স্থানীয় সরকার বিভাগের গেজেটের মাধ্যমে গতকাল প্রকাশিত নোটিশে জানানো হয়েছে যে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, খুলনা সিটি কর্পোরেশন, সিলেট সিটি কর্পোরেশন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এবং গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের জন্য নতুন প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। এই নিয়োগ ২০২৪ সালের স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (সংশোধনী) আদেশের ধারা ২৫এ (১) অনুযায়ী করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্পোরেশনগুলো পুনর্গঠন না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
পূর্বে অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রশাসক হিসেবে ব্যুরোক্রেটিক কর্মী নিযুক্ত হতেন, তবে এইবার সরকার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে প্রশাসক হিসেবে বেছে নিয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক পদে মোঃ আবদুস সালামকে এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের জন্য মোঃ শফিকুল ইসলাম খানকে নির্ধারিত করা হয়েছে। উভয়ই পূর্বে স্থানীয় রাজনৈতিক কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন এবং এখন মেয়রের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নাজরুল ইসলাম মঞ্জুকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ক্ষেত্রে আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীকে প্রশাসক পদে স্থাপন করা হয়েছে। উভয়ই সংশ্লিষ্ট শহরের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সেবা প্রদান তদারকি করবেন এবং মেয়রের সকল ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারবেন।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের জন্য এসএম শাখাওয়াত হোসেনকে এবং গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের জন্যও এসএম শাখাওয়াত হোসেনকে প্রশাসক হিসেবে ঘোষিত করা হয়েছে। যদিও নাম একই, তবে দুজনই ভিন্ন ব্যক্তিত্ব এবং প্রত্যেকের নিজস্ব রাজনৈতিক পটভূমি রয়েছে। তারা মেয়রের দায়িত্বে থাকা সময়কালে কর্পোরেশনের আর্থিক, প্রশাসনিক ও সেবা সংক্রান্ত কাজের তদারকি করবেন।
আদেশের ধারা ২৫এ (৩) অনুসারে এই নতুন প্রশাসকরা মেয়রের সকল ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালন করবেন এবং তাদের বেতন ও ভাতা সংশ্লিষ্ট নিয়মাবলী অনুযায়ী প্রদান করা হবে। এই ব্যবস্থা কর্পোরেশনগুলোকে নেতৃত্বহীন অবস্থায় থেকে রক্ষা করবে এবং সেবা প্রদান অব্যাহত রাখবে।
প্রশাসকরা মেয়রের শূন্যতা পূরণ করার পাশাপাশি নির্বাচনী মেয়র নির্বাচনের প্রস্তুতি পর্যন্ত কর্পোরেশনের দৈনন্দিন কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। নির্বাচনের সময়সূচি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত এই প্রশাসকরা আইনগতভাবে মেয়রের পূর্ণ ক্ষমতা ব্যবহার করবেন, যা শহরের অবকাঠামো ও জনসেবা প্রকল্পে কোনো ধীরগতি না ঘটাতে সহায়তা করবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই পদক্ষেপকে সরকারী নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করার একটি কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন, তবে বিরোধী দলগুলো স্বচ্ছতা ও স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্ন তুলতে পারে। আগামীতে যদি নির্বাচনী প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, তবে নতুন মেয়র নির্বাচিত হয়ে প্রশাসকদের দায়িত্ব থেকে সরে যাবে এবং শহরের শাসন পুনরায় নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ফিরে আসবে।



