নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সুপার ৮ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা এ শক্তিশালী পারফরম্যান্স দিয়ে ভারত একে পরাজিত করেছে। ত্রৈমাসিকের শেষ রাউন্ডে ভারত এয়ের কোচ গৌতম গ্যাম্ভীর তত্ত্বাবধানে অক্ষর প্যাটেলকে বাদ দিয়ে ওয়াশিংটন সন্দরকে অফ-স্পিনার হিসেবে বেছে নেওয়া দলীয় কৌশলকে ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
অক্ষর প্যাটেলকে বাদ দেওয়া কোনো অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত নয়; শুবমান গিলের মতো প্রধান খেলোয়াড়কেও সাম্প্রতিক সময়ে একই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়েছে। তবে এই ম্যাচে ওয়াশিংটন সন্দরকে বেছে নেওয়া বিশেষভাবে নজরে এসেছে, কারণ তার আইপিএল উপস্থিতি সীমিত ছিল।
গত সিজনে গুজরাট টাইটান্সের হয়ে ওয়াশিংটন মাত্র ১৫টি ম্যাচের মধ্যে ছয়টিতে অংশ নিয়েছিলেন, যা দলের মোট খেলায় এক তৃতীয়াংশের কম। বিশেষ করে মোহালির নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে গুজরাট টাইটান্সের সাতটি গেমের মধ্যে তিনি মাত্র তিনটি খেলেছেন। এই তথ্যগুলোকে নির্বাচন মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করা হয়নি বলে কোচিং স্টাফ স্পষ্ট করে বলেছে।
ভারত এয়ের সহকারী কোচ রায়ান টেন ডোয়েসচেটের মতে, খেলোয়াড়ের আইপিএল গেমের সংখ্যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার কোনো মানদণ্ড নয়; মূল বিষয় হল আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার পারফরম্যান্স। তিনি যোগ করেন, ওয়াশিংটনের ভারত এয়ের সঙ্গে পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ওয়াশিংটনকে বেছে নেওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা এয়ের শীর্ষ পাঁচ ব্যাটসম্যানের মধ্যে তিনজন বামহাতি হওয়া উল্লেখ করা হয়। বামহাতি ব্যাটসম্যানের বিরুদ্ধে অফ-স্পিনার ব্যবহার করা একটি প্রচলিত কৌশল, যা কোচিং স্টাফের দৃষ্টিতে যুক্তিযুক্ত মনে হয়েছিল।
ম্যাচের শেষ পর্যায়ে দক্ষিণ আফ্রিকা এয়ের ডেভিড মিলার শীর্ষে উঠে দলকে জয় এনে দেয়। মিলারের আক্রমণাত্মক খেলা ভারত এয়ের বলার জোড়াকে চ্যালেঞ্জ করে, এবং শেষ পর্যন্ত ভারত এ লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়।
ওয়াশিংটনের পারফরম্যান্স প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে; বামহাতি ব্যাটসম্যানের বিরুদ্ধে তার স্পিনের প্রভাব সীমিত ছিল এবং তিনি উল্লেখযোগ্য উইকেট নিতে পারেননি। ফলে, নির্বাচনের তাত্ত্বিক ভিত্তি মাঠে কাজ করেনি।
গ্যাম্ভীর অধীনে ভারত এ দল সাধারণত রক্ষণশীল কৌশলের পরিবর্তে সাহসী ও ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পছন্দ করে। এই ম্যাচে ঐধরনের ঝুঁকি ফলস্বরূপ ব্যয়বহুল প্রমাণিত হয়েছে, যা দলের জয় সম্ভাবনাকে ক্ষুণ্ণ করেছে।
সহকারী কোচের মন্তব্যে আবারও জোর দেওয়া হয়েছে যে, দক্ষিণ আফ্রিকা এয়ের বামহাতি ব্যাটসম্যানের উপস্থিতি নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছে। তবে মাঠে ফলাফল দেখায়, তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ সবসময় বাস্তবে কাজ করে না।
এই পরাজয় পরবর্তী ম্যাচে ভারত এয়ের নির্বাচন নীতি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। কোচিং স্টাফ এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন কৌশলগত ভুল এড়ানো যায়।



