৭ ফেব্রুয়ারি, হিমাচল প্রদেশের সেনাঘাঁটি বিমানবেসে একটি তেজস এক-সিটের যুদ্ধবিমান অবতরণকালে ব্রেকের ত্রুটির সম্মুখীন হয়। পাইলট ল্যান্ডিং গিয়ার ও ব্রেক ব্যবহার করার সময় সিস্টেম কাজ না করলে তৎক্ষণাৎ ক্যাবিন খুলে নিরাপদে লাফিয়ে বেরিয়ে যান। কোনো আহত বা মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি, তবে বিমানটি রানওয়ে থেকে ছিটকে দূরে পড়ে সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।
বিমানটি অবতরণকালে ব্রেক কাজ না করার ফলে স্কিডিং শুরু করে, পাইলট জরুরি অবস্থা বুঝে ক্যাবিনের দরজা খুলে বেরিয়ে যান। তার পরই বিমানটি রানওয়ে থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মাটিতে ধসে পড়ে, ফলে কাঠামোগত ক্ষতি এত বড় যে পুনরায় চালু করা সম্ভব নয় বলে অনুমান করা হচ্ছে।
এই দুর্ঘটনা তেজস সিরিজের তৃতীয় বড় ঘটনার সূচক। প্রথমটি মার্চ ২০২৪-এ রাজস্থানের জয়সালমেরের নিকটে ঘটেছিল, যেখানে বিমানটি ভেঙে পড়ে পাইলট নিরাপদে বেরিয়ে আসেন। দ্বিতীয়টি দুবাইয়ের এয়ার শো চলাকালে ঘটেছিল; সেই সময়ে বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার নামান স্যালেরের মৃত্যু হয়। ৭ ফেব্রুয়ারির ঘটনা এই তালিকায় তৃতীয় স্থান দখল করেছে।
তেজস সম্পূর্ণভাবে দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত প্রথম লাইটারেজ ফাইটার, যা হিন্দুস্থান এরোনটিক্স লিমিটেড (HAL) দ্বারা উৎপাদিত। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় HAL-কে ৮৩টি তেজস উৎপাদনের অনুমোদন দেয়, যার চুক্তি মূল্য প্রায় ৪৮,০০০ কোটি রুপি। এরপর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরেও একই সংস্থাকে অতিরিক্ত ৯৭টি তেজস তৈরির অনুমোদন দেয়, যার মূল্য ৬২,০০০ কোটি রুপি। তবে সময়মতো ডেলিভারি নিশ্চিত করতে সংস্থা বারবার ব্যর্থ হয়েছে, বিশেষ করে জিই এয়ারস্পেস থেকে ইঞ্জিন সরবরাহে সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে।
৭ ফেব্রুয়ারির দুর্ঘটনার পর ভারতীয় বিমানবাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। একই বেসে বর্তমানে ৩০টি এক-সিটের তেজসের ওপর পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালু করা হয়েছে। এই পরীক্ষায় যান্ত্রিক ত্রুটি, বিশেষ করে ব্রেক সিস্টেমের সম্ভাব্য দুর্বলতা শনাক্ত করা এবং সংশোধন করা হবে। বিশেষজ্ঞদের অনুমোদন পেলে এই বিমানগুলো পুনরায় সেবা শুরু করা হবে।
তেজসের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত উদ্বেগের ফলে বিমানবাহিনী সামগ্রিকভাবে এই সিরিজের রক্ষণাবেক্ষণ প্রোটোকল পুনর্বিবেচনা করছে। ইঞ্জিন সরবরাহের সমস্যার সমাধান এবং উৎপাদন সময়সূচি মেনে চলা নিশ্চিত করতে সরকার ও HAL উভয়ই অতিরিক্ত তদারকি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
প্রযুক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে তেজস ভারতীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের স্বনির্ভরতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দেশীয় ডিজাইন ও উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে ভবিষ্যতে বিদেশি সরবরাহের ওপর নির্ভরতা কমে, যা কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনকে শক্তিশালী করে। তবে ধারাবাহিক দুর্ঘটনা ও উৎপাদন বিলম্বের ফলে এই লক্ষ্য অর্জনে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে, তাই দ্রুত সমাধান ও মানোন্নয়ন জরুরি।
সারসংক্ষেপে, সেনাঘাঁটি বেসে ঘটিত এই ব্রেক ফেল দুর্ঘটনা তেজসের অপারেশনাল নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। পাইলটের সঠিক সিদ্ধান্তে কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও বিমানটি সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়ায় ভারতীয় বিমানবাহিনীর তেজস ফ্লিটে একটি বড় ক্ষতি হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা রোধে প্রযুক্তিগত পর্যালোচনা, উৎপাদন শৃঙ্খল মজবুতকরণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন অপরিহার্য।



