29.8 C
Dhaka
Monday, February 23, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকমার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর চীন যুক্তরাষ্ট্রকে একতরফা শুল্ক বাতিলের আহ্বান জানায়

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর চীন যুক্তরাষ্ট্রকে একতরফা শুল্ক বাতিলের আহ্বান জানায়

চীন তার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ জানিয়েছে যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত একতরফা শুল্ক বাতিল করা হোক, কারণ মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ে ট্রাম্পের ১৯৭৭ সালের আইনের অধীনে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা অস্বীকার করা হয়েছে।

মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট শুক্রবার ৬-৩ ভোটে রায় দেয় যে ট্রাম্পের ১৯৭৭ সালের আইনের ভিত্তিতে একক দেশকে লক্ষ্য করে হঠাৎ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা নেই। এই রায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থার ওপর বড় প্রভাব ফেলবে এবং ট্রাম্পের বহু শুল্ক নীতি অবৈধ ঘোষণা করে।

রায়ের পর ট্রাম্প তৎক্ষণাৎ নতুন শুল্ক নীতি প্রণয়ন করেন। প্রথমে তিনি ভিন্ন আইনি ভিত্তিতে গ্লোবাল ১০ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা দেন, যা পরের দিনই ১৫ শতাংশে বাড়িয়ে দেন।

১৫ শতাংশ গ্লোবাল শুল্ক আগামীকাল থেকে কার্যকর হবে এবং ১৫০ দিন পর্যন্ত চলবে, কিছু পণ্যের জন্য ছাড় থাকবে। এই ব্যবস্থা বিশ্ববাজারে সরবরাহ শৃঙ্খলে অস্থিরতা বাড়াতে পারে।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় রায়ের প্রভাব বিশ্লেষণ করার জন্য একটি “সম্পূর্ণ মূল্যায়ন” চালু করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে শুল্ক বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে যে বাণিজ্য যুদ্ধের কোনো বিজয়ী নেই এবং সুরক্ষাবাদী নীতি দীর্ঘমেয়াদে কোনো ফল দেবে না।

মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বাণিজ্য যুদ্ধের কোনো জয়ী নেই, এবং সুরক্ষাবাদী নীতি কোনো সমাধান নয়।” এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতির স্বচ্ছতা ও সমতা বজায় রাখার গুরুত্বকে তুলে ধরে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বিকল্প পদক্ষেপ, যেমন বাণিজ্য তদন্ত, ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করবে বলে জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে যে চীন তার স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীনে আসন্ন সফর এই উত্তেজনাপূর্ণ সময়ে নির্ধারিত হয়েছে, যা তার দ্বিতীয় মেয়াদে প্রথম চীন সফর হবে। সফরটি বাণিজ্য বিষয়ক আলোচনার বাইরে অন্যান্য কূটনৈতিক বিষয়েও কেন্দ্রীভূত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার উল্লেখ করেছেন যে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে এপ্রিলে নির্ধারিত বৈঠকটি বাণিজ্য বিরোধ সমাধানের জন্য নয়, বরং বিস্তৃত কূটনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। এই মন্তব্যটি উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা হ্রাসের সংকেত দেয়।

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায় ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক নীতির জন্য একটি বড় রাজনৈতিক আঘাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রায়টি তার শুল্ক নীতি বহু বছর ধরে চালিয়ে আসা কোর্টের সমর্থনকে ভেঙে দেয় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থার ওপর তার প্রভাবকে সীমিত করে।

বহু দেশ রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের শুল্ক নীতি পুনর্বিবেচনা করছে এবং মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের প্রভাব বিশ্লেষণ করছে। এই দেশগুলো শুল্কের সম্ভাব্য পুনরায় সমন্বয় এবং বাণিজ্য চুক্তির পুনঃমূল্যায়ন নিয়ে কাজ করছে।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা রায়ের পরিণতি পর্যবেক্ষণ করছে, কারণ এটি বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল এবং পণ্যের মূল্যে পরিবর্তন আনতে পারে। বাণিজ্য নীতি পরিবর্তনের ফলে রপ্তানি-আমদানি প্রবাহে সাময়িক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।

সারসংক্ষেপে, মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায় চীনের একতরফা শুল্ক বাতিলের আহ্বানকে সমর্থন করে এবং ট্রাম্পের শুল্ক নীতির কার্যকারিতা সীমিত করে। উভয় দেশের কূটনৈতিক সংলাপ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কাঠামোর স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই রায়ের পরবর্তী পদক্ষেপগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments