রাজশাহী শহরে রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালবেলা ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু কোনো নিরাপত্তা প্রোটোকল ছাড়াই রিকশায় শহরের বিভিন্ন স্থানে গমন করেন। তার সঙ্গে ছিলেন দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুর রব পান্না এবং রিকশাচালক আব্দুল কুদ্দুস, যাকে তিনি বহু বছর ধরে জানেন। রিকশা চালাতে কোনো নিরাপত্তা গার্ড বা পুলিশ উপস্থিতি না থাকলেও, মিনু রাস্তায় চলমান গাড়ি ও পথচারীদের দুহাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি মেলামেশা করেন।
মিনু রিকশা থেকে বেরিয়ে পদ্মা আবাসিক এলাকার বাসা থেকে রিকশা চালু করেন এবং সরেজমিনে তার গন্তব্যস্থল মনুলাইট গার্ডেন, যেখানে তার ব্যক্তিগত অফিস অবস্থিত। রিকশা চালিয়ে তিনি সাহেব বাজারের দিকে অগ্রসর হন, পথে দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বাসিন্দাদের হাত নেড়ে স্বাগত জানান। রিকশা ব্যবহার করে তিনি বাজারের সবজি ও মুরগি বিক্রেতাদের সঙ্গে আলাপ করেন এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কৌশল বিনিময় করেন।
মিজানুর রহমান মিনু প্রথমবারের মতো সরকারি দায়িত্বে শপথ নেওয়ার পর এই সফর করেন। তিনি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র পদে নির্বাচিত হয়ে প্রায় ২৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়লাভের পর ভূমিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নির্বাচনের পর থেকে তিনি রিকশা ব্যবহার করে শহরের দৈনন্দিন কাজকর্ম চালিয়ে আসছেন; বাজার করা, অফিসে যাতায়াত, এবং নির্বাচনী প্রচারণা পর্যন্ত সবকিছুই রিকশার ওপর নির্ভরশীল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়ে রিকশা চালিয়ে নির্বাচনী সফর চালিয়েছিলেন।
আব্দুর রব পান্না, যিনি মিজানুর রহমান মিনুর সঙ্গে এক দশকেরও বেশি সময় কাজ করছেন, রিকশা ব্যবহারকে তার স্বাভাবিক কাজের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “মিজানুর রহমান আগে থেকেই রিকশা চালিয়ে বাজার থেকে শুরু করে সব কাজ করতেন। ভূমিমন্ত্রী হওয়ার পরও তিনি কোনো প্রোটোকল ছাড়াই রিকশা চালিয়ে চলেছেন।” তিনি আরও যোগ করেন, “সপ্তাহের শেষের দিন আমি তাকে সাগরপাড়া এলাকার কাঁচা বাজারে দেখতে পেয়েছি, যেখানে তিনি সবজি ও মুরগি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলছিলেন এবং তাদের সঙ্গে কৌশল শেয়ার করছিলেন।”
রিকশাচালক আব্দুল কুদ্দুসও একই মত প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, “দশ বছর ধরে আমি মিজানুরের রিকশা চালাচ্ছি। তিনি যেভাবে রিকশা ব্যবহার করে চলাফেরা করতেন, ভূমিমন্ত্রী হওয়ার পরও তেমনই চালিয়ে যাচ্ছেন। এটা দেখে আমাদেরও ভালো লাগছে।” রিকশা চালানোর এই ধারাবাহিকতা শহরের সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগের প্রতিফলন।
রাজশাহী মহানগর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি রফিকের মন্তব্যও উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও সরাসরি উদ্ধৃতি নেই। তবে মিনুর রিকশা ব্যবহার এবং প্রোটোকলবিহীন চলাচল রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে একটি নতুন ধারা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে সরকারি কর্মকর্তার দৈনন্দিন জীবনকে জনগণের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। এই পদ্ধতি ভবিষ্যতে অন্যান্য মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্যও একটি মডেল হতে পারে, বিশেষ করে নির্বাচনী পরবর্তী সময়ে জনমত গঠন ও স্থানীয় সংযোগ স্থাপনে।
মিনু রিকশা ব্যবহারকে তার রাজনৈতিক কৌশল এবং জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার উপায় হিসেবে দেখছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “এভাবে জনগণের সঙ্গে মিশে সবার সঙ্গে সম্পর্ক রেখে আমি দেশের জন্য এবং সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে পারি।” রিকশা চালিয়ে তিনি শহরের বিভিন্ন বাজারে গিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন, যা তার নীতি ও কর্মসূচির বাস্তবায়নে সহায়তা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মিনুর এই রিকশা সফর, প্রোটোকলবিহীন চলাচল এবং সরাসরি জনগণের সঙ্গে মেলামেশা, রাজশাহীর রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এটি কি অন্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের জন্যও একটি উদাহরণ হবে, নাকি এটি একক ঘটনা হিসেবে থাকবে, তা সময়ের সঙ্গে স্পষ্ট হবে। তবে বর্তমান পর্যবেক্ষণ থেকে স্পষ্ট যে, মিজানুর রহমান মিনু রিকশা ব্যবহারকে তার রাজনৈতিক পরিচয় ও জনসেবা মডেলের অংশ হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং এই পদ্ধতি তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কার্যক্রমে কী প্রভাব ফেলবে তা নজরে থাকবে।



