দিনাজপুর সদর উপজেলা হলরুমে আজ সোমবার বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমমুক্তি নিয়ে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভা বিশ্ব ভিশন বাংলাদেশের দিনাজপুর এপি (অঞ্চলিক প্রকল্প) এর উদ্যোগে আয়োজিত এবং বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমমুক্ত দিনাজপুর সদর উপজেলাকে আদর্শ উপজেলা হিসেবে ঘোষণার প্রস্তুতি হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে দিনাজপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা তমালিকা পাল উপস্থিত ছিলেন। তিনি সভার উদ্বোধনের পর বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমকে সামাজিক ব্যাধি হিসেবে উল্লেখ করে, এ ধরনের অনুশীলন বন্ধের জন্য সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
সভার সভাপতিত্ব করেন বিশ্ব ভিশন বাংলাদেশের দিনাজপুর কো-অর্ডিনেশন অফিসের সিনিয়র ম্যানেজার সেবাস্টিয়ান পিউরিফিকেশন। তিনি সকল অংশগ্রহণকারীকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে, আগামী জুলাই মাসে দিনাজপুর সদর উপজেলাকে বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমমুক্ত ঘোষণা করার লক্ষ্যে অঙ্গীকার গ্রহণের কথা জানান।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা মতামত প্রকাশ করেন। খ্রিস্টান ধর্মের প্রতিনিধি সিস্টার জোসতিনা খালকো উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে শিশুদের অধিকার রক্ষার গুরুত্ব উল্লেখ করেন।
ফাজিলপুর ইউনিয়নের ধর্মীয় নেতা মো. নুরুল ইসলামও বক্তব্য রাখেন। তিনি ইসলামী শিক্ষা ও সামাজিক নৈতিকতার ভিত্তিতে বাল্যবিবাহের বিরোধিতা করে, পরিবারকে সচেতন করার আহ্বান জানান।
সুন্দরবন ইউনিয়নের হিন্দু ধর্মীয় নেতা দ্বিজেন্দ্র নাথ রায়ও অংশ নেন। তিনি হিন্দু ধর্মের শৈশবের পবিত্রতা ও শিক্ষার অধিকারকে তুলে ধরে, শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা নিতে উৎসাহ দেন।
উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের প্রতিনিধি মো. আনোয়ার হোসেনও উপস্থিত ছিলেন। তিনি অবকাঠামো উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে শিশুশ্রমের বিকল্প প্রদান করার প্রস্তাব দেন।
প্রোগ্রাম অফিসার ভিক্টোরিয়া বিশ্বাস শিক্ষাক্ষেত্রে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য প্রশিক্ষণ কর্মশালার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তিনি শিক্ষকদের ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে তথ্য শেয়ার করার গুরুত্ব উল্লেখ করেন।
স্পন্সরশিপ ও চাইল্ড প্রোটেকশন অফিসার পেট্রিক রুরাম শিশু সুরক্ষার নীতি বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর কথা বলেন। তিনি বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় শিশুশ্রমের ঝুঁকি কমাতে আর্থিক সহায়তা ও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা প্রস্তাব করেন।
সভাপতি সেবাস্টিয়ান পিউরিফিকেশন শেষ পর্যায়ে উল্লেখ করেন, “ধর্মীয় নেতা, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সব স্তরের মানুষকে একত্রে নিয়ে আমরা জুলাই মাসে দিনাজপুর সদর উপজেলাকে বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমমুক্ত ঘোষণা করার লক্ষ্য অর্জন করব।” এই অঙ্গীকারের ভিত্তিতে পরবর্তী মাসে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হবে।
শিক্ষা ক্ষেত্রের দৃষ্টিকোণ থেকে এই উদ্যোগের তাৎপর্য বিশেষ। বিদ্যালয়গুলোতে বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমের ঝুঁকি সনাক্ত করে দ্রুত হস্তক্ষেপ করা সম্ভব হবে। এছাড়া, শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প দক্ষতা প্রশিক্ষণ ও আয়োজিত কর্মশালার মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।
অবশেষে, পাঠকদের জন্য ব্যবহারিক পরামর্শ প্রদান করা যায়: পরিবারে শিশুদের শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে নিয়মিত আলোচনা করুন, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনে অংশ নিন, এবং যদি কোনো শিশুকে বাল্যবিবাহ বা শিশুশ্রমের ঝুঁকিতে দেখতে পান তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করুন। এই ধরনের সক্রিয় পদক্ষেপই সমাজকে বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমমুক্ত করার পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।



