ভারতে এই সপ্তাহে চার দিনব্যাপী AI Impact Summit অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যার লক্ষ্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক এআই বিনিয়োগ আকর্ষণ করা। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি ২৩ থেকে ২৬ তারিখ পর্যন্ত চলা এই ইভেন্টে এআই ল্যাব ও বিগ টেকের শীর্ষ নির্বাহীরা একত্রিত হচ্ছেন।
সমাবেশে প্রায় দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার দর্শকের উপস্থিতি প্রত্যাশিত, যা দেশের প্রযুক্তি ইকোসিস্টেমের জন্য বৃহৎ মঞ্চ তৈরি করবে। এই পরিমাণের অংশগ্রহণকারী দেশীয় স্টার্টআপ, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য নেটওয়ার্কিং ও জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ বাড়াবে।
সম্মেলনে ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক, এনভিডিয়া, মাইক্রোসফট, গুগল এবং ক্লাউডফ্লেয়ারসহ বহু গ্লোবাল টেক জায়ান্টের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও উচ্চপদস্থ নীতিনির্ধারকও অংশগ্রহণের জন্য আসেন, যা এআই নীতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আলোচনাকে ত্বরান্বিত করবে।
বিশেষভাবে গুগলের অ্যালফাবেট সিইও সুন্দর পিচাই, ওপেনএআই সিইও স্যাম অল্টম্যান, অ্যানথ্রপিক সিইও ডারিও আমোদেই, রিলায়েন্স চেয়ারম্যান মুখেশ অম্বানি এবং গুগল ডিপমাইন্ডের সিইও ডেমিস হ্যাসাবিস ইভেন্টে উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতি ইন্ডিয়ার এআই গবেষণা ও পণ্য উন্নয়নের প্রতি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নির্দেশ করে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমমানুয়েল ম্যাক্রঁ বৃহস্পতিবার একসাথে ভাষণ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। দু’জনের সমন্বিত বক্তব্য এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এআই সহযোগিতা ও নৈতিক ব্যবহারের দিক নির্দেশ করবে।
সমাবেশের এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণায় ‘Sarvam Kaze’ নামের নতুন পণ্য লঞ্চ করা হয়েছে, যা দেশীয়ভাবে ডিজাইন ও নির্মিত ডিভাইসে এআই মডেল চালানোর লক্ষ্য রাখে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে এআই প্রযুক্তি সরাসরি শেষ ব্যবহারকারীর হাতে পৌঁছাবে, যা স্থানীয় উৎপাদন ও সফটওয়্যার ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করবে।
স্যাম অল্টম্যান এই সুযোগে উল্লেখ করেন, মানবকে প্রশিক্ষণ দিতে প্রায় বিশ বছর সময় ও জীবনের সব খাবার প্রয়োজন, যা এআই মডেল প্রশিক্ষণের জটিলতা ও সম্পদ খরচের সঙ্গে তুলনা করে। তার এই মন্তব্য এআই গবেষণার উচ্চ শক্তি ব্যয় এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এর সীমাবদ্ধতা উন্মোচন করে।
‘গুরুত্বপূর্ণ’ শব্দটি এআই মডেলকে দেশের ডিভাইসে সংযুক্ত করার মাধ্যমে প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা বাড়াবে, স্থানীয় ডেটা সেন্টার ও ক্লাউড অবকাঠামোর চাহিদা বাড়াবে। ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি স্টার্টআপ ও বড় কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন ব্যবসায়িক মডেল গড়ে উঠবে।
সমাবেশের ত্রয়োদশ দিনে ‘মডেল, পণ্য, প্রভাব’ থিমের অধীনে বিশেষ সেশন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে পূর্বের দিনগুলোর তুলনায় ভিন্ন ও নতুন দৃষ্টিকোণ উপস্থাপিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা এআই প্রযুক্তির সামাজিক, অর্থনৈতিক ও নৈতিক প্রভাব নিয়ে গভীর আলোচনা করেন।
সারসংক্ষেপে, এই চার দিনের AI Impact Summit ভারতের এআই ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অবস্থানকে দৃঢ় করে তুলেছে এবং দেশীয় উদ্ভাবনকে গ্লোবাল মানদণ্ডে পৌঁছানোর পথ প্রশস্ত করেছে। ভবিষ্যতে এআই প্রযুক্তি কীভাবে দৈনন্দিন জীবনে সংহত হবে, তা নির্ধারণে এই সমাবেশের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



