গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে রোববার সকাল প্রায় ছয়টায় জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। দীর্ঘ ১৮ মাসের নিষ্ক্রিয়তার পর এই কাজটি স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন দিগন্তের সূচনা নির্দেশ করে।
উদ্যোগটি উপজেলা সদর চৌরঙ্গী এলাকার দলীয় অফিসের সামনে অনুষ্ঠিত হয়। উঁচু দণ্ডে উড়ে থাকা দুটি পতাকা, একটিতে সাদা-সবুজ রঙের জাতীয় চিহ্ন, অন্যটিতে লাল-সবুজ রঙের আওয়ামী লীগ চিহ্ন স্পষ্টভাবে দেখা যায়। উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা ও পার্টি কর্মীরা উল্লাসে মাতোয়ারা হয়ে উঠেন।
পতাকা উত্তোলনের সময়সূচি স্থানীয় পার্টি সংগঠনের সমন্বয়ে নির্ধারিত হয়। সকাল ছয়টায় দণ্ডে পতাকা লাগিয়ে প্রথমবারের মতো উঁচুতে উড়ে দাঁড়ায়, যা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর থেকে প্রথম দৃশ্য।
মুকসুদপুর থানার ওয়্যার্ড অফিসার (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, তিনি সকালেই পতাকা উত্তোলনের বিষয়টি জানেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পটভূমিতে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা আত্মগোপনে যান। পরবর্তীতে সরকারী আদেশে দলীয় কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
এই নিষেধাজ্ঞার ফলে মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ১৮ মাস ধরে তালাবদ্ধ থাকে এবং কোনো প্রকাশ্য রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় না। অফিসের দরজা বন্ধ থাকায় স্থানীয় সমর্থকরা সংগঠনের সঙ্গে সংযোগ হারিয়ে ফেলেছিলেন।
অবধি, পার্টি কর্মীরা অফিসের দরজা খুলে আবার কার্যক্রম শুরু করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পতাকা উত্তোলনকে এই প্রস্তুতির প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পার্টি সদস্যরা এই দৃশ্যকে দীর্ঘ সময়ের পর স্বাগত জানিয়ে গ্রহণ করেছেন। তারা জানান, পতাকা দেখেই তারা আবার রাজনৈতিক আলোচনায় অংশ নিতে পারবে বলে আশা জাগ্রত হয়েছে।
অফিসের সামনে উপস্থিত ভিড়ের মধ্যে তরুণ ও বৃদ্ধ উভয়ই ছিলেন, যারা একত্রে জাতীয় গৌরব ও দলীয় ঐক্যের প্রতীক দেখার জন্য একত্রিত হয়েছেন। কিছু লোকের মতে, এই কাজটি ভবিষ্যতে আরো রাজনৈতিক সমাবেশের পথ খুলে দেবে।
দলীয় কার্যক্রমের নিষেধাজ্ঞা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল হয়নি, তবে এই পতাকা উত্তোলনকে একটি সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। পার্টি সংগঠনগুলো এখন ধীরে ধীরে তাদের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার পরিকল্পনা করছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, গোপালগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় এই ধরনের পদক্ষেপ পার্টির ভিত্তি শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে। আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে পার্টি নেতারা স্থানীয় স্তরে সংগঠনের পুনর্গঠনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
আবদুল্লাহ আল মামুনের মন্তব্যের পর, স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী অতিরিক্ত সতর্কতা বজায় রাখবে বলে জানিয়েছে। কোনো অশান্তি বা অবৈধ কার্যকলাপের সম্ভাবনা থাকলে তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।
পতাকা উত্তোলনের পর, আওয়ামী লীগ স্থানীয় স্তরে সভা, আলোচনা ও কর্মশালার আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। এই ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে পার্টি সদস্যদের মধ্যে সমন্বয় বাড়বে এবং জনমত গঠন সহজ হবে।
সামগ্রিকভাবে, মুকসুদপুরে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনকে রাজনৈতিক পুনর্জাগরণের প্রথম ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এটি স্থানীয় জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়াবে এবং পার্টির কার্যক্রমের স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরায় শুরু করতে সহায়তা করবে।
এই ঘটনার পর, গোপালগঞ্জের অন্যান্য উপজেলা ও জেলা স্তরে সমান ধরনের পদক্ষেপের সম্ভাবনা বাড়ছে। পার্টি নেতারা এখনো স্পষ্ট করে না বললেও, ভবিষ্যতে আরও উন্মুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশের প্রত্যাশা করা যায়।



