রোববার সন্ধ্যায় টটেনহ্যামের ঘরের মাঠে আর্সেনাল ৪-১ গোলে টটেনহ্যামকে পরাজিত করে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা দৌড়ে নিজের অবস্থান দৃঢ় করে। দুই দলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলতে থাকলেও, আর্সেনালের আক্রমণাত্মক চালনা শেষ পর্যন্ত বিজয় এনে দেয়।
এই জয়ের ফলে আর্সেনাল পয়েন্ট টেবিলে ম্যানচেস্টার সিটির ওপর পাঁচ পয়েন্টের ব্যবধানে শীর্ষে উঠে। ম্যানচেস্টার সিটি এক ম্যাচ কম খেললেও, আর্সেনালের ৬১ পয়েন্ট এখন পর্যন্ত তাদের জন্য বড় সুবিধা নিয়ে এসেছে।
ইতিহাসের পাতায় ফিরে দেখা যায়, ১৯৭৮ সালের পর প্রথমবার আর্সেনাল টটেনহ্যামের ঘরে এত বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে। ৪৮ বছর পর এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি দলকে অতীতের গৌরবের স্মরণ করিয়ে দেয় এবং ভক্তদের মধ্যে উল্লাসের স্রোত বয়ে আনে।
ম্যাচের নায়ক ছিলেন মিডফিল্ডার এজে, যিনি দুই গোলের মাধ্যমে দলের জয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। নভেম্বর মাসে টটেনহ্যামের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করার পর, তিনি এই ম্যাচে আবারও গোলের ঝড় তুলেছেন, যা তার গোলহীন ১৮ ম্যাচের পরের প্রথম গোলদৌড় ছিল।
দলীয় নতুন শক্তি ইয়োকেরেশও দু’টি গোল করে স্কোরবোর্ডে নিজের নাম লিখে রাখেন। তার দ্রুত গতি ও সঠিক অবস্থান আর্সেনালের আক্রমণকে আরও তীব্র করে তুলেছে এবং শেষ মুহূর্তে চতুর্থ গোলের মাধ্যমে জয়কে নিশ্চিত করেছে।
ম্যাচের প্রথমার্ধে ৩২ নম্বর মিনিটে পাপে সারের একটি ভুলে বল সাকার নিখুঁত ক্রসের দিকে যায়, যা এজের দ্রুত ভলিতে রূপান্তরিত হয় এবং প্রথম গোলের সূত্রপাত করে। দুই মিনিটের মধ্যে ডেকলান রাইসের ভুলে টটেনহ্যাম সমতা রক্ষা করে, কোলো মুয়ানির গোল দিয়ে স্কোর ১-১ করে।
দ্বিতীয়ার্ধের সূচনায় জুরিয়েন টিম্বারের পাস থেকে টটেনহ্যামের রক্ষার অযত্নে সুযোগ তৈরি হয়, এবং ইয়োকেরেশের শক্তিশালী শটে আর্সেনাল আবারও লিড নেয়। এই গোলটি দলকে পুনরায় আত্মবিশ্বাসের সিঁড়ি বেয়ে উঠতে সাহায্য করে।
৬১ নম্বর মিনিটে এজে আবারও গোলের জায়গা খুঁজে পান এবং তার দ্বিতীয় গোলের মাধ্যমে স্কোর ৩-১ করে। তার এই গোলটি টটেনহ্যামের প্রতিরোধকে আরও দুর্বল করে দেয় এবং ম্যাচের প্রবাহকে আর্সেনালের পক্ষে পরিবর্তন করে।
ম্যাচের শেষ পর্যায়ে ইয়োকেরেশের তৃতীয় গোল দলকে চূড়ান্ত বিজয়ের পথে নিয়ে যায়। তার এই গোলটি টটেনহ্যামের সমর্থকদের মধ্যে হতাশা ছড়িয়ে দেয় এবং আর্সেনালের জয়কে অম্লান করে।
এই জয়ের পর আর্সেনাল ২৮ ম্যাচে মোট ৬১ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে, যা তাদের শিরোপা দৌড়ে বড় সুবিধা দেয়। ম্যানচেস্টার সিটির ওপর পাঁচ পয়েন্টের ব্যবধান, যদিও সিটি এক ম্যাচ কম খেলেছে, তবু আর্সেনালের আত্মবিশ্বাসকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
কোচের কৌশলগত পরিবর্তন এবং খেলোয়াড়দের উচ্চমানের পারফরম্যান্স এই জয়ের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। দলটি এখন শিরোপা শিরোপা জয়ের পথে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, এবং পরবর্তী ম্যাচে এই সাফল্যকে ধারাবাহিক রাখতে প্রস্তুত।



