শেরপুরের নকলা উপজেলায় রোববার বিকালে দুইটি ট্রাকের মধ্যে মোট ৯৮০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়। অপারেশনটি উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ ও পুলিশ যৌথভাবে পরিচালনা করে, যা উত্তর বাজারের দুটি পৃথক স্থানে সম্পন্ন হয়।
অভিযানের সূত্র অনুসারে, নকলা উপজেলার ‘সৃজন এন্টারপ্রাইজ’ ও ‘মেসার্স খন্দকার শহীদুল ইসলাম’ নামে দুইটি ডিলার পয়েন্টে ট্রাক থেকে ইউরিয়া নামানো হচ্ছে বলে গোপন তথ্য পাওয়া যায়। এই তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।
কৃষি কর্মকর্তার মতে, আসল পরিকল্পনা ছিল আশুগঞ্জ সার কারখানা থেকে পূর্ণ ট্রাকগুলো শেরপুরের ঝিনাইগাতী বাফার জোন পয়েন্টে পৌঁছে দেওয়া। তবে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, ঝিনাইগাতীর কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয় করে সেগুলো নকলা ডিলার পয়েন্টে সরানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
বর্তমানে জব্দকৃত দুইটি ট্রাক নকলা থানা হেফাজতে রয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান। ডিলারদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া হলেও তারা তা উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়।
ডিলার পক্ষের দাবি অনুযায়ী, তারা ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) অনুসারে বৈধভাবে সার ক্রয় করেছে এবং নিয়ম মেনে তা নামাচ্ছিল। তবে এই দাবির বিপরীতে, নকলা থানার ওসি রিপন চন্দ্র গোপ জানিয়েছেন যে নকলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সারসহ ট্রাকগুলো থানা হেফাজতে হস্তান্তর করেছেন।
নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম উল্লেখ করেন, “বাফার জোন আমাদের সরাসরি নিয়ন্ত্রণাধীন নয়, তবে সারের বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী ও অবৈধ মজুতদারদের এমন কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না।” তিনি আরও জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং সোমবার ঢাকা থেকে একটি তদন্ত টিম আসবে।
তদন্ত টিমের উপস্থিতির পরই পরবর্তী পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বর্তমানে জব্দকৃত ইউরিয়া সারের পরিমাণ ও অবস্থা সংরক্ষণে রাখা হয়েছে, এবং সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়া অনুসারে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনা কৃষি সেক্টরে কৃত্রিম সংকটের সম্ভাবনা তুলে ধরেছে, যেখানে অবৈধ মজুতদাররা বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ ও তদন্তের মাধ্যমে এ ধরনের অনিয়ম রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
অধিক তথ্যের জন্য নকলা থানা ও উপজেলা প্রশাসনকে যোগাযোগ করা যেতে পারে।



