ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান (মিনু) শপথ গ্রহণের পর তিন দিনের সরকারি সফর শুরু করেন, যার প্রধান গন্তব্য ছিল রাজশাহী। তিনি বৃহস্পতিবার রাত ১১:৩০ টায় রোডে গিয়ে শহরে পৌঁছান এবং শুক্রবার সকাল ১০:৩০ টায় রাজশাহী সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসক, রেঞ্জের ডিআইজি ও বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে প্রথম বৈঠক করেন।
বৈঠকে মন্ত্রী রাজশাহীর প্রশাসনিক কাঠামোর বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। একই সময়ে রাজশাহী‑৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক (মিলন) এবং সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন (বুলবুল) উপস্থিত ছিলেন, যারা মন্ত্রীর সঙ্গে স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি মূল্যায়ন করেন।
মন্ত্রীর সফরের দ্বিতীয় দিন তিনি রাজশাহী প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অতিরিক্ত বৈঠক করেন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীদের সঙ্গে দুই দিনব্যাপী মতবিনিময় সভা আয়োজন করেন। তবে এই সভাগুলিতে বিএনপির মহানগর শাখার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও ১৩ সদস্যের কমিটির কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না, যা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
বৃহস্পতিবার রাত ১২:০১ টায় মন্ত্রী নবনির্মিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। অনুষ্ঠানে বিএনপির সভাপতি মামুন‑উর‑রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান (রিটন) দেখা যায়নি; তারা পরে কলেজ শহীদ মিনারে দলগতভাবে ফুল রাখেন। এই অনুপস্থিতি স্থানীয় মিডিয়ায় এবং রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে প্রশ্ন তুলেছে।
২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ও বিকালে মন্ত্রী একটি কমিউনিটি সেন্টারে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন। একই বিষয় নিয়ে রবিবার সকালেও একই স্থানে আরেকটি সেশন অনুষ্ঠিত হয়। উভয় সেশনে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতি পুনরায় নজরে আসে।
সফরের সময় মন্ত্রী রিকশা ব্যবহার করে শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখেন, যা সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে প্রশংসা পায়। তিনি প্রতিদিনের মতো সাহেব বাজারের জিরো পয়েন্টে একটি চা দোকানের সামনে বসে বয়োজ্যেষ্ঠদের সঙ্গে আলাপ করেন। এই স্বাভাবিক ভ্রমণ ও সরল আচরণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পায়।
রবিবার বিকেলে মন্ত্রী ঢাকায় ফিরে যাওয়ার জন্য একটি ফ্লাইটে চড়ে শহর ত্যাগ করেন। তার প্রস্থান আগে তিনি শেষবারের মতো রিকশা দিয়ে শহরের প্রধান রাস্তা অতিক্রম করেন, যা তার অপ্রচলিত সফর শৈলীর শেষ চিহ্ন হিসেবে ধরা পড়ে।
মন্ত্রীর এই সফর প্রোটোকল থেকে বিচ্যুত হওয়া, রিকশা ব্যবহার এবং স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন। বিশেষ করে, বিএনপির শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতি এবং তাদের পরিবর্তে দলীয় সদস্যদের দ্বারা ফুল অর্পণ করা, রাজশাহীর রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন গতিপথের ইঙ্গিত দেয়।
সারসংক্ষেপে, মিজানুর রহমানের তিন দিনের সফর প্রশাসনিক বৈঠক, শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়, রিকশা ভ্রমণ এবং প্রোটোকল ত্যাগের সমন্বয়ে গঠিত। সফরের শেষে তার কার্যক্রম ও উপস্থিতি সম্পর্কে বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে, যা ভবিষ্যতে রাজশাহীর স্থানীয় রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে তা এখনো স্পষ্ট নয়।



