ঢাকার সেক্রেটারিয়েটে গতকাল বিদেশ মন্ত্রী খালেদ রাহমান এবং ভারতীয় হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা একত্রে সাক্ষাৎ করেন। দুজনের আলোচনার মূল বিষয় ছিল পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে দু’দেশের সম্পর্ককে আরও উন্নত করা। একই দিনে খালেদ রাহমান চীনের রায়দূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, যিনি কোনো প্রচেষ্টা সাইনো‑বাংলা বন্ধনকে দুর্বল করতে চাইলেও তা ব্যর্থ হবে বলে জানান।
বাংলাদেশ সরকারের বিদেশ মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, খালেদ রাহমান বাংলাদেশকে ভারতের সঙ্গে “ভবিষ্যতমুখী এবং সমন্বিত অংশীদারিত্ব” গড়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, যা দু’দেশের জনগণের মঙ্গলের জন্য হবে। ভার্মা ভারতের নতুন সরকারকে ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করে, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জনগণ‑কেন্দ্রিক করার কথা বলেন। উভয় পক্ষ নিয়মিত ও গঠনমূলক সংলাপ বজায় রাখার মাধ্যমে সম্পর্ককে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দেন।
ভারতীয় প্রতিনিধি এছাড়াও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস জয়শঙ্করের পক্ষ থেকে খালেদ রাহমানকে নিউ দিল্লিতে শীঘ্রই একটি সরকারি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে দেন। এই আমন্ত্রণের মাধ্যমে দু’দেশের কূটনৈতিক সংলাপের পরিধি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইতিহাসগতভাবে, ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে আওয়ামী লীগ শাসন থেকে একটি ব্যাপক উত্থানের ফলে সরকার পরিবর্তিত হওয়ার পর থেকে ভারত‑বাংলাদেশ সম্পর্ক কিছুটা টানাপোড়েনের মুখে পড়েছিল। সেই সময়ে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউ দিল্লিতে আশ্রয় নেন। তবে নতুন সরকার গঠনের পর থেকে উভয় দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনরায় সক্রিয় হয়েছে।
প্রণয় ভার্মা প্রথম সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন, ভারত ইতিবাচক, গঠনমূলক এবং ভবিষ্যতমুখী দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশ সঙ্গে কাজ করতে ইচ্ছুক, যা পারস্পরিক সুবিধা ও স্বার্থের উপর ভিত্তি করে হবে। তিনি জনগণ‑এর মধ্যে বিনিময়কে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরেন।
ফেব্রুয়ারি ১২ তারিখে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর, নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী তাড়াতাড়ি নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ফোনে শুভেচ্ছা জানিয়ে, একটি চিঠি পাঠান। এই চিঠি ভারতীয় লোকসভা স্পিকার ওম বিরলা হস্তান্তর করেন, যিনি ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন ক্যাবিনেটের শপথ অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন।
এইসব কূটনৈতিক পদক্ষেপের পটভূমিতে দু’দেশের বাণিজ্য, অবকাঠামো এবং নিরাপত্তা ক্ষেত্রের সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। বিশেষ করে সীমান্ত পারাপার, জ্বালানি সংযোগ এবং কৃষি উন্নয়নকে কেন্দ্র করে বহু প্রকল্পের আলোচনা চলছে।
দুই দেশের কূটনীতিকরা একে অপরের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ বজায় রাখার মাধ্যমে পারস্পরিক বিশ্বাস বাড়াতে চান। ভবিষ্যতে উভয় পক্ষের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে আরও বৈঠক নির্ধারিত হয়েছে, যাতে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়গুলোতে সমন্বয় সাধন করা যায়।
সারসংক্ষেপে, আজকের বৈঠকটি ভারত‑বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন দিকনির্দেশনা নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উভয় দেশই জনগণ‑কেন্দ্রিক সহযোগিতা, নিয়মিত সংলাপ এবং সমন্বিত অংশীদারিত্বের মাধ্যমে পারস্পরিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে চায়। এই প্রচেষ্টা দু’দেশের দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও সমৃদ্ধির ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।



