29.8 C
Dhaka
Monday, February 23, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধনারায়ল সদর উপজেলায় গোষ্ঠী সংঘাতে চারজনের মৃত্যু

নারায়ল সদর উপজেলায় গোষ্ঠী সংঘাতে চারজনের মৃত্যু

নারায়ল সদর উপজেলা, সিংগাশোলপুর ইউনিয়নের বারাকুলা গ্রামে আজ প্রভাতের দিকে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে চারজনের প্রাণহানি ঘটেছে। স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি সকাল ৫টা ১৫ মিনিটের কাছাকাছি শুরু হয় এবং দ্রুতই রক্তপাতের দিকে অগ্রসর হয়।

মৃতদেহের মধ্যে রয়েছে ৩৮ বছর বয়সী খালিল মোল্লা, তার ২০ বছর বয়সী পুত্র তাহাজ্জুদ মোল্লা, প্রতিবেশী ৩৩ বছর বয়সী ফেরদৌস শেখ এবং ৩৫ বছর বয়সী ওসিকুর ফকির, সবাই বারাকুলা গ্রাম থেকে। পরিবারিক সম্পর্কের পাশাপাশি, সকলেরই স্থানীয় সমাজে পরিচিতি ছিল।

সংঘর্ষের সূচনা হয় বারাকুলা এলাকার প্রান্তে, যেখানে দুই গোষ্ঠীর সদস্যরা একে অপরের সঙ্গে মুখোমুখি হয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, খালিল মোল্লা ও খায়ের মোল্লা নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরে এলাকার আধিপত্য নিয়ে বিরোধে লিপ্ত। এই বিরোধের ফলে আজকের হিংসাত্মক মোকাবেলা ঘটেছে।

খায়ের মোল্লা গোষ্ঠীর কিছু সদস্য হঠাৎ করে আক্রমণ চালায় এবং শত্রু গোষ্ঠীর সদস্যদের ওপর তীব্র গুলিবর্ষণ করে। গুলির সঠিক দিকনির্দেশনা ও অস্ত্রের ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত এখনো তদন্তাধীন, তবে প্রাথমিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে আক্রমণটি পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছিল।

আক্রমণের ফলে তিনজন নিহত হয়现场েই, আর ওসিকুর ফকিরকে জরুরি সেবার মাধ্যমে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর ডাক্তারেরা তার শ্বাসরুদ্ধের কারণ নির্ণয় করে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেন। ফলে মোট চারজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে।

স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অতিরিক্ত পুলিশ দলকে এলাকায় মোতায়েন করে। গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে আরও কোনো সংঘাত রোধে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া, মৃতদেহের পরিচয় নিশ্চিত করার পরপরই পরিবারকে জানানো হয়েছে এবং শোক প্রকাশের জন্য স্থানীয় মসজিদে সমাবেশের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

গণপ্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা নারায়ল সদর থানা তদন্তকারী অফিসার ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দায়িত্বে আছেন। তিনি জানান, গোষ্ঠীর নেতৃত্বাধীন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। বর্তমানে গোষ্ঠীর সদস্যদের ওপর গ্রেফতার কার্যক্রম চালু রয়েছে।

আইনি দিক থেকে, মৃতদেহের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও শোকসন্তাপের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া, স্থানীয় প্রশাসন এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে।

এই ধরনের গোষ্ঠীভিত্তিক হিংসা স্থানীয় সমাজে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় নেতারা এবং ধর্মীয় গোষ্ঠীসমূহ শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে জনগণকে হিংসা থেকে দূরে থাকতে নির্দেশ দিচ্ছেন।

পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করছেন, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘাত রোধে সামাজিক সংলাপ ও সমাধানমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। ঘটনা সংক্রান্ত সকল তথ্য সংগ্রহের পর, সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলার দায়ের করা হবে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments