিশ্চিত করতে আহ্বান জানানো হয়েছে।



