প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার সকাল ৯টায় ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে অফিস করেন, যা তার সরকার গৃহীত দায়িত্বের পর এই বিভাগে প্রথম উপস্থিতি। অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনের মতে, প্রধানমন্ত্রীকে তিনটি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানগণ স্বাগত জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন।
সকালবেলায় প্রধানমন্ত্রীর আগমনের সঙ্গে সঙ্গে তিনি সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার‑উজ‑জামান, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁনের সঙ্গে হাতমিলেন এবং সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এই সাক্ষাৎকারে তিনবাহিনীর প্রধানগণ দেশের নিরাপত্তা নীতি ও সামরিক প্রস্তুতি সম্পর্কে সংক্ষিপ্তভাবে আলোচনা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর অফিসের পর তিনি তার ব্যক্তিগত চেম্বারে ফিরে যান, যেখানে দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী তিনি লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান ও মেজর জেনারেল কায়সার রশিদ চৌধুরীকে র্যাঙ্ক ব্যাজ প্রদান করেন। ব্যাজ প্রদান অনুষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হওয়ায় উভয় কর্মকর্তা নতুন পদবী ও দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন।
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. একেএম শামছুল ইসলাম, যিনি নিরাপত্তা নীতি সংক্রান্ত পরামর্শ প্রদান করেন। এছাড়া প্রতিরক্ষা সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন, প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম. ছালেহ, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব‑২ মো. মেহেদুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।
বিপক্ষের রাজনৈতিক দলগুলো এই সফরকে ঘনিষ্ঠ সিভিল‑মিলিটারি সম্পর্কের সূচক হিসেবে দেখেছে। বিরোধী দলগুলোর প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন যে, সরকারকে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখতে হবে এবং এই ধরনের সফরকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যবেক্ষণ করা উচিত।
বিপক্ষের মন্তব্যে বলা হয়, সরকারকে দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে পারদর্শিতা প্রদর্শনের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তারা আরও উল্লেখ করে, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সঙ্গে এই প্রথম অফিসের ফলে ভবিষ্যতে নীতি নির্ধারণে সামরিক পরামর্শের ভূমিকা বৃদ্ধি পেতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দেশের নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে সিভিল‑মিলিটারি সমন্বয়কে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া একটি পদক্ষেপ হিসেবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। সরকার এই ধরনের উচ্চস্তরের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করে নীতি বাস্তবায়নের গতি ত্বরান্বিত করতে চায়।
সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের কর্মচারীরা জানান, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি কর্মক্ষেত্রের মনোবল বৃদ্ধি করেছে এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামগুলোতে নতুন দিকনির্দেশনা আনতে পারে। তারা উল্লেখ করেন, এই ধরনের উচ্চস্তরের সফর কর্মীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেমের অনুভূতি জোরদার করে।
প্রধানমন্ত্রীর অফিসে ব্যাজ প্রদান অনুষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ায়, লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান ও মেজর জেনারেল কায়সার রশিদ চৌধুরীর নতুন পদবী অনুযায়ী দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়। উভয় কর্মকর্তা নতুন র্যাঙ্কের সঙ্গে সামরিক কৌশল ও প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা ত্বরান্বিত করার প্রতিশ্রুতি জানান।
এই সফরের পর, সরকার আগামী সপ্তাহে সামরিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আয়োজনের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। বৈঠকে দেশের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ, প্রশিক্ষণ উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক আলোচনা হবে বলে জানানো হয়েছে।
সামরিক বাহিনীর সঙ্গে এই প্রথম অফিসের ফলে, বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে সরকার ভবিষ্যতে নিরাপত্তা নীতি নির্ধারণে সামরিক পরামর্শকে আরও অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। তবে, তারা জোর দেন যে, সিভিল‑মিলিটারি সমন্বয়কে গণতান্ত্রিক তত্ত্বাবধানে রাখা জরুরি।
সারসংক্ষেপে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রথম অফিসটি দেশের নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে সিভিল‑মিলিটারি সমন্বয়কে দৃঢ় করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই সফর সরকার, সামরিক নেতৃত্ব এবং রাজনৈতিক বিরোধী দলের মধ্যে চলমান সংলাপের নতুন দিক উন্মোচন করেছে, যা ভবিষ্যৎ নীতি গঠনে প্রভাব ফেলবে।



