32.7 C
Dhaka
Monday, February 23, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিপ্রেসিডেন্ট শাহাবুদ্দিনের ইন্টারিম সরকারে যোগাযোগের অভাবের অভিযোগ

প্রেসিডেন্ট শাহাবুদ্দিনের ইন্টারিম সরকারে যোগাযোগের অভাবের অভিযোগ

প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন ২০ ফেব্রুয়ারি বাংলা ভবনে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ইন্টারিম সরকারকালীন সময়ে ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে সংবিধানিক যোগাযোগের অভাব নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, প্রাক্তন চিফ অ্যাডভাইজার ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস বিদেশ ভ্রমণকালে কোনো লিখিত প্রতিবেদন বা মুখোমুখি সাক্ষাৎ করেননি। এই ঘাটতি সংবিধানের ধারার লঙ্ঘন হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রেসিডেন্ট শাহাবুদ্দিনের মতে, চিফ অ্যাডভাইজার বিদেশে যাওয়ার পর প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ভ্রমণের ফলাফল লিখিতভাবে জানাতে বাধ্য। তবে ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস ১৪‑১৫ বার বিদেশে গেছেন, তবু একবারও এই দায়িত্ব পালন করেননি। তিনি কোনো সময় প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করেননি, যা সংবিধানিক বাধ্যবাধকতার সরাসরি লঙ্ঘন।

বহিরাগত সফরের তথ্যের অভাবে প্রেসিডেন্ট শাহাবুদ্দিন নিজেও দুইটি পরিকল্পিত ভ্রমণ—কসোভো ও কাতার—বাতিলের মুখোমুখি হন। তিনি বলেন, এই সফরগুলো ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসের কোনো অনুমোদন বা তথ্যবহির্ভূত না থাকায় বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রেসিডেন্টকে অন্ধকারে রাখা হয়।

প্রেসিডেন্ট শাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেন, ইন্টারিম সরকারকালে ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে একটিও ফোন কল হয়নি। তিনি বলেন, ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসের কোনো পক্ষপাতিত্ব না থাকলেও, প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে কোনো সহায়তার অনুরোধও করা হয়নি। এই পরিস্থিতি উভয়ের মধ্যে কোনো সরাসরি যোগাযোগের অনুপস্থিতি নির্দেশ করে।

দূতাবাস ও কূটনৈতিক বৃত্তের প্রতিক্রিয়াও প্রেসিডেন্টের কথা সমর্থন করেছে। শাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেন, কূটনৈতিক সম্প্রদায় সংবিধানবিরোধী পদক্ষেপে প্রেসিডেন্টকে অপসারণের বিরোধিতা করেছে, যা তিনি “বড় শক্তি” হিসেবে বর্ণনা করেন। এই সমর্থন ইন্টারিম সরকারের সময়কালে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছিল।

২০২৪ সালের ব্যাপক উত্থানের পর থেকে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে অপসারণের প্রচেষ্টা বারবার দেখা যায়। শাহাবুদ্দিন জানান, এক সময় এমন একটি ষড়যন্ত্র গড়ে তোলা হয়েছিল যে, প্রাক্তন চিফ জাস্টিসকে নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ করা হবে। তবে সংশ্লিষ্ট বিচারক সংবিধানিক সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

অক্টোবর ২২, ২০২৪-এ বাংলা ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদকে প্রেসিডেন্ট শাহাবুদ্দিন “ভয়ানক রাত” বলে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, ভিড় সংগঠিত হয়ে প্রেসিডেন্টের বাসভবন লুটের চেষ্টা করেছিল, যা শেষ পর্যন্ত সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপে নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। এই ঘটনা দেশের নিরাপত্তা ও শাসনব্যবস্থার উপর গভীর প্রভাব ফেলেছে।

প্রেসিডেন্টের মতে, সামরিক তহবিলের দ্রুত মোতায়েনের ফলে বিশৃঙ্খলা দ্রুত থেমে যায় এবং শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়। তবে তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের অস্থিরতা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও শাসন কাঠামোর ওপর প্রশ্ন তুলতে পারে।

ইন্টারিম সরকারকালে ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে সংবিধানিক যোগাযোগের অভাব, বিদেশি সফরের তথ্যের অস্বচ্ছতা এবং প্রেসিডেন্টের পদ থেকে অপসারণের প্রচেষ্টা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে জটিল করে তুলেছে। শাহাবুদ্দিনের বক্তব্য অনুযায়ী, এই বিষয়গুলো ভবিষ্যতে সংবিধানিক নীতি ও শাসন প্রক্রিয়ার পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।

বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, প্রেসিডেন্টের এই প্রকাশনা ইন্টারিম সরকারের সময়কালের অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও ক্ষমতার লড়াইকে উন্মোচন করেছে। ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসের ভূমিকা ও দায়িত্বের পুনর্মূল্যায়ন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

অবশেষে, প্রেসিডেন্ট শাহাবুদ্দিনের এই বিবৃতি দেশের শাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও সংবিধানিক নীতির প্রতি জনসাধারণের আস্থা পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ভবিষ্যতে সরকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে যোগাযোগের পদ্ধতি ও দায়িত্ববোধের পুনঃনির্ধারণের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments