বিশ্বকাপের এক ম্যাচে ভারত এয়ের ওপেনার অভিষেক শর্মা শূন্যের ধার ভাঙতে একক নেওয়ার পরামর্শ পেয়েছিলেন সানিল গাভাস্কারের। গাভাস্কার, যিনি নিজেও ভারত এয়ের প্রাক্তন ওপেনার, বলেছিলেন “বড় শটের চেয়ে একক নেওয়া বেশি কার্যকর, ডট বলের পরেও স্কোর বাড়তে পারে”।
শুভ্র সন্ধ্যায় দক্ষিণ আফ্রিকা এয়ের বিপক্ষে খেলা চলাকালীন অভিষেকের প্রথম শটটি ফেন্সের দিকে গিয়ে শূন্যের শেষ চিহ্নটি মুছে দিল। এই একক তাকে ধারাবাহিক ডাক থেকে মুক্তি দিল এবং ভক্তদের মধ্যে প্রত্যাশা জাগাল যে তিনি শীঘ্রই ফর্মে ফিরে আসবেন।
তবে ম্যাচের শেষ পর্যায়ে ভারত এয়ের আউটফিল্ডে দুইটি অতিরিক্ত বাউন্ডারি যোগ করলেও, শর্মা বড় স্কোর গড়ে তুলতে পারেননি। দক্ষিণ আফ্রিকা এয়ের পেসাররা তাকে বিস্তৃত ও ধীর বল দিয়ে সীমাবদ্ধ রাখে, ফলে তিনি বড় শটের সুযোগ পেতে ব্যর্থ হন।
অভিষেকের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে বিশেষ করে অফ-স্পিনারদের বিরুদ্ধে সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা তার শেষ দুই ম্যাচে দ্রুত আউট হওয়ার মূল কারণ ছিল। বিশ্বকাপের শুরু থেকে তার গড়ে শূন্যের ধার বজায় থাকায় কোচিং স্টাফের উদ্বেগ বাড়ছে।
ভারত এয়ের সহকারী কোচ রায়ান টেন ডোয়েসচেটে উল্লেখ করেন যে, শর্মার প্রস্তুতি সময়ে তিনি একবার খাবার বিষক্রিয়ার শিকার হয়েছিলেন, যা তার শারীরিক অবস্থাকে প্রভাবিত করেছে। তিনি বলেন, “শুরুতে তিনটি শূন্য স্কোর তার আত্মবিশ্বাসে চাপ ফেলবে, তবে প্রশিক্ষণ সেশনে আমরা ইতিবাচক লক্ষণ দেখেছি”।
টেন ডোয়েসচেটের মতে, কোচিং স্টাফের কাছে এখন চার দিন বাকি আছে শ্রীমন্তকে পুনরুদ্ধার করার জন্য, যাতে তিনি স্বাভাবিক স্বিং এবং গেম প্ল্যানে ফিরে আসতে পারেন। তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের কাজ হল তার দুর্বলতা ঠিক করা, যাতে তিনি পরবর্তী ম্যাচে আত্মবিশ্বাসীভাবে খেলতে পারেন”।
অন্যদিকে, ভারত এয়ের হেড কোচ সিতাংশু কোতক বলছেন, এখন সময় তার টেকনিক্যাল পরিবর্তনের নয়, বরং মানসিক সমর্থনের। তিনি বলেন, “এখন তাকে অতিরিক্ত নির্দেশনা না দিয়ে স্বাভাবিকভাবে খেলতে দেওয়া বেশি উপকারী”। কোতক যোগ করেন, “আজকের পারফরম্যান্সে তিনি কিছুটা সঠিক পথে ছিলেন, তাই অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ না করা ভাল”।
ম্যাচের শেষ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা এয়ের বোলাররা ধারাবাহিকভাবে চওড়া ও ধীর ডেলিভারি দিয়ে শর্মার স্কোরিং সুযোগ সীমিত রাখে। যদিও শ্রীমন্ত দুইটি বাউন্ডারি মারতে সক্ষম হন, তবু তার মোট স্কোর সীমিত থাকায় ভারত এয়ের মোট স্কোরে বড় ঘাটতি দেখা যায়।
দক্ষিণ আফ্রিকা এয়ের জয় নিশ্চিত হওয়ার পর, বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে ভারত এয়ের ওপেনারদের জন্য শর্তাবলী কঠিন, বিশেষ করে পেসারদের কৌশলগত পরিবর্তন। শ্রীমন্তের ক্ষেত্রে, দ্রুত শটের পরিবর্তে রোটেশন ও সিঙ্গল রানের ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।
কোচিং স্টাফের পরবর্তী পরিকল্পনা অনুযায়ী, শ্রীমন্তকে নেট প্র্যাকটিসে আরও সময় দেওয়া হবে, যাতে তিনি শটের নির্বাচন ও পেসারদের পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন। একই সঙ্গে, মানসিক প্রশিক্ষণেও জোর দেওয়া হবে, যাতে শূন্যের চাপ তার পারফরম্যান্সে প্রভাব না ফেলে।
এই ম্যাচে ভারত এয়ের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে অন্যান্য ব্যাটসম্যানদেরও প্রত্যাশিত স্কোর না আসায় দলটি মোট স্কোরে পিছিয়ে পড়ে। যদিও কিছু মুহূর্তে আউটফিল্ডে দ্রুত রান তৈরি হয়, তবু ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়।
বিশ্বকাপের পরবর্তী ম্যাচে ভারত এয়ের শেডিউল এখনও নির্ধারিত, তবে কোচিং স্টাফের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে শ্রীমন্তের রোল পুনর্বিবেচনা করা হবে, যাতে তিনি দলকে আরও স্থিতিশীলতা প্রদান করতে পারেন।



