বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) রোববার ভার্চুয়াল সভা শেষে জানিয়েছে, গাজী আশরাফ হোসেনকে প্রধান নির্বাচকের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও এক মাসের জন্য বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি বিসিবির অনুরোধে নেওয়া হয়েছে এবং একই সময়ে বোর্ড নতুন প্রধান নির্বাচকের সন্ধান শুরু করবে।
বোর্ডের ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, গাজী আশরাফের পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশের পর মেয়াদ এক মাস বাড়ানোর প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। এই অতিরিক্ত সময়ে বোর্ড উত্তরসূরি নির্ধারণ এবং নির্বাচক প্যানেল পুনর্গঠনের কাজ করবে।
বিসিবি জানিয়েছে, গাজী আশরাফের নেতৃত্বে বর্তমান নির্বাচক কমিটি আগামী মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে দেশের মাঠে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে সিরিজের জন্য দল গঠন করবে। এই দায়িত্বের মধ্যে দল নির্বাচন, খেলোয়াড়ের ফিটনেস মূল্যায়ন এবং কৌশলগত পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
মিনহাজুল আবেদীনের প্রায় আট বছরের প্রধান নির্বাচকের মেয়াদ শেষ হয়ে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে গাজী আশরাফকে দুই বছরের চুক্তিতে প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তার পূর্বে হাবিবুল বাশারকে প্রধান নির্বাচক হিসেবে দায়িত্বে রাখা হতো, তবে হান্নান সরকারকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং আব্দুর রাজ্জাকও পূর্বে থেকেই সদস্য ছিলেন।
হান্নান সরকার ফেব্রুয়ারিতে কোচিং পেশায় মনোযোগী হওয়ার জন্য নির্বাচকের দায়িত্ব ত্যাগ করেন। তার পরিবর্তে হাসিবুল হোসেনকে নির্বাচক কমিটিতে যোগ করা হয়। এই পরিবর্তনের ফলে কমিটিতে নতুন রক্ত প্রবাহিত হয় এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যোগ হয়।
অক্টোবর মাসে, বিসিবি নির্বাচনের আগে, রাজ্জাক নির্বাচকের দায়িত্ব ছেড়ে বোর্ডের পরিচালক পদ গ্রহণ করেন। তার পদত্যাগের পর পাঁচ মাসের জন্য কমিটিতে কোনো নতুন সদস্য যোগ করা হয়নি, ফলে দুইজন সদস্যের দলই কাজ চালিয়ে গিয়েছে।
বিসিবি এখন মার্চের পর নতুন কমিটি গঠনের পরিকল্পনা করছে, যেখানে প্রধান নির্বাচকের পাশাপাশি আরেকজন নির্বাচক নিয়োগের প্রয়োজন হবে। এই পদগুলো পূরণ করা হলে নির্বাচনী কাজের ধারাবাহিকতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।
বোর্ডের পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজী আশরাফের এক মাসের অতিরিক্ত মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রধান নির্বাচকের সন্ধান ত্বরান্বিত করা হবে। নির্বাচক প্যানেল পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় অভিজ্ঞতা, ন্যায়পরায়ণতা এবং ক্রীড়া জ্ঞানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বিসিবি উল্লেখ করেছে, নতুন প্রধান নির্বাচকের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বর্তমান কমিটির কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে, যাতে ওয়ানডে সিরিজের দল গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সময়মতো সম্পন্ন হয়। গাজী আশরাফের নেতৃত্বে এই সময়কালে নির্বাচক কমিটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকবে।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের লক্ষ্য হল নির্বাচনী কাঠামোকে শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতার জন্য সঠিক খেলোয়াড় নির্বাচন নিশ্চিত করা। এক মাসের অতিরিক্ত সময়ে বোর্ডের অভ্যন্তরীণ আলোচনা এবং পর্যালোচনা শেষ হবে, ফলে নতুন নেতৃত্বের জন্য সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা তৈরি হবে।
সারসংক্ষেপে, গাজী আশরাফের এক মাসের অতিরিক্ত মেয়াদ বিসিবির কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ, যেখানে নতুন প্রধান নির্বাচকের সন্ধান এবং নির্বাচক প্যানেলের পুনর্গঠন সমান্তরালভাবে চলবে। এই সময়ে ওয়ানডে সিরিজের দল গঠন কাজ সম্পন্ন হবে এবং পরবর্তী নির্বাচনী দায়িত্বের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হবে।



