নড়াইল সদর উপজেলার বড়কুলা গ্রামে সোমবার ভোরে (২৩ তারিখ) আধিপত্যের জন্য দুই গোষ্ঠীর মধ্যে মারাত্মক সংঘর্ষ ঘটেছে। স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তার মতে, ঘটনায় চারজনের প্রাণ নেওয়া হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ৬০ বছর বয়সী খলিল, ৩০ বছর বয়সী তাহাজ্জত, ৩০ বছর বয়সী ওসি এবং ৪০ বছর বয়সী ফেরদৌস অন্তর্ভুক্ত। এ সকল ব্যক্তি একই এলাকার বাসিন্দা, তবে তাদের পূর্ণ পরিচয় এখনো প্রকাশিত হয়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সংঘর্ষের সূচনা হয়েছিল সিংগাশোলপুর ইউনিয়নের প্রাক্তন চেয়ারম্যান খায়ের মোল্লার নেতৃত্বে কিছু লোকের গুলি চালানোর ফলে। গুলির শব্দে গ্রামবাসীরা আতঙ্কিত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। পরে গ্রামভূমিতে খলিল শেখ তার ছেলে তাহাজ্জত এবং ফেরদৌস শেখকে গ্রেপ্তার করে, তাদেরকে গাঁটিয়ে হত্যা করে। গুলির পরেই তিনজনের মৃত্যু ঘটে, আর চতুর্থ ব্যক্তি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানেই মারা যায়।
ঘটনার পরপরই নড়াইলের সেনাবাহিনী ও পুলিশ দল现场ে পৌঁছায়। নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি দিয়ে তারা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে এবং ফোরেনসিক বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। মৃতদেহের পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি গুলির উৎস ও দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্তকরণের কাজ চলছে।
অধিক তদন্তের জন্য নড়াইল সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অপরাধের আইনি দায়িত্ব নির্ধারণের জন্য আদালতে মামলার শুনানি নির্ধারিত হবে। তদন্তকারী দল গুলির বেল্ট, গুলি, এবং অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘর্ষ রোধ করা যায়।
স্থানীয় জনগণ এই ঘটনার শোক প্রকাশ করে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জানায়। সরকারী ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং শিকারের পরিবারকে সহায়তা প্রদান করার জন্য সমন্বিত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
এই ঘটনার পর, নড়াইলের অন্যান্য গ্রামেও নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ পেট্রোল চালু করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন পুনরায় সংঘর্ষের মূল কারণ বিশ্লেষণ করে, গোষ্ঠীগুলির মধ্যে শান্তিপূর্ণ সমঝোতা গড়ে তোলার জন্য উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতা রোধে সামাজিক সংলাপ ও আইনগত ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হবে।
সামগ্রিকভাবে, নড়াইলে আধিপত্যের জন্য সংঘটিত এই মারাত্মক সংঘর্ষে চারজনের প্রাণ নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত চলমান। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার জন্য কাজ করছে।



