32.7 C
Dhaka
Monday, February 23, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিনরেন্দ্র মোদি ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নতুন হেক্সাগন জোটের পরিকল্পনা ঘোষণা

নরেন্দ্র মোদি ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নতুন হেক্সাগন জোটের পরিকল্পনা ঘোষণা

ইজরায়েলি সরকারের প্রধানমন্ত্রীর বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রবিবার নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একটি নতুন আঞ্চলিক জোট গঠনের পরিকল্পনা প্রকাশ করেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের উগ্র শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে একটি সুরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তিনি ইসরায়েলি সরকারের ইরান‑নেতৃত্বাধীন শিয়া অক্ষ এবং উর্ধ্বমুখী উগ্র সুন্নি অক্ষকে প্রধান হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেন।

নেতানিয়াহু জোটকে “হেক্সাগন” বা ষড়ভুজাকৃতির গঠন বলে বর্ণনা করেন, যেখানে ভারতকে মূল অংশীদার হিসেবে স্থাপন করা হবে। ভারতের পাশাপাশি গ্রিস, সাইপ্রাস এবং এশিয়া, আফ্রিকা ও আরব বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশকে এই জোটের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যাদের ইজরায়েলি সরকারের সঙ্গে সমমনা নীতি রয়েছে।

হেক্সাগনের মূল উদ্দেশ্য দুইটি শক্তির বিরুদ্ধে সমন্বিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা: প্রথমত, ইরান‑নেতৃত্বাধীন শিয়া অক্ষ, যা হিজবুল্লাহসহ বিভিন্ন শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত; দ্বিতীয়ত, বর্তমানে উর্ধ্বমুখী উগ্র সুন্নি অক্ষ, যার সুনির্দিষ্ট পরিচয় এখনও স্পষ্ট নয়। নেতানিয়াহু উল্লেখ করেন, এই দুই অক্ষই ইজরায়েলি সরকারের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য সরাসরি হুমকি।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই উদ্যোগের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করে, তিনি এক বিবৃতিতে ভারত ও ইজরায়েলি সরকারের মধ্যে উদ্ভাবন, বিশ্বাস এবং অগ্রগতির মজবুত বন্ধনকে জোর দিয়ে বলেন যে এই বন্ধনকে তিনি উচ্চ গুরুত্ব দেন। মোদি ইসরায়েল সফরের সময় হেক্সাগনের বিশদ আলোচনা করার ইঙ্গিত দেন এবং দুই দেশের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতি দেন।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, গাজা যুদ্ধের সূচনা থেকে ইজরায়েলি সরকার ইরান‑সমর্থিত হিজবুল্লাহসহ শিয়া গোষ্ঠীর ক্ষমতা হ্রাসের জন্য নানা কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে আসছে। হেক্সাগন জোটের পরিকল্পনা এই কৌশলকে আরও বিস্তৃত করে, যাতে ইজরায়েলি সরকারের পাশাপাশি তার মিত্র দেশগুলোও সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে।

নেতানিয়াহু “উগ্র সুন্নি অক্ষ” শব্দটি ব্যবহার করার পরেও তিনি কোন দেশ বা গোষ্ঠীকে এটির অন্তর্ভুক্ত করেছেন তা স্পষ্ট করেননি। তবে পূর্বে তিনি মুসলিম ব্রাদারহুডকে প্রধান শত্রু হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা ইজরায়েলি সরকারের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ইজরায়েলি সরকার এবং তুরস্ক ও সৌদি আরবের মতো বড় সুন্নি দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে অবনতি ঘটেছে। গাজায় চলমান হত্যাযজ্ঞের পর সৌদি আরব ইজরায়েলি সরকারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলেছে এবং আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়াটিও এখন ঝুঁকির মুখে। এই পরিস্থিতি ইজরায়েলি সরকারের জন্য নতুন কূটনৈতিক বিকল্প খোঁজার প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে।

হেক্সাগন জোটের ধারণা তাই ইজরায়েলি সরকার ও ভারতের মতো স্থিতিশীল মিত্রদের সঙ্গে একটি কৌশলগত সমন্বয় তৈরি করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। উভয় দেশের নেতারা জোটের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করবেন বলে জানান।

অবশেষে, নরেন্দ্র মোদির ইজরায়েল সফর এই নতুন জোটের কাঠামো নির্ধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠবে। উভয় দেশই হেক্সাগনের বাস্তবায়ন পরিকল্পনা, সদস্য দেশ নির্বাচন এবং যৌথ নিরাপত্তা উদ্যোগের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। এই উদ্যোগের সফলতা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিবেশে নতুন ভারসাম্য গড়ে তুলতে পারে এবং উভয় দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments