ইউরোপীয় কমিশন রোববার জানিয়েছে যে, মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক বাতিলের রায়ের পর, মার্কিন সরকারকে গত বছর স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র‑ইইউ বাণিজ্য চুক্তির সব শর্ত পূর্ণভাবে মেনে চলতে হবে। কমিশন দাবি করেছে যে, ওয়াশিংটনকে আদালতের আদেশের পরিক্রমা সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে।
কমিশনের মতে, চুক্তিতে উভয় পক্ষের সম্মত “ন্যায্য, সুষম ও পারস্পরিক লাভজনক” ট্রান্সআটলান্টিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নীতি এখন বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে। যদিও বর্তমান পরিস্থিতি চুক্তির মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, তবে চুক্তি একবার স্বাক্ষরিত হলে তা রদ করা যায় না।
এই বার্তাটি পূর্বের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ার তুলনায় বেশি কঠোর স্বরে প্রকাশিত হয়েছে। রায়ের পরই ইইউয়ের নির্বাহী বিভাগ প্রথমে উল্লেখ করেছিল যে, তারা সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের প্রভাব বিশ্লেষণ করছে এবং মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখবে।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্র‑ইইউ বাণিজ্য চুক্তিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অধিকাংশ পণ্যের ওপর ১৫% মার্কিন শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। তবে ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি নির্দিষ্ট খাতে আলাদা শুল্ক ব্যবস্থা ছিল, যা ঐ ১৫% শুল্কের বাইরে ছিল। চুক্তির অধীনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিমান ও খুচরা যন্ত্রাংশের মতো পণ্যগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
এর বিনিময়ে ইইউ যুক্তরাষ্ট্রের বহু পণ্যের আমদানি শুল্ক হ্রাস করতে সম্মত হয়েছিল এবং উচ্চতর শুল্ক আরোপের হুমকি প্রত্যাহার করেছিল। এই পারস্পরিক সুবিধা চুক্তির মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।
ইউরোপীয় কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, প্রতিযোগিতামূলক ক্ষেত্রে ইইউ পণ্যের সুবিধা বজায় রাখতে হবে এবং পূর্বে নির্ধারিত শুল্কের সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম করা যাবে না। শুল্কের অনিশ্চয়তা বিশ্ববাজারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে এবং বিনিয়োগকারীর আস্থা হ্রাস করতে পারে, এ বিষয়ে কমিশন সতর্ক করেছে।
বাণিজ্য নীতি নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি, ইইউ বাণিজ্য কমিশনার মারোস শেফকোভিচ শনিবার মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রির এবং বাণিজ্য মন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। আলোচনায় উভয় পক্ষ চুক্তির কার্যকরী বাস্তবায়ন এবং শুল্ক সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা দূর করার উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেছে।
মার্কিন সরকারকে এখন স্পষ্টভাবে জানাতে হবে যে, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর কোন নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং চুক্তির শর্তাবলী কীভাবে রক্ষা করা হবে। ইইউ এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতির স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করছে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, শুল্ক নীতি পরিবর্তন হলে রপ্তানি-আমদানি প্রবাহে সরাসরি প্রভাব পড়বে, বিশেষ করে অটোমোবাইল, এয়ারক্রাফট এবং উচ্চ প্রযুক্তি পণ্যের ক্ষেত্রে। তাই উভয় পক্ষের দ্রুত ও স্বচ্ছ যোগাযোগ বাজারের অস্থিরতা কমাতে সহায়ক হবে।
ইইউ কমিশনের বার্তা স্পষ্ট করে যে, চুক্তির শর্তাবলী অমীমাংসিত রেখে কোনো একতরফা শুল্ক বৃদ্ধি করা যাবে না। এই অবস্থান আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংস্থার নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক।
শুল্ক সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা দূর করা এবং চুক্তির শর্তাবলী মেনে চলা উভয় পক্ষের জন্যই দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষার মূল চাবিকাঠি হবে। ইইউ এবং মার্কিন সরকার উভয়ই এই দিক থেকে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।



