বঙ্গভবনে গত শুক্রবার রাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন একান্ত সাক্ষাৎকারে ১.৫ বছরের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি জানিয়ে বলেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে স্বাস্থ্যের উন্নতি অনুভব করছেন এবং কাজের চাপের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে তিনি উল্লেখ করেন, নিজেকে কোনো আলোচনার কেন্দ্রে না রাখলেও বিভিন্ন গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে চক্রান্তের লক্ষ্যবস্তু করা হয়। তিনি বলেন, দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের উদ্দেশ্যে বহু পরিকল্পনা গড়ে উঠেছিল, তবে সেসবের কোনোটিই সফল হতে পারেনি।
রাষ্ট্রপতি আরও জানান, এই সময়ে বাংলাদেশ সরকারকে লক্ষ্য করে কিছু গোষ্ঠী সংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন এবং কোনো ষড়যন্ত্রের ফলাফল দেখা যায়নি।
বঙ্গভবনের দিকে প্রতিবাদ ও মিছিলের খবরও উঠে এসেছে। রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকমের প্রতিবাদ ও হুমকি প্রকাশ পেয়েছে, তবে তিনি কোনো পরিস্থিতিতে ভেঙে পড়েননি। তিনি নিজের রক্তের দানকে দেশের স্বার্থে উৎসর্গ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং সংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
২২ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে বঙ্গভবনের ঘেরাও ঘটার সময়, বিভিন্ন অজানা গোষ্ঠী একত্রিত হয়ে সশস্ত্রভাবে প্রবেশের চেষ্টা করে। রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, এই গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে কিছু নাম উল্লেখযোগ্য হলেও, তারা মূলত ভিন্ন ভিন্ন ফোরাম ও ছদ্মনাম ব্যবহার করে কাজ করছিল।
ঘেরাওয়ের সময় সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশন থেকে বিশেষ ফোর্স মোতায়েন করা হয়। তিন স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয় এবং সশস্ত্র দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যক্রমের মধ্যে সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত ছিল।
রাষ্ট্রপতি বর্ণনা করেন, ঘেরাওয়ের সময় ফ্লাইওভার, ট্রাক, ভ্যান ইত্যাদি বিভিন্ন যানবাহন দিয়ে বিশাল সংখ্যক লোকজন সমাবেশ করে। কিছু অংশে অশান্তি বৃদ্ধি পায় এবং সশস্ত্র সংঘর্ষের ঝুঁকি দেখা দেয়। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।
এই ঘটনায় ব্যবহৃত কিছু সরঞ্জাম ও কৌশলকে তিনি ‘ভাড়াটিয়া’ হিসেবে উল্লেখ করেন, যা স্বল্প সময়ের জন্য গৃহীত হয়েছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের অস্থায়ী ও অপ্রতিষ্ঠিত গোষ্ঠীর কার্যকলাপ দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য হুমকি স্বরূপ।
সাক্ষাৎকারের শেষে রাষ্ট্রপতি পুনরায় সংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, আল্লাহর ইচ্ছা এবং নিজের দৃঢ়সংকল্পের ভিত্তিতে তিনি দেশের শাসনব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
বিশ্লেষকরা এই মন্তব্যকে বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখছেন। রাষ্ট্রপতির দৃঢ় অবস্থান এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সক্রিয় প্রতিক্রিয়া ভবিষ্যতে সম্ভাব্য বিরোধী গোষ্ঠীর কার্যক্রমকে সীমাবদ্ধ করতে পারে। তবে ঘেরাওয়ের সময় উত্থাপিত গোষ্ঠীর পরিচয় ও তহবিলের উৎস সম্পর্কে আরও তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।
বঙ্গভবনের ঘেরাও এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিশদ বিবরণ বাংলাদেশ সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে সহায়ক হবে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের এই প্রকাশনা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সংবিধানিক নীতির প্রতি তার অটল প্রতিশ্রুতি পুনরায় নিশ্চিত করেছে।



