29.8 C
Dhaka
Monday, February 23, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনরায়হান রাফীর ‘প্রেশার কুকার’ চলচ্চিত্রে চার নারী চরিত্রের গল্প

রায়হান রাফীর ‘প্রেশার কুকার’ চলচ্চিত্রে চার নারী চরিত্রের গল্প

ঢাকা ভিত্তিক পরিচালক রায়হান রাফীর নতুন চলচ্চিত্র ‘প্রেশার কুকার’ ঈদ‑উল‑ফিতরে মুক্তি পাবে বলে জানানো হয়েছে। ছবিতে শবনম বুবলী, নাজিফা তুষি, মারিয়া শান্ত এবং স্নিগ্ধা চৌধুরী প্রধান চরিত্রে অভিনয় করবেন। চলচ্চিত্রটি নারীর দৈনন্দিন জীবনের সীমাবদ্ধতা ও অদৃশ্য সংগ্রামকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে, যা শহরের গরম পরিবেশে নারীদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করবে।

রাফী সম্প্রতি দুইটি পোস্টার প্রকাশ করে ছবির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। উভয় পোস্টারেই চারজন নারী প্রধান চরিত্রের মুখোমুখি দৃশ্য দেখা যায়, যা দর্শকদের মধ্যে তীব্র কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। পোস্টারগুলোতে আধুনিক সাজসজ্জা ও আভিজাত্যপূর্ণ পোশাকের ছাপ স্পষ্ট, তবে চরিত্রগুলোর মুখে এক ধরনের রহস্যময়তা বজায় রয়েছে।

শবনম বুবলী, নাজিফা তুষি, মারিয়া শান্ত এবং স্নিগ্ধা চৌধুরী—এই চারজন অভিনেত্রীর নামই ছবির মূল আকর্ষণ। বুবলী তার স্বতন্ত্র হাসি ও অভিব্যক্তি দিয়ে চরিত্রে প্রাণ সঞ্চার করবেন, তুষি তার দৃঢ়চেতা স্বভাবের মাধ্যমে নারীর সংগ্রামকে তুলে ধরবেন। শান্তের কোমল স্বর ও সূক্ষ্ম অভিনয় শৈলী চরিত্রের অন্তর্নিহিত ব্যথাকে প্রকাশ করবে, আর চৌধুরীর তীক্ষ্ণ দৃষ্টিভঙ্গি ছবিতে অতিরিক্ত মাত্রা যোগ করবে।

রাফী উল্লেখ করেন, ঢাকা শহরটি নারীদের জন্য এক ধরনের ‘প্রেশার কুকার’ যেখানে সামাজিক প্রত্যাশা, পারিবারিক দায়িত্ব এবং কর্মক্ষেত্রের চাপে নারীরা নীরব কণ্ঠে সংগ্রাম করে। এই গরম পরিবেশে জমে থাকা নীরব আর্তনাদ সহ্য না করে, ছবির গল্পের সিটি (শহর) যেন গর্জন করে ওঠে। তিনি বলেন, এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে শহরের গোপন কষ্টকে দৃশ্যমান করতে চেয়েছেন।

চিত্রনাট্যটি বিশেষভাবে ঢাকা শহরের নারীদের প্রাত্যহিক জীবনের সীমাবদ্ধতা, অপ্রকাশিত কষ্ট এবং অদৃশ্য লড়াইকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। গল্পের কাঠামোতে নারীরা কীভাবে সামাজিক নিয়মের মধ্যে নিজেদের স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখে, তা সূক্ষ্মভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পুরুষ চরিত্রের অনুপস্থিতি ছবিটিকে সম্পূর্ণভাবে নারীর দৃষ্টিকোণ থেকে গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে, যা ঢালিউডের বাণিজ্যিক ধারার থেকে একটি উল্লেখযোগ্য বিচ্যুতি।

‘প্রেশার কুকার’ চলচ্চিত্রটি কানন ফিল্মস ও ইমপ্রেস টেলিফিল্মের যৌথ উদ্যোগে তৈরি হয়েছে। ফরিদুর রেজা সাগর ও রায়হান রাফী উভয়েই প্রযোজক হিসেবে কাজ করছেন, যেখানে রাফী একই সঙ্গে পরিচালক ও প্রযোজক উভয় ভূমিকায় রয়েছেন। এই সহযোগিতা ছবির গুণগত মান ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে সমৃদ্ধ করেছে।

চিত্রের ভিজ্যুয়াল দিকেও বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। চরিত্রগুলোর পোশাকের নকশা আধুনিক ও ঐতিহ্যবাহী উপাদানের সমন্বয়, যা দর্শকের চোখে তৎক্ষণাৎ আকর্ষণীয় হয়। সামাজিক মিডিয়ায় কিছু ব্যবহারকারী এই লুককে বলিউডের ‘হীরামান্ডি’ ছবির লুকের সঙ্গে তুলনা করেছেন, যদিও উভয়ের শৈলীর পার্থক্য স্পষ্ট।

চলচ্চিত্রের মুক্তির সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হলেও, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ঈদ‑উল‑ফিতরে দেশের বিভিন্ন থিয়েটারে প্রদর্শিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সময়কালে দর্শকরা নতুন ধরনের নারীর গল্প উপভোগ করার সুযোগ পাবে, যা সাধারণ বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের তুলনায় ভিন্ন দৃষ্টিকোণ প্রদান করবে।

‘প্রেশার কুকার’ চলচ্চিত্রটি নারীর স্বায়ত্তশাসন, গোপন সংগ্রাম এবং সামাজিক চাপের বিষয়গুলোকে সূক্ষ্মভাবে উপস্থাপন করে, যা সমসাময়িক সমাজে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সূচনা করতে পারে। দর্শকরা এই নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে ঢাকা শহরের নারীর জীবনকে নতুনভাবে উপলব্ধি করতে পারবেন।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments