ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২৩ ফেব্রুয়ারি মার্কিন দূতাবাসের মন্তব্যের পর মার্কিন রাষ্ট্রদূত চার্লস কুশনারকে তলব করেছে। তলবের কারণ হল ১২ ফেব্রুয়ারি লিয়ঁ শহরে এক কট্টর‑ডানপন্থী কর্মী কুয়েন্টিন দেরাঙ্কের মৃত্যু সংক্রান্ত মার্কিন দূতাবাসের বিবৃতি, যা ফরাসি কর্তৃপক্ষের মতে হস্তক্ষেপ।
১২ ফেব্রুয়ারি লিয়ঁতে সংঘটিত মারামারিতে ২৩ বছর বয়সী কুয়েন্টিন দেরাঙ্ক গুরুতর মাথায় আঘাত পেয়ে আহত হন। দুই দিন পর হাসপাতালে তার অবস্থা খারাপ হয়ে মৃত্যুর শিকারে পরিণত হয়। দেরাঙ্কের মৃত্যু ফরাসি সমাজে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি করে, বিশেষ করে তার কট্টর‑ডানপন্থী পরিচয় এবং ঘটনার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে নিয়ে।
মার্কিন দূতাবাসের একটি বিবৃতিতে দেরাঙ্কের মৃত্যুকে “বামপন্থী সহিংসতার ফল” হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এই মন্তব্যটি ফরাসি সরকারকে আক্রমণাত্মকভাবে অস্বীকারযোগ্য বলে মনে হয় এবং হস্তক্ষেপের অভিযোগের ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়। দূতাবাসের এই রকম মন্তব্যের ফলে ফরাসি কর্তৃপক্ষের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।
ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রী জিন-নোয়েল বারো রেডিও স্টেশন ‘ফ্রান্স ইন্টার’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “এই ঘটনা আমাদের জাতীয় সম্প্রদায়ের বিষয় এবং দূতাবাসের মন্তব্য আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। তাই মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হচ্ছে।” তিনি এই মন্তব্যকে হস্তক্ষেপের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং কুশনারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করার আহ্বান জানান।
মার্কিন দূতাবাস এক্সে (পূর্বে টুইটার) মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের সন্ত্রাসবিরোধী ব্যুরোর একটি পোস্ট শেয়ার করে। পোস্টে বলা হয় দেরাঙ্ক “বামপন্থী উগ্রপন্থীদের হাতে নিহত” এবং বামপন্থী উগ্রবাদের বৃদ্ধি জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। ফরাসি কর্তৃপক্ষ এই প্রকাশকে অপ্রাসঙ্গিক এবং হস্তক্ষেপমূলক হিসেবে বিবেচনা করে।
এটি প্রথমবার নয় যে কুশনারকে তলব করা হয়েছে। ২০২৫ সালের আগস্টে ফ্রান্সে ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলায় যথেষ্ট পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগে একইভাবে তাকে তলব করা হয়েছিল। সেই সময়ও ফরাসি সরকার মার্কিন মন্তব্যকে হস্তক্ষেপের উদাহরণ হিসেবে দেখেছিল।
ফরাসি সরকার এই তলবের মাধ্যমে কূটনৈতিক সম্পর্কের সীমা নির্ধারণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তলবের ফলে মার্কিন দূতাবাসের ভবিষ্যৎ মন্তব্যে সতর্কতা অবলম্বন করতে পারে এবং ফরাসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংলাপের পদ্ধতি পরিবর্তন হতে পারে। একই সঙ্গে, ফরাসি জনমতেও বিদেশি মন্তব্যের প্রতি সংবেদনশীলতা বাড়ছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই ঘটনা ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে, বিশেষ করে যখন দেশীয় নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংঘাতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মন্তব্য মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভবিষ্যতে এমন মন্তব্যের ওপর কঠোর নজরদারি বজায় রাখতে পারে।
অবশেষে, ফরাসি সরকার কুশনারকে তলব করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে স্বতন্ত্রতা রক্ষার সংকেত দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের মন্তব্যকে দেশীয় বিষয়ের বাইরে হস্তক্ষেপ হিসেবে গণ্য করেছে। এই পদক্ষেপের পরবর্তী ধাপ হিসেবে কুশনারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সময়সূচি নির্ধারণ এবং ভবিষ্যৎ মন্তব্যে সীমা নির্ধারণের প্রস্তাবনা প্রত্যাশিত।



