রবিবার রাত ১০টা অর্ধেকের দিকে ঢাকা শ্যামপুরের পোস্তগোলা এলাকায় ৩৫ বছর বয়সী আব্দুর রহিমকে চোর সন্দেহে পিটুনিতে গৃহীত করা হয়। রড চুরির অভিযোগে তাকে ধরার পর মারধর করা হয় এবং পরে হাসপাতালে ভর্তি করে সেখানেই মৃত্যু ঘটে।
অভিযোগের ভিত্তি ছিল বিআইডব্লিউটিএর (বিডি ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশন) একটি প্রকল্পে রড চুরি। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, রড চুরির সময় সন্দেহভাজনকে হাতেনাতে ধরা হয় এবং শারীরিক সহিংসতার শিকার করা হয়।
পোস্তগোলার বাসিন্দারা ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে অবহিত করে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আব্দুর রহিমকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোরে মৃত্যুবরণ করেন।
শ্যামপুর জোনের সহকারী কমিশনার মো. সরাফত উল্লাহ জানান, “বিআইডব্লিউটিএর প্রকল্পে চুরির সময় ওই যুবককে হাতেনাতে ধরা হয়। তাকে মারধর করা হয়েছে, আবার সেখানে লোহালক্করের বিষয় রয়েছে, নিজে থেকেও পড়ে গিয়ে আহত হতে পারে। তার কাছ থেকে চুরির কিছু মাল পাওয়া গেছে, ১৫ পিস ইয়াবাও পাওয়া গেছে।” এই বিবৃতি থেকে জানা যায় যে শারীরিক আঘাতের পাশাপাশি চুরির প্রমাণও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের মতে, পিটুনির সময় শারীরিক আঘাতের পাশাপাশি লোহালক্করের গর্তে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় আহত হওয়া স্বাভাবিক। তবে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি দ্রুত ঘটায়, যা শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
হাসপাতালের মর্গে আব্দুর রহিমের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের ফলাফল এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী চুরির অভিযোগে রাত্রি ১০টার দিকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
মামলাটি একই রাতে দায়ের হওয়ায়, পুলিশ এখন পর্যন্ত প্রমাণ সংগ্রহ ও সাক্ষী সংগ্রহে মনোনিবেশ করেছে। সরাফত উল্লাহ উল্লেখ করেন, “মৃত্যু ঘটার পর তদন্ত চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” তিনি আরও জানান, তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী অপরাধীকে আইনি শাস্তি দেওয়া হবে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখছে। তারা জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে প্রকল্পের নিরাপত্তা তদারকি বাড়ানো হবে।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় সম্প্রদায়ে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পরিবার ও প্রতিবেশীরা শোক প্রকাশের পাশাপাশি পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে। তবে একই সঙ্গে তারা চোরাচালান ও সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা চেয়েছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, চুরি সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে গৃহীত পিটুনি এবং তার পরবর্তী মৃত্যু আইনগত দায়বদ্ধতার প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো দায়িত্ব স্বীকার করেনি, তবে তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সতর্কতা অবলম্বন করতে এবং আইনগত প্রক্রিয়ার যথাযথ অনুসরণ নিশ্চিত করতে আহ্বান জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতা রোধে যথাযথ নিরাপত্তা ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।



