নেদারল্যান্ডসের নতুন সরকার সোমবার শপথ গ্রহণ করেছে। ৩৮ বছর বয়সী রব জেটেনকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে, যিনি কেন্দ্র‑ডান সিডিএ এবং লিবারেল ভিভিডি পার্টির সঙ্গে গঠন করা জোটের অধীনে শাসন করবেন। ডি৬৬ পার্টি শিক্ষা ও কৃষি সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধান করবে।
জেটেনের সরকার গঠনের সময় তিনি মন্ত্রণালয়গুলোকে জোটের অংশীদারদের মধ্যে ভাগ করে দিয়েছেন। সিডিএ এবং ভিভিডি পার্টি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় পাবে, আর ডি৬৬ পার্টি শিক্ষা, কৃষি ও অন্যান্য সামাজিক নীতি সংক্রান্ত দায়িত্ব নেবে। এই বণ্টন জোটের অভ্যন্তরীণ সমঝোতা ও নীতি অগ্রাধিকারের প্রতিফলন।
বেরেনডেসেন, ৪২ বছর বয়সী, ২০১৯ সাল থেকে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য এবং ২০২৪ সালের ইউরোপীয় নির্বাচন ক্যাম্পেইনে সিডিএর প্রধান কণ্ঠস্বর ছিলেন। তিনি ক্যাবিনেটে নতুন মন্ত্রী হিসেবে যোগ দিচ্ছেন, যা তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
সিডিএর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে তাকে ‘শান্ত ও সহজগম্য’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে এবং বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও পটভূমির মানুষের সঙ্গে বিস্তৃত জোট গড়ে তোলার ক্ষমতা উল্লেখ করা হয়েছে। ব্রেডা শহরের বাসিন্দা হওয়ায় তিনি নেদারল্যান্ডস ও ইউরোপীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে দাবি করেন। পার্লামেন্টে যোগদানের আগে তিনি পিডব্লিউসি নেদারল্যান্ডসে টেকসইতা পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করেছেন।
ইয়েসিলগোজ, ৪৮ বছর বয়সী, ২০২৩ সালে লিবারেল ভিভিডির প্রথম মহিলা নেতা হয়েছেন এবং পূর্বের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটের পরবর্তী নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি গত বছরের নির্বাচনের পর জোট গঠনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং গ্রিনলিঙ্কস/পিভিডিএর সঙ্গে কাজ করতে অস্বীকার করেন।
ইয়েসিলগোজের নেতৃত্বে ভিভিডি পার্টি কেন্দ্রীয় জোটের মূল স্তম্ভ হিসেবে কাজ করেছে, যা জোটের নীতি দিকনির্দেশনা ও শাসন কাঠামো নির্ধারণে প্রভাব ফেলেছে। তার রাজনৈতিক অবস্থান ও কৌশল জোটের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
ইয়েসিলগোজের জন্ম তুর্কির আঙ্কারায়, এবং শৈশবে তিনি নেদারল্যান্ডসে স্থানান্তরিত হন। তার পিতা কুর্দিশ মানবাধিকার কর্মী ছিলেন, যিনি আশ্রয় খোঁজার জন্য নেদারল্যান্ডসে আসেন। এই পটভূমি তার মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গিকে গঠন করেছে।
২০২২ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত তিনি চতুর্থ রুট ক্যাবিনেটে বিচার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার মেয়াদে অপরাধ, সংগঠিত অপরাধ ও অভিবাসন নীতি কঠোর করার প্রচার চালানো হয়। এই নীতি পরিবর্তনগুলো নেদারল্যান্ডসের নিরাপত্তা ও অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলেছে।
ভ্যান ওয়েল, ৪৯ বছর বয়সী, পূর্বে নেভি অফিসার এবং ভিভিডি পার্টির সদস্য, শেষ নেদারল্যান্ডস সরকারে ডিক শোফের নেতৃত্বে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় পরিচালনা করেছেন। তিনি বিচার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় প্রতিবাদে আইনগত সীমা আরোপের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
ভ্যান ওয়েল শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও ব্যাঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করার পক্ষে ছিলেন, বিশেষ করে এক্সটিঙ্কশন রিবেলিয়নের মতো গোষ্ঠীর রোড ব্লকিংকে লক্ষ্য করে। তার এই অবস্থান নেদারল্যান্ডসের জনসাধারণের প্রতিবাদ নীতি নিয়ে বিতর্ক উত্থাপন করেছে।
নভেম্বর ২০২৪-এ আমস্টারডামে স্থানীয় বাসিন্দা ও ইসরায়েলি ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে সংঘটিত সহিংসতার পর ভ্যান ওয়েল জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, আইনগতভাবে নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া প্রতিবাদকে নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা উচিত।
নতুন ক্যাবিনেটের গঠন নেদারল্যান্ডসের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন দিকনির্দেশনা আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। জেটেনের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় ও ডানপন্থী পার্টিগুলোর সমন্বয় নীতি বাস্তবায়নে কীভাবে প্রভাব ফেলবে, তা আগামী মাসে সরকারী কর্মসূচি ও আইন প্রণয়নের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।



