ঢাকা হাইকোর্টের দুই বিচারক, জাস্টিস আহমেদ সোহেল ও জাস্টিস ফাতেমা আনোয়ার, একটি পাবলিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশন (পিআইএল) এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছেড়ে দেওয়া ডিপ টিউব‑ওয়েল গর্তগুলো বন্ধ করার নির্দেশ দেন।
পিটিশনটি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোঃ মনির উদ্দিন দাখিল করেন, যেখানে তিনি শিশুদের গর্তে পড়ে মৃত্যুর ঘটনা তুলে ধরেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান।
পিটিশনের সংযুক্ত রিপোর্টে ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে ঢাকার শাহজাহানপুর এলাকায় জিহাদ নামের একটি শিশুর গর্তে পড়ে মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ রয়েছে।
এরপর ২০২৫ সালের ১০ই ডিসেম্বর রাজশাহীর তানোরে উপজেলা থেকে সজিদ নামের আরেকটি শিশুর একই ধরনের গর্তে পড়ে মারা যাওয়ার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
সর্বশেষে জানুয়ারি ২০২৬-এ চট্টগ্রামের রাওজান উপজেলায় আরেকটি ডিপ টিউব‑ওয়েল গর্তে শিশুর মৃত্যু ঘটেছে, যা পিটিশনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পিটিশনকারী এই ঘটনাগুলোকে ভিত্তি করে আদালতকে অনুরোধ করেন, যাতে দেশের সব পরিত্যক্ত ডিপ টিউব‑ওয়েল গর্তের তালিকা তৈরি করে সেগুলো দ্রুত বন্ধ করা যায়।
হাইকোর্টের বেঞ্চ এই অনুরোধকে স্বীকার করে, সংশ্লিষ্ট সরকারী বিভাগগুলোকে গর্তগুলো পূরণ বা নিরাপদে বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।
আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় সরকার ও গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা ওয়াসা এই কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে তিন মাসের মধ্যে একটি সম্মতি প্রতিবেদন দাখিল করবে।
প্রতিবেদনটিতে গর্তের সংখ্যা, অবস্থান, বন্ধ করার পদ্ধতি এবং সম্পন্ন হওয়া কাজের বিবরণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
মন্ত্রণালয় ও ঢাকা ওয়াসা উভয়ই এখন থেকে গর্ত শনাক্তকরণ, মানচিত্রায়ন এবং পূরণ কাজের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট ও কর্মশক্তি নিশ্চিত করতে হবে।
এই নির্দেশনা অনুসরণে স্থানীয় প্রশাসনগুলোকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় এবং অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধ করা যায়।
অধিকন্তু, আদালত উল্লেখ করেছেন যে তিন মাসের মধ্যে সম্মতি প্রতিবেদন না দিলে অতিরিক্ত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।
এই আদেশের মাধ্যমে সরকারকে ডিপ টিউব‑ওয়েল গর্তের নিরাপত্তা বিষয়ক নীতি পুনর্বিবেচনা করতে এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই সমাধান গড়ে তুলতে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।
শিশুদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উচ্চ আদালতের এই পদক্ষেপটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সমানভাবে প্রয়োগ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



