চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় রোববার সন্ধ্যা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চালানো এক ব্যাপক অভিযানে মোট একুশ তরুণ-কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ দাবি করে যে, গ্রেফতারকৃতদের ‘কিশোর গ্যাং’এর সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অভিযানের নেতৃত্ব দেন চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসিআই মো. ফয়েজ আহমেদ।
অভিযানটি রোববার সন্ধ্যা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই সময়সীমার মধ্যে তারা শহরের প্রধান জনসাধারণের স্থানগুলোতে গ্যাং সন্দেহভাজনদের অনুসন্ধান চালিয়ে গ্রেফতার নিশ্চিত করে।
অভিযানের নির্দেশনা প্রদান করেন শহরের সুপারিনটেনডেন্ট (এসপি) মো. রবিউল হাসান। তিনি গ্যাং সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের পর পুলিশকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন।
গ্রেফতারকৃতদের সন্ধান করা হয় হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, লেকেরপাড়, স্টেডিয়াম রোড, মাদ্রাসা রোড, পৌর পার্ক, কবরস্থান রোড এবং প্রেসক্লাব রোডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে। এই এলাকাগুলোতে গ্যাং সদস্যদের চলাচল ও সমাবেশের সন্দেহ ছিল।
মোট একুশ জনকে থানায় নিয়ে আসা হয়। তাদের মধ্যে বেশ কিছুকে গ্যাংয়ের মূল সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে গ্যাংয়ের কাঠামো ও কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য আলাদা আলাদা প্রশ্নোত্তর সেশন চালানো হয়।
নাম প্রকাশিত ব্যক্তিরা হলেন আসিফ (২৩ বছর), সাফিন (১৯ বছর), হামিম (১৯ বছর), রোকন (১৮ বছর), আবরা (১৮ বছর), দ্বিন ইসলাম (১৮ বছর), মিহাম (১৮ বছর) ও শাফিউন (১৮ বছর)। এই আটজনের বয়স গ্যাংয়ের মূল কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে ধারণা করা হয়।
অবশিষ্ট গ্রেফতারকৃতদের বয়স ১৪ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। তাদেরও গ্যাংয়ের সহায়ক বা সহচর হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের বয়সের পার্থক্য বিবেচনা করে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন পরিদর্শক (তদন্ত) মিন্টু দত্ত, এসআই ফেরদৌস নূর, এসআই বিল্লাল হোসেন, নাজমুল হোসেন, মোখলেছ, কালাম গাজী এবং নূরুল আলম সহ অন্যান্য পুলিশ সদস্য। সকল কর্মকর্তাই গ্রেফতার প্রক্রিয়ার সঠিকতা ও আইনি মানদণ্ড বজায় রাখতে সমন্বিতভাবে কাজ করেন।
ওসি ফয়েজ আহমেদ জানান, গ্রেফতারকৃতদের পরিচয় যাচাই এবং গ্যাংয়ের সঙ্গে তাদের সংযোগ স্থাপন করার পর প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তদন্ত চলাকালীন কোনো অতিরিক্ত প্রমাণ সংগ্রহ করা হলে তা আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে গ্যাং সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগ প্রয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। যদি প্রমাণ যথেষ্ট প্রমাণিত হয়, তবে তারা গ্যাং সদস্যত্ব, অবৈধ সমাবেশ এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা হুমকির অভিযোগে দায়ী করা হতে পারে।
আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে, গ্রেফতারকৃতদের আদালতে হাজির করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণভিত্তিক অভিযোগ দায়ের করা হবে। সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে প্রয়োজনীয় রিজার্ভেশন ও শর্তাবলী নির্ধারিত হলে, তাদের জেলখানা বা রেহাই ব্যবস্থা নির্ধারিত হবে।
চাঁদপুরে গ্যাং সংক্রান্ত অপরাধ দমন করার লক্ষ্যে গৃহীত এই পদক্ষেপটি স্থানীয় নিরাপত্তা বজায় রাখতে সহায়ক বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে এ ধরনের গ্যাং কার্যক্রমের পুনরাবৃত্তি রোধে তদারকি ও নজরদারি বাড়িয়ে চলবে।



