ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লভিভে রবিবার মধ্যরাতে এক সন্ত্রাসী হামলা ঘটেছে। শহরের কেন্দ্রস্থল একটি দোকানে চুরির খবর পাওয়ার পর পুলিশ উপস্থিত হলে, ময়লার ঝুড়িতে পুঁতে রাখা দুটি ঘরে তৈরি বিস্ফোরক ধারাবাহিকভাবে বিস্ফোরিত হয়। প্রথম বিস্ফোরণের পর দ্বিতীয় দল পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি বিস্ফোরণ ঘটায়, ফলে ২৩ বছর বয়সী নারী পুলিশ কর্মকর্তা ভিক্তোরিয়া শপিলকা প্রাণ হারান এবং অন্তত ২৫ জন আহত হন।
হামলার পরপরই ইউক্রেনের জাতীয় পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে দুইটি বিস্ফোরক ধ্বংসাত্মকভাবে কাজ করেছে। আহতদের মধ্যে ছয়জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, যাঁদের অবস্থা গুরুতর বলে জানানো হয়েছে। মোট ১১ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যার মধ্যে শপিলকা সহ অন্যান্য আহতরা অন্তর্ভুক্ত।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি নিশ্চিত করেছেন, হামলায় জড়িত সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। লভিভের মেয়র আন্দ্রিই সাদোভি জানান, গ্রেফতার করা ব্যক্তি একজন ইউক্রেনীয় নারী। পরে নিরাপত্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ৩৩ বছর বয়সী ওই নারী রাশিয়ার গোপন গোয়েন্দা সংস্থার নির্দেশে বিস্ফোরক তৈরি ও স্থাপন করেছিল।
পুলিশের মতে, ভিক্তোরিয়া শপিলকা যুদ্ধের পূর্ণমাত্রা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, তখন মাত্র ২৩ বছর বয়সে, পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন। তিনি খেরসন অঞ্চলে যুদ্ধের বিস্তারকে পটভূমি করে তার কর্মজীবন শুরু করেন। শপিলকা লভিভে ঘটিত এই সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন, যা ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থার মতে পরিকল্পিত সন্ত্রাসী আক্রমণ হিসেবে চিহ্নিত।
ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইহোর ক্লিমেঙ্কো জানান, পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থা যৌথভাবে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেফতার করা ব্যক্তি রিভনে অঞ্চলের বাসিন্দা, এবং তার সঙ্গে যুক্ত অন্য সন্দেহভাজনদের সনাক্তকরণে তদন্ত চলমান রয়েছে।
বিবিসি সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, প্রথম বিস্ফোরণের পর দ্বিতীয় দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি বিস্ফোরণ ঘটায়, যা আহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, এই ধরণের সমন্বিত আক্রমণ পূর্বে লভিভে দেখা যায়নি এবং তা স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করে।
হামলার পরপরই ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা রাশিয়ার গোপন গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংযোগের সন্দেহে অভিযুক্তকে কঠোরভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তদন্তকর্তারা উল্লেখ করেছেন, অভিযুক্তের কাজের পেছনে রাশিয়ার নির্দেশনা ছিল এবং তিনি বিস্ফোরক তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ ও প্রযুক্তি সরবরাহ পেয়ে ছিলেন।
এই ঘটনার ফলে লভিভে নিরাপত্তা ব্যবস্থা তীব্রভাবে পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা রক্ষী মোতায়েনের পরিকল্পনা জানিয়েছে। একই সঙ্গে, আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।
ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থার মুখপাত্র উল্লেখ করেছেন, এই ধরনের সন্ত্রাসী আক্রমণ রাশিয়ার অবৈধ হস্তক্ষেপের অংশ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন ছাড়া তা মোকাবেলা করা কঠিন। তিনি আরও বলছেন, অভিযুক্তের গ্রেফতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য, তবে সম্পূর্ণ তদন্তের জন্য আরও সময় ও সম্পদ প্রয়োজন।
হামলার পরপরই ইউক্রেনের সরকার ও নিরাপত্তা সংস্থা রাশিয়ার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনি পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। তারা রাশিয়াকে এই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার জন্য দায়ী করতে চায় এবং আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়েরের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে।
লভিভের বাসিন্দারা এই ঘটনার শোক প্রকাশ করে এবং শপিলকার পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছে। শহরের বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন শোকস্মরণী আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে, যাতে শপিলকার আত্মা শান্তি পায় এবং তার পরিবারকে সমর্থন প্রদান করা যায়।
সামগ্রিকভাবে, লভিভে সংঘটিত এই সন্ত্রাসী হামলা ইউক্রেনের নিরাপত্তা পরিস্থিতির জটিলতা ও রাশিয়ার অবৈধ হস্তক্ষেপের নতুন দিক উন্মোচন করেছে। নিরাপত্তা সংস্থা ও সরকার একত্রে কাজ করে এই ধরনের হুমকি মোকাবেলা করতে এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।



