ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের আর্মড ফোর্সেস ডিভিশনের অফিসে আজ সকাল ৯ টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত হন, যা তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো। এই সফর সরকার ও সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয় জোরদার করার লক্ষ্যে নির্ধারিত ছিল।
প্রধানমন্ত্রী পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে সেনাবাহিনীর তিনটি শাখার প্রধান তাকে স্বাগত জানিয়ে শোভাযাত্রা করেন। অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রীর আগমন সবার জন্য সম্মানজনক মুহূর্ত।
সাক্ষাৎকারের পর, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চিফ অব আর্মি স্টাফ জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ব্যাজ সমারোহে অংশ নেন। উভয়ই লেফটেন্যান্ট জেনারেল মির মুশফিকুর রহমান ও মোহাম্মদ কাইসার রশিদ চৌধুরীর পদবী ও র্যাঙ্কের ব্যাজ সজ্জিত করেন।
মির মুশফিকুর, যিনি চট্টগ্রামের ২৪তম ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের জি.ও.সি., গতকাল লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে উন্নীত হন এবং আর্মড ফোর্সেস ডিভিশনের পিএসও হিসেবে নিযুক্ত হন। এই পদোন্নতি তাকে সামরিক নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেবে।
অন্যদিকে, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ কাইসার রশিদ চৌধুরীকে নতুন জিএডিএফআই প্রধান হিসেবে ঘোষিত করা হয়। তাকে মেজর জেনারেল পদে উন্নীত করা হয় এবং আর্মি হেডকোয়ার্টার থেকে জিএডিএফআই সদর দফতরে স্থানান্তরিত করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর ডিফেন্স অ্যাডভাইজার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) একেএম শামসুল ইসলাম, নৌবাহিনীর চিফ অব নেভাল স্টাফ অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, এবং বিমানবাহিনীর চিফ অব এয়ার স্টাফ এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান উপস্থিত ছিলেন।
ডিফেন্স সেক্রেটারি মো. আশরাফ উদ্দিন, প্রেস সেক্রেটারি সালেহ শিবলি, অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমন এবং প্রাইভেট সেক্রেটারি-২ মো. মেহেদুল ইসলামও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতা চলাকালীন, উভয় পক্ষই দেশের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
অফিসে গমনটি সরকারী সূচিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং এটি সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে চলমান সমন্বয়ের একটি অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, এ ধরনের সফর নীতি-নির্ধারণে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে সহায়ক।
বিপক্ষের কিছু বিশ্লেষক এই পদক্ষেপকে সরকার-সশস্ত্র বাহিনীর সম্পর্ক দৃঢ় করার ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। তারা উল্লেখ করেন, এমন সমন্বয় ভবিষ্যতে নিরাপত্তা নীতি প্রণয়নে প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা দেশের নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে সিভিল-সেনা সম্পর্কের নতুন দিক নির্দেশক হিসেবে দেখছেন। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, এই ধরনের সংলাপ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
সামরিক ব্যাজ সমারোহের সময়, উপস্থিত কর্মকর্তারা নতুন পদোন্নতি ও নিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যৎ মিশন ও চ্যালেঞ্জের প্রস্তুতি সম্পর্কে আলোচনা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি ও ব্যাজ সমারোহের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মর্যাদা ও দায়িত্বের স্বীকৃতি প্রকাশ পায়। এই অনুষ্ঠানটি সামরিক শৃঙ্খলা ও শাসনব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয়কে দৃঢ় করে।
সফরের পর, প্রধানমন্ত্রীর দল অন্যান্য সরকারি দায়িত্বে ফিরে যায়, তবে এই সফরের ফলাফল ভবিষ্যৎ নীতি-নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
সামরিক ও নাগরিক প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে এ ধরনের নিয়মিত সফর গুরুত্বপূর্ণ বলে সরকারী সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
অধিকন্তু, নতুন জিএডিএফআই প্রধানের নিয়োগ গোপন তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই সফরটি দেশের নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে সিভিল-সেনা সংলাপের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই প্রথম অফিস ভিজিট এবং ব্যাজ সমারোহের মাধ্যমে সরকার ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাসের ভিত্তি আরও মজবুত হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, আজকের অনুষ্ঠানটি দেশের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নীতি সমন্বয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।



