মিস্টারবিস্টের মালিকানাধীন কোম্পানি সম্প্রতি স্টেপ নামের ফিনটেক স্টার্টআপকে অধিগ্রহণ করেছে, আর একই সপ্তাহে হলিউডের বেশ কিছু স্টুডিও বাইটড্যান্সকে সিজ‑এন্ড‑ডিস্টেস্ট চিঠি পাঠিয়ে তার নতুন ভিডিও জেনারেশন মডেল Seedance 2.0-কে আইনি বাধা আরোপ করেছে। এই দুইটি স্বতন্ত্র ঘটনা স্রষ্টা অর্থনীতির দ্রুত পরিবর্তনশীল দৃশ্যপটকে উন্মোচিত করে, যেখানে জনপ্রিয় ইউটিউবাররা ব্যবসার মডেল বৈচিত্র্যকরণে ঝুঁকছে এবং জেনারেটিভ এআই টুলের উত্থান নতুন সুযোগ ও হুমকি দুটোই নিয়ে আসে।
মিস্টারবিস্টের উদাহরণে দেখা যায়, তিনি শুধুমাত্র ভিডিও কন্টেন্টের ওপর নির্ভর না করে খাবার ও মিষ্টি পণ্যের লাইন চালু করে উল্লেখযোগ্য আয় অর্জন করেছেন। ২০২৪ সালে তার চকলেটসহ খাবার পণ্যগুলো শত কোটি ডলারের বেশি রাজস্ব তৈরি করে লাভজনক অবস্থায় পৌঁছেছে, যদিও তার মিডিয়া ব্যবসা একই সময়ে ক্ষতির মুখে ছিল। এই বৈপরীত্য স্রষ্টাদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সংকেত, যে বিজ্ঞাপন আয় একা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নাও হতে পারে।
স্রষ্টা সম্প্রদায়ের মধ্যে এই প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে; বেশিরভাগ শীর্ষ ইউটিউবার এখন ই‑কমার্স, ব্র্যান্ডেড মার্চেন্ডাইজ, সাবস্ক্রিপশন সেবা এবং এমনকি ফিনটেক পণ্যেও হাত বাড়াচ্ছেন। এ ধরনের বহুমুখী আয় উৎস তাদের দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি লেনদেনের সুযোগ দেয় এবং বিজ্ঞাপন আয়ের ওপর নির্ভরতা কমায়।
এই সপ্তাহের টেকক্রাঞ্চের ইকুইটি পডকাস্টে তিনজন বিশ্লেষক স্রষ্টা অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেছেন। তারা প্রশ্ন তুলেছেন যে, স্রষ্টা বাজারের স্যাচুরেশন পয়েন্ট কোথায় পৌঁছাবে এবং সব স্রষ্টা কি পণ্য বা সেবা তৈরি করে আয় বাড়াতে পারবে। যদি না পারে, তবে সাফল্যের পুল স্বাভাবিকভাবেই সংকুচিত হবে, নাকি নতুন প্রযুক্তি বা মিডিয়া ফরম্যাটের উদ্ভবের মাধ্যমে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে, তা নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে।
জেনারেটিভ এআই টুলের দ্রুত উন্নয়ন এই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। Seedance 2.0-এর মতো মডেলগুলো স্বল্প সময়ে উচ্চমানের ভিডিও তৈরি করতে সক্ষম, যা স্রষ্টাদের উৎপাদন খরচ কমিয়ে দেয় এবং কন্টেন্টের পরিমাণ বাড়ায়। তবে একই সঙ্গে এই টুলগুলো বিদ্যমান স্রষ্টাদের জন্য প্রতিযোগিতা তীব্র করে, কারণ এখন কম দক্ষতা ও সম্পদে একই ধরনের কন্টেন্ট তৈরি করা সম্ভব।
হলিউডের স্টুডিওগুলো বাইটড্যান্সের মডেলকে কপিরাইট লঙ্ঘনের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে সিজ‑এন্ড‑ডিস্টেস্ট চিঠি পাঠিয়েছে। তারা দাবি করে যে, Seedance 2.0 বিদ্যমান চলচ্চিত্র ও টিভি দৃশ্যের অনুকরণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কন্টেন্ট তৈরি করতে পারে, যা সৃষ্টিকর্তা ও অধিকারধারীর স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এই আইনি পদক্ষেপ স্রষ্টা অর্থনীতিতে এআই টুলের ব্যবহারকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে, তা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকটিক্যাল উদাহরণ প্রদান করে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করেন, ভবিষ্যতে স্রষ্টারা শুধুমাত্র ভিডিও প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভর না করে, অডিও, গেমিং, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি এবং অন্যান্য উদীয়মান মিডিয়া ফরম্যাটে প্রবেশ করতে পারে। এআই টুলের সঙ্গে সমন্বয় করে তারা দ্রুত প্রোটোটাইপ তৈরি, ব্যক্তিগতকৃত কন্টেন্ট সরবরাহ এবং নতুন ব্যবসা মডেল গড়ে তুলতে পারবে। তবে এই পরিবর্তনশীল পরিবেশে সফলতা অর্জনের জন্য স্রষ্টাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা, ব্র্যান্ডের স্বাতন্ত্র্য এবং দর্শকের সঙ্গে গভীর সংযোগ বজায় রাখা জরুরি।
সারসংক্ষেপে, মিস্টারবিস্টের ফিনটেক অধিগ্রহণ এবং বাইটড্যান্সের AI মডেলকে হলিউডের আইনি চ্যালেঞ্জ স্রষ্টা অর্থনীতির দ্বিমুখী রূপান্তরকে প্রকাশ করে। একদিকে, বহুমুখী আয় উৎস এবং এআই টুলের ব্যবহার নতুন বৃদ্ধির পথ খুলে দিচ্ছে; অন্যদিকে, বাজারের স্যাচুরেশন এবং কপিরাইট সংক্রান্ত আইনি ঝুঁকি স্রষ্টাদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এই পরিস্থিতিতে স্রষ্টাদের কৌশলগতভাবে প্রযুক্তি গ্রহণ, ব্র্যান্ড বৈচিত্র্যকরণ এবং নতুন মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে উপস্থিতি নিশ্চিত করা ভবিষ্যৎ সফলতার মূল চাবিকাঠি হবে।



