কিয়েভের সরকারী কমপ্লেক্সে সপ্তাহান্তে অনুষ্ঠিত সাক্ষাতে ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সামরিক পদক্ষেপকে বিশ্বযুদ্ধ‑৩ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং তা থামাতে তীব্র সামরিক‑অর্থনৈতিক চাপের প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলেছিলেন।
জেলেনস্কি উল্লেখ করেন, রাশিয়া এখনো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমি দখল করতে ব্যর্থ হলেও, তার সামরিক ব্যয় এবং মানবিক ক্ষতি বিশাল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পুতিনের দাবিগুলো—যেমন ডোনেটস্কের ২০% অঞ্চল এবং হেরসন ও জাপোরিজহিয়ার অতিরিক্ত ভূমি—কে কোনো শান্তিচুক্তির ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বের ক্ষতি করবে।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি স্পষ্ট করে বলেন, এই ধরনের জমি ত্যাগকে কেবল ভূখণ্ডের ক্ষতি নয়, বরং ইউক্রেনীয় জনগণের নিরাপত্তা ও স্বায়ত্তশাসনের ত্যাগ হিসেবে দেখতে হবে। তিনি যুক্তি দেন, এমন ‘প্রত্যাহার’ সমাজকে বিভক্ত করবে এবং লক্ষ লক্ষ নাগরিককে ঝুঁকিতে ফেলবে।
পুতিনের সামরিক অভিযানকে বিশ্বযুদ্ধ‑৩ হিসেবে চিহ্নিত করার পেছনে জেলেনস্কি যুক্তি দেন, রাশিয়া কেবল ইউক্রেনের সীমা পরিবর্তন নয়, বরং বিশ্বব্যাপী জীবনধারা ও স্বাধীনতা পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, রাশিয়ার এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া প্রয়োজন।
যদি পুতিনের শর্তে সাময়িক বিরতি নেওয়া হয়, তবে জেলেনস্কি অনুমান করেন যে রাশিয়া কয়েক বছর পরে পুনরায় আক্রমণ চালাতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, ইউরোপীয় অংশীদারদের মতে রাশিয়ার পুনর্গঠন প্রক্রিয়া তিন থেকে পাঁচ বছর সময় নিতে পারে, তবে বাস্তবে তা দুই বছরের মধ্যে সম্ভব হতে পারে।
প্রশ্ন করা হলে, জেলেনস্কি স্বীকার করেন যে পুতিনের চাহিদা সাময়িকভাবে তাকে সন্তুষ্ট করতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে তা কেবল যুদ্ধের পুনরায় সূচনা করবে। তিনি রাশিয়ার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে অনিশ্চয়তা স্বীকার করে, তবে তার ইচ্ছা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা উচ্চ বলে উল্লেখ করেন।
সাক্ষাতের সময় জেলেনস্কি প্রধানত ইউক্রেনের প্রতিরোধের দৃঢ়তা এবং আন্তর্জাতিক সমর্থনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইউক্রেনের লক্ষ্য যুদ্ধ জয় করে স্বাধীনতা ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষা করা, এবং কোনো চুক্তি যা দেশকে দুর্বল করবে তা গ্রহণ করা সম্ভব নয়।
এই বিবৃতি ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নীতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার দিকনির্দেশনা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামরিক সহায়তা, এবং যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পরিবর্তন সবই জেলেনস্কির এই অবস্থান থেকে প্রভাবিত হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, জেলেনস্কি রাশিয়ার আক্রমণকে বিশ্বযুদ্ধ‑৩ হিসেবে চিহ্নিত করে, তা থামাতে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন এবং কোনো ভূখণ্ড ত্যাগকে ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখেছেন।



